অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন জুয়া ও অর্থপাচার চক্রের আরও ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

অনলাইন জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ কমিশন কেটে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিদেশে পাচারের অভিযোগে টাঙ্গাইলে চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাতে টাঙ্গাইল জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার (সিপিসি)।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—টাঙ্গাইল সদর উপজেলার বড় বাশালিয়ার বাবলু মিয়া (২৮), বাগীল এলাকার মো. মনির হোসেন (৩০), সখীপুরের জেলখানা মোড় এলাকার নূর সাফায়েত ইপ্তি (২৪) এবং তালেপাবাদ এলাকার শামীম আল মামুন (২৯)।

সিআইডি জানিয়েছে, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অনলাইন জুয়া সাইটে ব্যবহারের জন্য নিজেদের নামে নিবন্ধিত এজেন্ট সিম সরবরাহের সঙ্গে সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এসব সিম ব্যবহার করে অনলাইন বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কার্যক্রম পরিচালনা করা হতো বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, নিয়মিত সাইবার মনিটরিংয়ের সময় সিআইডির সাইবার পুলিশ সেন্টার দেশের অভ্যন্তর ও বিদেশ থেকে পরিচালিত বিভিন্ন অনলাইন বেটিং ও জুয়া সাইটের কার্যক্রমের তথ্য পায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন অনলাইন প্ল্যাটফর্মে এসব জুয়ার বিজ্ঞাপন প্রচারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেট, ফুটবলসহ বিভিন্ন খেলাকে কেন্দ্র করে অর্থের বিনিময়ে বেটিং এবং অনলাইন ক্যাসিনো পরিচালনার তথ্যও পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এজেন্টদের মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব ও অন্যান্য তথ্য সংগ্রহ করে সিআইডির পক্ষ থেকে গত ১৭ মে পল্টন থানায় মামলা করা হয়।

সিআইডি জানায়, মামলার তদন্তে তথ্যপ্রযুক্তি বিশ্লেষণ ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে জানা যায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা দেশের বিভিন্ন এলাকায় অনলাইন বেটিংয়ের জন্য এজেন্ট নিয়োগ করে তাদের এমএফএস ও ব্যাংক হিসাব সংগ্রহ করতেন। এসব হিসাব বেটিং সাইটে ব্যবহারের পর জুয়ার মাধ্যমে সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা কমিশন রেখে দিতেন। পরে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে ওই অর্থ বিদেশে পাচার করা হতো বলে তদন্তে তথ্য পাওয়া গেছে।

সিআইডির ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অর্থের বিনিময়ে এজেন্ট সিম সংগ্রহ করে অনলাইন জুয়া চক্রের অ্যাডমিন সদস্যদের কাছে সরবরাহ করতেন। এসব সিম মূলত অনলাইন বেটিং সাইটে অর্থ জমা ও উত্তোলনের কাজে ব্যবহৃত হতো।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের আদালতে সোপর্দ করার প্রক্রিয়া চলছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।

সিআইডি আরও জানায়, এর আগে একই মামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগে টাঙ্গাইল, নরসিংদী, নারায়ণগঞ্জ, নড়াইল ও রাজশাহীতে পৃথক অভিযান চালিয়ে আরও ১০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে মামলাটির তদন্ত করছে সাইবার পুলিশ সেন্টার। অনলাইন জুয়ার নেটওয়ার্ক, অবৈধ ই-লেনদেন, অর্থপাচার এবং এর সঙ্গে জড়িত অন্যদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।

এদিকে অনলাইন জুয়া ও বেটিং কার্যক্রম থেকে বিরত থাকার জন্য জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। একই সঙ্গে অনলাইন বেটিং বা জুয়ার নামে কোনো ব্যক্তি বা চক্রের সঙ্গে অর্থ লেনদেন না করার এবং এ ধরনের অবৈধ কার্যক্রমের তথ্য জানা থাকলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন