অনুসরণ করুন:
শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য সরকারের: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপি সরকারের লক্ষ্য ২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করা। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে দেশি-বিদেশি উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়ে তিনি সরকারকে তাদের নির্ভরযোগ্য অংশীদার হিসেবে পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (এফআইসিসিআই) আয়োজিত এফডিআই সম্মেলন ২০২৬-এ প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ‘বাংলাদেশে কর্মসংস্থান ও সমৃদ্ধির লক্ষ্যে বৈদেশিক বিনিয়োগ ত্বরান্বিতকরণ’ প্রতিপাদ্যে অনুষ্ঠিত এ সম্মেলনে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারী, নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক এবং ব্যবসায়িক নেতারা অংশ নেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের অর্থনৈতিক রূপান্তরের পরিকল্পনায় নবায়নযোগ্য জ্বালানি, ওষুধশিল্প, ইলেকট্রনিক্স, ডিজিটাল সেবা, কৃষিভিত্তিক প্রক্রিয়াজাত শিল্প, উন্নত বস্ত্রশিল্প, স্বাস্থ্যসেবা ও লজিস্টিকস খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। এসব খাতের জন্য বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা ও প্রণোদনার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশকে একটি বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে। একই সঙ্গে তৈরি পোশাকশিল্পে পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধি এবং প্রযুক্তিনির্ভর দক্ষ মানবসম্পদ গড়ে তোলার উদ্যোগও জোরদার করা হচ্ছে।

বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার এমন একটি ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে চায়, যেখানে দেশীয় ও বিদেশি উভয় বিনিয়োগকারী সমান সুযোগ ও প্রাতিষ্ঠানিক সহায়তা পাবেন। তিনি বলেন, এটি কেবল নীতিগত ঘোষণা নয়, বরং সরকারের বাস্তবায়নযোগ্য অঙ্গীকার।

তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সামনে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকলেও দ্রুত সম্প্রসারিত অভ্যন্তরীণ বাজার, তরুণ কর্মশক্তি, কৌশলগত ভৌগোলিক অবস্থান এবং রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা দেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করেছে।

প্রধানমন্ত্রী জানান, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ গড়ে তুলতে সরকার আইনি ও নিয়ন্ত্রক কাঠামো আধুনিকায়ন, বিনিয়োগ সুরক্ষা জোরদার, দ্রুত বিরোধ নিষ্পত্তি, কর ও ভ্যাট ব্যবস্থার সংস্কার এবং অর্জিত মুনাফা সহজে নিজ দেশে স্থানান্তরের সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগ নিয়েছে।

এ ছাড়া তিনি বলেন, পুঁজিবাজারকে আরও কার্যকর করা, স্টার্টআপ খাতকে উৎসাহ দেওয়া, অপ্রয়োজনীয় প্রশাসনিক জটিলতা কমানো, সরকারি সেবার ডিজিটাল রূপান্তর এবং বন্দর, লজিস্টিকস ও জ্বালানি অবকাঠামোর উন্নয়নেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বিনিয়োগকারীদের উদ্দেশে বলেন, বাংলাদেশে শুধু বিনিয়োগ নয়, দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক রূপান্তরের অংশীদার হওয়ারও এখনই উপযুক্ত সময়।

সম্মেলনে প্রায় ৬০০ দেশি-বিদেশি প্রতিনিধি অংশ নেন। অনুষ্ঠানে সরকারের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, নিয়ন্ত্রক সংস্থার প্রতিনিধি, কূটনীতিক, উন্নয়ন সহযোগী, বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের নির্বাহী, বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী নেতা এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। উদ্বোধনী বক্তব্য দেন এফআইসিসিআইর সভাপতি ও বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রুপালী হক চৌধুরী।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন