শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যানজট-ডেঙ্গু-জলাবদ্ধতা নিরসনে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ স্থানীয় সরকারমন্ত্রীর

পরিচ্ছন্নতা ও এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে নিয়মিত অভিযান • খাল খনন ও জলাবদ্ধতা নিরসনের কার্যক্রম পর্যালোচনা • দুই সিটি করপোরেশনকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ

রাজধানীর দীর্ঘদিনের যানজট, ডেঙ্গুর প্রকোপ ও জলাবদ্ধতা কমাতে দ্রুত এবং কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান।

বুধবার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সভাকক্ষে ঢাকা মহানগরীর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, ডেঙ্গু প্রতিরোধ, যানজট নিরসন, খাল খনন ও জলাবদ্ধতা দূরীকরণ এবং নিরাপদ ও টেকসই ঢাকা গড়ে তোলার কার্যক্রমের অগ্রগতি পর্যালোচনা সভায় তিনি এ নির্দেশ দেন।

সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।

ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা রাজধানীর বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় দুই সিটি করপোরেশনের চলমান কার্যক্রম ও অগ্রগতি তুলে ধরেন।

যানজটে সময় নষ্টের অর্থনৈতিক ক্ষতি

রাজধানীর যানজটের কারণে মানুষের কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তুলে ধরেন স্থানীয় সরকারমন্ত্রী।

তিনি বলেন, বড় শহরে মানুষের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। রাস্তায় দীর্ঘ সময় আটকে থাকলে মানুষের মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি এর উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক প্রভাবও পড়ে।

এ কারণে রাজধানীবাসীর চলাচল স্বাভাবিক রাখতে যানজট কমাতে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রাজধানীর যানজট নিরসনে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে। গত ২৯ আগস্ট প্রধানমন্ত্রীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের বৈঠকেও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, বাস টার্মিনাল পুনর্বিন্যাস, পার্কিং ব্যবস্থাপনা এবং অটোরিকশা চলাচলে পৃথক নীতিমালাসহ বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা ও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতায় জোর

ডেঙ্গু পরিস্থিতি মোকাবিলায় চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করার নির্দেশ দিয়ে ড. আবদুল মঈন খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী ইতোমধ্যে ডেঙ্গু প্রতিরোধে কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন এবং পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার পাশাপাশি মশার প্রজননস্থল ধ্বংস এবং সংশ্লিষ্ট কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে পরিচালনার তাগিদ দেন তিনি।

চলতি মাসে সরকার দেশব্যাপী তিন মাসব্যাপী ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান-২০২৬’ শুরু করেছে। এ কর্মসূচিতে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিচ্ছন্নতা ও ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম জোরদারের কথা বলা হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, সভায় আলোচিত সিদ্ধান্তগুলো বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রীর ডেঙ্গু প্রতিরোধ কর্মসূচির অগ্রগতি নিয়মিত পর্যালোচনা করে প্রয়োজন অনুযায়ী দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে।

এডিসের প্রজননস্থল ধ্বংসে নিয়মিত অভিযান

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, ঢাকাকে পরিচ্ছন্ন, নিরাপদ ও বাসযোগ্য নগরীতে পরিণত করতে দুই সিটি করপোরেশনের চলমান কার্যক্রম আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

তিনি ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম পরিচালনার পাশাপাশি এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল চিহ্নিত ও ধ্বংস করতে ধারাবাহিক অভিযান পরিচালনার ওপর গুরুত্ব দেন।

খাল ও জলাবদ্ধতা নিয়েও আলোচনা

সভায় রাজধানীর খাল খনন এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান কার্যক্রমও পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে পরিচ্ছন্নতা, ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ, যানজট কমানো এবং নিরাপদ ও টেকসই ঢাকা গড়ে তুলতে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের গৃহীত বিভিন্ন উদ্যোগের অগ্রগতি তুলে ধরা হয়।

দুই সিটি করপোরেশনের চলমান কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখে মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রী সন্তোষ প্রকাশ করেন। তবে রাজধানীর বিদ্যমান সমস্যাগুলো দ্রুত কমাতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়িয়ে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর জোর দেন তারা।

সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব মো. শহীদুল হাসানসহ মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন