শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গেটস ফাউন্ডেশনের সিইওর সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠক, এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা

জনস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা • সাশ্রয়ী ভ্যাকসিন ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবায় গুরুত্ব • থানা-জেলায় স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা • প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থান • এআই-সমন্বিত ডিজিটাল পাবলিক হেলথ কেয়ার সিস্টেম নিয়ে মতবিনিময়

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন গেটস ফাউন্ডেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মার্ক সুজম্যান। বৈঠকে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্যের উন্নয়ন, টিকাদান কার্যক্রম, সাশ্রয়ী মূল্যে ভ্যাকসিনের প্রাপ্যতা এবং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে আধুনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর করার বিভিন্ন পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে।

বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কের হায়াত গ্র্যান্ড সেন্ট্রাল নিউইয়র্কে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী বর্তমানে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনে যোগ দিতে নিউইয়র্কে অবস্থান করছেন।

জনস্বাস্থ্য ও শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে আলোচনা

বৈঠকে বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য খাতের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনা নিয়ে মতবিনিময় করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও মার্ক সুজম্যান।

বিশেষ করে শিশুস্বাস্থ্য, টিকাদান কর্মসূচি এবং সাধারণ মানুষের কাছে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন পৌঁছে দেওয়ার বিষয়টি আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

একই সঙ্গে রোগ হওয়ার পর চিকিৎসার পাশাপাশি প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবাকে আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজনীয়তা এবং দেশের সামগ্রিক স্বাস্থ্যব্যবস্থা আধুনিকায়নের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা হয়।

থানা ও জেলা পর্যায়ে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ

আলোচনায় দেশের স্বাস্থ্যসেবাকে আরও বিকেন্দ্রীকরণ করে থানা ও জেলা পর্যায়ে কার্যকর স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

এ উদ্যোগের লক্ষ্য হিসেবে স্থানীয় পর্যায়ে মানুষের চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং স্বাস্থ্যসেবার জন্য বড় শহরকেন্দ্রিক নির্ভরতা কমানোর বিষয়টি সামনে আসে।

স্বাস্থ্যসেবার অবকাঠামোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় জনবল তৈরি এবং প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর বিষয়েও মতবিনিময় হয়।

এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা

বৈঠকের অন্যতম আলোচ্য বিষয় ছিল বাংলাদেশে এক লাখ স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ ও প্রশিক্ষণের পরিকল্পনা।

পরিকল্পনা অনুযায়ী দক্ষ স্বাস্থ্যকর্মী তৈরির মাধ্যমে দেশের প্রাথমিক ও প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি তাদের জন্য আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরির সম্ভাবনাও আলোচনায় আসে।

প্রশিক্ষিত স্বাস্থ্যকর্মীদের বৈশ্বিক শ্রমবাজারে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হলে দেশের স্বাস্থ্য জনশক্তির দক্ষতা উন্নয়নের পাশাপাশি নতুন আন্তর্জাতিক কর্মসংস্থানের ক্ষেত্র তৈরি হতে পারে—এ বিষয়টিও আলোচনায় গুরুত্ব পায়।

স্বাস্থ্যসেবায় এআই ব্যবহারের পরিকল্পনা

বাংলাদেশে প্রযুক্তিনির্ভর স্বাস্থ্যব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও বৈঠকের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিল।

বিশেষ করে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই সমন্বিত ডিজিটাল পাবলিক হেলথ কেয়ার সিস্টেম গড়ে তোলার পরিকল্পনা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও গেটস ফাউন্ডেশনের সিইও মতবিনিময় করেন।

ডিজিটাল প্রযুক্তি ও এআই ব্যবহারের মাধ্যমে স্বাস্থ্যসেবার তথ্য ব্যবস্থাপনা, প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা এবং সেবার পরিধি বাড়ানোর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈশ্বিক স্বাস্থ্য খাতে গেটস ফাউন্ডেশনের দীর্ঘমেয়াদি কার্যক্রম

গেটস ফাউন্ডেশন দীর্ঘদিন ধরে বিশ্বজুড়ে জনস্বাস্থ্য, টিকাদান, সংক্রামক রোগ মোকাবিলা এবং মা ও শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে কাজ করছে।

ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, মার্ক সুজম্যান বর্তমানে সংস্থাটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও বোর্ড সদস্য। ২০৪৫ সালে ফাউন্ডেশনের পরিকল্পিত কার্যক্রম সমাপ্তির আগে আগামী দুই দশকে সংস্থাটি প্রায় ২০০ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনা করেছে। প্রতিরোধযোগ্য কারণে মা ও শিশুমৃত্যু কমানো এবং প্রাণঘাতী সংক্রামক রোগ মোকাবিলা এ পরিকল্পনার গুরুত্বপূর্ণ লক্ষ্য।

নিউইয়র্কে উন্নয়ন সহযোগীদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর ধারাবাহিক বৈঠক

এর আগে বুধবার সকালে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের জাতিসংঘ স্থায়ী মিশনে আন্তর্জাতিক দাতব্য ও মানবিক সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি প্রাতরাশ বৈঠকেও অংশ নেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

সেখানে গেটস ফাউন্ডেশনের পাশাপাশি ভিসা ফাউন্ডেশন, রকফেলার ফাউন্ডেশন, ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটি ও রোটারি ইন্টারন্যাশনালের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। বৈঠকে মানবিক সংকট, আন্তর্জাতিক সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন, টেকসই উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক অংশীদারত্বসহ বিভিন্ন বিষয় আলোচনায় আসে।

জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের অধিবেশন ঘিরে প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে কূটনৈতিক বৈঠকের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক উন্নয়ন ও মানবিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টিও গুরুত্ব পাচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন