শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘প্রশ্ন কবে ফিরব নয়, কীভাবে ফিরব’: ভারতীয় গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার নতুন বার্তা

ডিসেম্বরে দেশে ফেরার অঙ্গীকার • কারাবরণের জন্যও প্রস্তুত বলে দাবি • আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে সক্রিয় থাকার কথা জানালেন • বিচারপ্রক্রিয়ায় পূর্ণ আইনি সুরক্ষা চাইলেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বাংলাদেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অটল থাকার কথা জানিয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে দেশে ফেরার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে তিনি বলেছেন, এখন প্রশ্ন তিনি ফিরবেন কি না বা কবে ফিরবেন—তা নয়; বরং কীভাবে দেশে ফিরবেন, সেটিই মূল বিষয়।

ভারতের সংবাদমাধ্যম NDTV-কে টেলিফোনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) সাক্ষাৎকারটি প্রকাশের পর ভারতের আরও কয়েকটি সংবাদমাধ্যম তাঁর বক্তব্য গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করেছে।

NDTV-এর প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে ফিরলে গ্রেফতার বা কারাবরণের মতো আইনি পরিণতির মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা সম্পর্কেও শেখ হাসিনা অবগত। এরপরও তিনি দেশে ফেরার সিদ্ধান্তে অনড় থাকার কথা জানিয়েছেন।

ডিসেম্বরের মধ্যে ফেরার কথা

শেখ হাসিনা NDTV-কে জানান, ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বাংলাদেশে ফেরার অঙ্গীকার করেছেন তিনি। দেশে ফেরাকে নিজের অধিকার হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, শান্তিপূর্ণভাবে এবং আইনের কাঠামোর মধ্যেই তিনি দেশে ফিরতে চান।

ফেরার প্রক্রিয়া কী হবে, সেটি অবশ্য এখনো চূড়ান্ত হয়নি বলে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন তিনি।

বাংলাদেশ বা ভারত সরকারের সঙ্গে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কিংবা অন্য কোনো পর্যায়ে যোগাযোগ হয়েছে কি না—এমন প্রশ্নের সরাসরি উত্তরও দেননি শেখ হাসিনা। তিনি কেবল বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ও জল্পনা থাকার কথা উল্লেখ করেছেন।

কারাবরণের জন্যও প্রস্তুত

দেশে ফেরার পর সম্ভাব্য আইনি পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী।

তিনি জানান, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাওয়া এবং নিজের অবস্থানে অটল থাকার জন্য প্রয়োজন হলে কারাবরণসহ আইনি পরিণতির মুখোমুখি হতেও তিনি প্রস্তুত।

২০২৫ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশের একটি ট্রাইব্যুনালে তাঁর বিরুদ্ধে দেওয়া মৃত্যুদণ্ডের রায়ও সাক্ষাৎকারে আলোচনায় আসে।

শেখ হাসিনা ওই বিচারপ্রক্রিয়া ও রায় প্রত্যাখ্যান করেছেন এবং একে ‘রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অন্যায্য’ বলে দাবি করেছেন। একই সঙ্গে দেশে ফিরে কোনো বিচারিক প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হলে নিজের পূর্ণ আইনি অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন তিনি।

এসব বক্তব্য শেখ হাসিনার নিজস্ব দাবি। NDTV-এর সাক্ষাৎকারে তাঁর বিরুদ্ধে বিচারপ্রক্রিয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বাংলাদেশি কর্তৃপক্ষের নতুন কোনো প্রতিক্রিয়া উল্লেখ করা হয়নি।

আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনে ভূমিকা রাখতে চান

সাক্ষাৎকারে আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নিয়েও বিস্তারিত কথা বলেছেন শেখ হাসিনা।

তিনি দাবি করেন, দলের সাংগঠনিক শক্তি পুনর্গঠন এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সমর্থকদের সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিনি কাজ করছেন।

দলের পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় নিজেকে কেন্দ্রীয় ভূমিকায় দেখতে চান বলেও জানান আওয়ামী লীগ সভাপতি।

তিনি আওয়ামী লীগের ঐতিহাসিক ভূমিকার প্রসঙ্গ তুলে দলের রাজনৈতিক কার্যক্রম পুনরুজ্জীবিত করার পক্ষে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন।

উগ্রবাদ নিয়েও সতর্কবার্তা

বাংলাদেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়েও সাক্ষাৎকারে নিজের উদ্বেগের কথা জানিয়েছেন শেখ হাসিনা। তাঁর দাবি, সন্ত্রাসবাদী ও উগ্রপন্থী গোষ্ঠীগুলোর সম্ভাব্য হুমকিকে অবহেলা করা উচিত নয়।

এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় গোয়েন্দা সক্ষমতা, কার্যকর আইন প্রয়োগ এবং জনগণকে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন তিনি। একই সঙ্গে নিরাপত্তামূলক পদক্ষেপ গ্রহণের সময় নাগরিক স্বাধীনতার সঙ্গে ভারসাম্য বজায় রাখার প্রয়োজনীয়তার কথাও উল্লেখ করেন।

শেখ হাসিনার মতে, উগ্রবাদ কেবল বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয় নয়; এর আঞ্চলিক প্রভাবও রয়েছে। এ কারণে দক্ষিণ এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতার প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।

ভারতীয় গণমাধ্যমে গুরুত্ব

NDTV-তে সাক্ষাৎকার প্রকাশের পর ভারতের Moneycontrol এবং পশ্চিমবঙ্গের আনন্দবাজার পত্রিকাসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বক্তব্যকে গুরুত্ব দিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

আনন্দবাজার তাদের প্রতিবেদনে তাঁর দেশে ফেরা, সম্ভাব্য কারাবরণ, আইনি সুরক্ষার দাবি এবং আওয়ামী লীগ পুনর্গঠনের পরিকল্পনাকে বিশেষভাবে সামনে এনেছে।

এর আগে সেপ্টেম্বরের শুরুতেও আনন্দবাজারকে দেওয়া আরেক সাক্ষাৎকারে শেখ হাসিনা ডিসেম্বরে বাংলাদেশে ফেরার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। সে সময় তিনি দেশে ফেরার পর গ্রেফতার হওয়া কিংবা আরও গুরুতর নিরাপত্তাঝুঁকির আশঙ্কার কথাও বলেছিলেন।

নতুন সাক্ষাৎকারে তিনি আবারও দেশে ফেরার সিদ্ধান্তের কথা জানালেও কোন পথে, কোন তারিখে এবং কী প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশে ফিরবেন—সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি।

ফলে তাঁর সর্বশেষ বক্তব্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নতুন বার্তা হয়ে উঠেছে—দেশে ফেরার ইচ্ছার পাশাপাশি সম্ভাব্য আইনি পরিণতি মোকাবিলা এবং আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা অব্যাহত রাখার ঘোষণা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন