ডব্লিউটিওর ৫৪ পদক্ষেপের ৪৭টি বাস্তবায়ন • সিঙ্গেল উইন্ডোতে যুক্ত ১৯ সংস্থা • অক্টোবরে স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা চালুর আশা • বিমানবন্দর ও স্থলবন্দরে কোল্ড চেইন অবকাঠামো সম্প্রসারণ
নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা
আমদানি ও রপ্তানি পণ্যের চালান খালাসে সময় ও ব্যয় কমানোর পাশাপাশি দেশের লজিস্টিকস ব্যবস্থার উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত ন্যাশনাল ট্রেড ফ্যাসিলিটেশন কমিটির দশম সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, পণ্য চালান খালাসের সময় ও ব্যয় কমাতে সরকারি দপ্তরগুলোর সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি বাণিজ্য প্রক্রিয়া সহজ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে এসব উদ্যোগের সুফল ব্যবসায়ীদের কাছে কার্যকরভাবে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে সমন্বয় জরুরি।
ডব্লিউটিওর ৫৪ পদক্ষেপের ৪৭টি বাস্তবায়ন
সভায় উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির আওতায় বাংলাদেশের মোট ৫৪টি পদক্ষেপের মধ্যে ইতোমধ্যে ৪৭টি বাস্তবায়িত হয়েছে।
এর মধ্যে ক্যাটাগরি-এ’র ২১টি এবং ক্যাটাগরি-বি’র ১৮টি বাধ্যবাধকতা বাস্তবায়নের বিষয়টি ডব্লিউটিওকে জানানো হয়েছে। অন্যদিকে ক্যাটাগরি-সি’র ১৫টি পদক্ষেপের মধ্যে আটটি বাস্তবায়িত হয়েছে। অবশিষ্ট সাতটি পদক্ষেপ ২০৩০ সালের জুনের মধ্যে সম্পন্ন করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের পর আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা ধরে রাখতে বাকি কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়নের ওপর সভায় গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সিঙ্গেল উইন্ডোতে আরও ১৮ দপ্তর যুক্ত করার উদ্যোগ
বাণিজ্যসংক্রান্ত সনদ, লাইসেন্স ও পারমিটের আবেদনসহ বিভিন্ন সেবা একটি প্ল্যাটফর্মে আনতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ন্যাশনাল সিঙ্গেল উইন্ডো বাস্তবায়ন করেছে।
বর্তমানে এ ব্যবস্থায় ১৯টি সংস্থা যুক্ত রয়েছে। আরও ১৮টি দপ্তরকে এর আওতায় আনার উদ্যোগ চলছে। কার্যক্রমটি পরিচালনার জন্য পৃথক বাংলাদেশ সিঙ্গেল উইন্ডো কমিশনারেট গঠনের কাজও চলমান রয়েছে।
অক্টোবরে স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা চালুর আশা
এনবিআরের সদস্য ড. আল আমিন প্রামাণিক সভায় জানান, স্বয়ংক্রিয় ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সফটওয়্যার বা এআরএমএসের কার্যক্রম আগামী অক্টোবরের মধ্যে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
ঝুঁকি বিশ্লেষণের ভিত্তিতে পরিচালিত এ ব্যবস্থা কার্যকর হলে তুলনামূলক কম ঝুঁকির পণ্য চালান দ্রুত খালাসের সুযোগ বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।
একই সঙ্গে অথোরাইজড ইকোনমিক অপারেটর বা এইও সনদপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে এনবিআর।
বন্দরে পৌঁছানোর আগেই খালাস প্রক্রিয়া
কাস্টমস সেবা সহজ করতে পণ্য বন্দরে পৌঁছানোর আগেই খালাসের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া শুরু করার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি অনলাইন অটো-ম্যানিফেস্ট রেজিস্ট্রেশন সুবিধাও কার্যকর হয়েছে।
ব্যবসায়ীদের শুল্ক ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসংক্রান্ত প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহের জন্য চালু করা হয়েছে ন্যাশনাল ইনকোয়ারি পয়েন্ট।
পচনশীল কৃষিপণ্যের জন্য বাড়ছে কোল্ড চেইন সুবিধা
সভায় রপ্তানিমুখী পচনশীল কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও পরিবহনের অবকাঠামো উন্নয়ন নিয়েও আলোচনা হয়।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্গো ভিলেজে কোল্ড স্টোরেজ আধুনিকায়নের কাজ চলছে। বেনাপোলে নতুন কোল্ড স্টোরেজ নির্মাণের দরপত্র মূল্যায়ন শেষ হয়েছে।
এ ছাড়া মোংলায় ১৮ একর জমিতে কোল্ড স্টোরেজ ও প্রক্রিয়াজাতকরণ কারখানা স্থাপনের চুক্তি হয়েছে। চট্টগ্রামের দেওয়ানহাটে রপ্তানিমুখী কৃষিপণ্যের জন্য প্যাকিং হাউস ও কোল্ড চেইন স্থাপনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
‘এককভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে সম্ভব নয়’
বাণিজ্য সচিব মো. আতাউর রহমান খান বলেন, বাণিজ্য সহজীকরণ চুক্তির সব কার্যক্রম এককভাবে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সহযোগিতায় অবশিষ্ট কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ করার চেষ্টা চলছে।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সচিব মো. শাহরিয়ার কাদের সিদ্দিকী একই ধরনের পণ্যের ক্ষেত্রে সিদ্ধান্তের ভিন্নতা কমিয়ে আনতে অভিন্ন কার্যপদ্ধতি এবং ডিজিটাল ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
খাদ্যপণ্যের মান পরীক্ষা, পরীক্ষাগারের সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের বিষয়েও সভায় আলোচনা হয়।
সভায় বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, এনবিআর, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সভা পরিচালনা করেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডব্লিউটিও) খাদিজা নাজনীন।

