কূটনৈতিক, সরকারি ও সার্ভিস পাসপোর্টধারীরা পাবেন সুবিধা
রাজনৈতিক সংলাপ জোরদার • বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ • শিক্ষা ও মানবিক খাতে সম্পর্ক বাড়ানো নিয়ে দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আলোচনা
বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের মধ্যে সরকারি পর্যায়ে যাতায়াত সহজ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভিসা অব্যাহতি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। চুক্তির আওতায় দুই দেশের কূটনৈতিক, সরকারি ও সার্ভিস পাসপোর্টধারীরা ভিসার বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পাবেন।
জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের (UNGA81) ফাঁকে নিউইয়র্কে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান এবং আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জেইহুন বায়রামভ নিজ নিজ সরকারের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
চুক্তিটির আনুষ্ঠানিক নাম—‘Agreement between the Government of the Republic of Azerbaijan and the Government of the People’s Republic of Bangladesh on exemption of visa requirements for holders of diplomatic, official and service passports’।
আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন এই ব্যবস্থা দুই দেশের মধ্যে সরকারি পর্যায়ের যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশীদারত্বের পরিধি সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখবে।
শুধু ভিসা নয়, সম্পর্ক সম্প্রসারণেও গুরুত্ব
চুক্তি স্বাক্ষরের পর দুই পররাষ্ট্রমন্ত্রী পৃথক বৈঠকে বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করেন।
বিশেষ করে রাজনৈতিক সংলাপ আরও জোরদার, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষা ও মানবিক খাতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
দুই দেশের মধ্যে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট অংশীদারত্বের নতুন ক্ষেত্র তৈরির সম্ভাবনাও আলোচনায় উঠে আসে।
সরকারি যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার প্রত্যাশা
নতুন চুক্তির ফলে বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের সরকারি ও কূটনৈতিক পর্যায়ের প্রতিনিধিদের পারস্পরিক সফর সহজ হওয়ার পথ তৈরি হলো।
বিশেষ করে উচ্চপর্যায়ের সরকারি সফর, কূটনৈতিক যোগাযোগ এবং বিভিন্ন দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে সংশ্লিষ্ট পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসা প্রক্রিয়ার বাধ্যবাধকতা উঠে যাওয়ায় প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
তবে প্রকাশিত তথ্যে চুক্তিটি ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, একজন পাসপোর্টধারী সর্বোচ্চ কত দিন ভিসা ছাড়া অবস্থান করতে পারবেন কিংবা কার্যকরের আগে কোনো অভ্যন্তরীণ অনুমোদন প্রক্রিয়া প্রয়োজন হবে কি না—এসব বিস্তারিত এখনো উল্লেখ করা হয়নি। তাই সাধারণ বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীরা এই চুক্তির আওতায় ভিসামুক্ত সুবিধা পাচ্ছেন—এমনটি ধরে নেওয়ার সুযোগ নেই।
জাতিসংঘ অধিবেশনের ফাঁকে কূটনৈতিক তৎপরতা
চুক্তিটি এমন সময়ে স্বাক্ষর হলো, যখন নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশন ঘিরে বিভিন্ন দেশের নেতৃবৃন্দ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে ধারাবাহিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক চলছে।
বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ড. খলিলুর রহমান বর্তমানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। একই সঙ্গে তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন।
বাংলাদেশ ও আজারবাইজানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠকেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্র নিয়ে মতবিনিময় হয়েছে। প্রকাশিত তথ্যে দুই দেশের মধ্যে রাজনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি বাণিজ্য, অর্থনীতি, শিক্ষা ও মানবিক সহযোগিতাকে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক সম্প্রসারণের গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
সম্পর্কের নতুন মাত্রা
ভিসা অব্যাহতি চুক্তিটি সরাসরি সাধারণ পর্যটক বা সাধারণ পাসপোর্টধারীদের জন্য ভিসামুক্ত যাতায়াতের ব্যবস্থা না করলেও দুই দেশের রাষ্ট্রীয় ও কূটনৈতিক যোগাযোগ সহজ করার একটি প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ।
দুই দেশের কর্মকর্তাদের যাতায়াত সহজ হওয়ার পাশাপাশি নিয়মিত উচ্চপর্যায়ের যোগাযোগ বাড়লে ভবিষ্যতে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, শিক্ষা এবং অন্যান্য পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট ক্ষেত্রে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
চুক্তি স্বাক্ষরের পর আজারবাইজানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও একে সরকারি যোগাযোগ শক্তিশালী এবং দুই দেশের পারস্পরিক লাভজনক অংশীদারত্বের পরিধি বাড়ানোর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ অবদান হিসেবে উল্লেখ করেছে।

