অনুসরণ করুন:
বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

দুই মাসের মধ্যে মহাসড়ক চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত করার অঙ্গীকার হাইওয়ে পুলিশপ্রধানের

আগামী দুই মাসের মধ্যে দেশের মহাসড়কগুলোতে চাঁদাবাজি ও হয়রানি বন্ধ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে হাইওয়ে পুলিশ। বাহিনীর অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ফারুক আহমেদ বলেছেন, মহাসড়কে যানবাহন থেকে কোনো পুলিশ সদস্যের অবৈধভাবে অর্থ আদায়ের সুযোগ থাকবে না।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ অঙ্গীকারের কথা জানান। গত ৭ জুলাই হাইওয়ে পুলিশের দায়িত্ব নেওয়া ফারুক আহমেদ বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ ধরনের অনিয়ম বন্ধ করা সম্ভব হবে বলে তিনি আশাবাদী।

হাইওয়ে পুলিশপ্রধান জানান, বাহিনীর কার্যক্রমে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও দক্ষতা বাড়াতে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এর অংশ হিসেবে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশগুলো সিসিটিভি পর্যবেক্ষণের আওতায় আনা হয়েছে।

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের ১৬টি গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরা বসানো হয়েছে। ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কেও একই ধরনের নজরদারি ব্যবস্থা কার্যকর করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার মাধ্যমে হাইওয়ে পুলিশ এখন এসব সড়কের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করতে পারছে।

ঢাকা-মাওয়া মহাসড়কের ক্যামেরাগুলো সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের একটি প্রকল্পের অধীনে স্থাপন করা হয়েছে। নজরদারি ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে পরিচালনার জন্য সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে শিগগির একটি সমঝোতা স্মারক সই হতে পারে। তবে এরই মধ্যে পরীক্ষামূলকভাবে এ নেটওয়ার্কের সুবিধা নেওয়া হচ্ছে।

ফারুক আহমেদের মতে, প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি মহাসড়কে ডাকাতি, মাদক পাচার ও অন্যান্য অপরাধ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি দুর্ঘটনার পর দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ, যানজট নিয়ন্ত্রণ এবং যানবাহনের নির্বিঘ্ন চলাচল নিশ্চিত করতেও এটি সহায়ক হবে।

ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এআই নজরদারি ব্যবস্থাটি আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে। ভবিষ্যতে পর্যায়ক্রমে দেশের অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কেও এ প্রযুক্তি সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

হাইওয়ে পুলিশপ্রধান বলেন, মহাসড়কে অপরাধ দমন ও নিরাপদ যান চলাচল নিশ্চিত করা বাহিনীর প্রধান দায়িত্ব। এজন্য তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর পুলিশিং, জনসম্পৃক্ততা এবং কমিউনিটি পুলিশিং কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

বর্তমানে দেশজুড়ে ৭৩টি থানার মাধ্যমে হাইওয়ে পুলিশের কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। সেবার পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি সদস্যদের প্রশিক্ষণ ও পেশাগত দক্ষতা উন্নয়নের পরিকল্পনাও রয়েছে।

২০০৫ সালের ১১ জুন প্রতিষ্ঠিত হাইওয়ে পুলিশ বাংলাদেশ পুলিশের একটি বিশেষায়িত ইউনিট। বাহিনীটি প্রায় ১১ হাজার ৮০৬ কিলোমিটার মহাসড়কে আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ, সড়ক দুর্ঘটনা তদন্ত, ট্রাফিক আইন বাস্তবায়ন এবং যান চলাচল স্বাভাবিক রাখার দায়িত্ব পালন করছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন