অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬

সীমান্ত সুরক্ষা সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার, জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার দণ্ডপ্রাপ্ত মেজর মোজাফফরের বিচার সেনা আইনেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

ঢাকা, ২০ জুলাই ২০২৬: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে এবং দেশের সীমান্ত সুরক্ষায় সরকার সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। মিয়ানমার সীমান্তে চলমান অস্থিতিশীলতার প্রেক্ষাপটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)-এর প্রস্তাব অনুযায়ী ১০৮ কিলোমিটার সীমান্তে কাঁটাতারের বেড়া নির্মাণের প্রাথমিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। তবে এটি এখনও প্রস্তাব পর্যায়ে রয়েছে, চূড়ান্ত হয়নি। পাশাপাশি সীমান্তে ল্যান্ডমাইনের ঝুঁকি মোকাবিলায় বিজিবিকে আধুনিক মাইন ডিটেকশন যন্ত্রপাতি সরবরাহ করা হয়েছে।

সোমবার বিকেলে বিজিবি সদর দপ্তর পিলখানার আশরাফ হলে বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় ও দরবার শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা বলেন।

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম পলাতক আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনের সাম্প্রতিক গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ হত্যাকাণ্ডের মূল বিচার তৎকালীন সামরিক আদালতেই সম্পন্ন হয়েছিল এবং সেখানে সুনির্দিষ্ট রায় ও ফাইন্ডিংস রয়েছে। দীর্ঘদিন ছদ্মনামে পার্শ্ববর্তী দেশে আত্মগোপনে থাকা এই আসামিকে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে গ্রেপ্তারের পর বর্তমান সেনা আইন অনুযায়ী বিচারের জন্য সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। তিনি জানান, জেনারেল কোর্ট মার্শাল গঠনের মাধ্যমে আইনানুগভাবে বিচার সম্পন্ন হবে। একই অপরাধে একজন ব্যক্তিকে বেসামরিক ও সামরিক—দুই আইনে পৃথকভাবে বিচার করার সুযোগ নেই বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

মিয়ানমার সীমান্ত পরিস্থিতি সম্পর্কে মন্ত্রী বলেন, দেশটির সরকারি বাহিনী এবং আরাকান আর্মি, আরএসও ও আরসাসহ বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান সংঘাতের কারণে বাংলাদেশের সীমান্তে জটিল নিরাপত্তা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। সীমান্তে ছিটকে আসা গোলাগুলি এবং মাদক চোরাচালান ঠেকাতে সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারি বজায় রেখেছে। তিনি বলেন, ভারতের সীমান্ত ও মিয়ানমার সীমান্তের নিরাপত্তা বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় মিয়ানমার সীমান্তকে আরও সুরক্ষিত করা বর্তমানে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

বাংলাদেশে অবৈধ ‘পুশ-ইন’-এর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, বিজিবি ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত সতর্কতার কারণে প্রতিটি অবৈধ অনুপ্রবেশের চেষ্টা প্রতিহত করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, পশ্চিমবঙ্গ সরকারের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থেকেই এ ধরনের প্রচারণা চালানো হতে পারে। তবে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের মাধ্যমে যদি যথাযথ প্রক্রিয়ায় কোনো বৈধ বাংলাদেশি নাগরিকের তালিকা পাঠানো হয়, তাহলে জাতীয়তা যাচাই শেষে আইন অনুযায়ী তাদের দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া হবে। এর বাইরে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বরদাশত করা হবে না।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও জানান, বিজিবির সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে জনবল বৃদ্ধি, আধুনিক সরঞ্জাম ও যানবাহন সংগ্রহ, নতুন প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ এবং বিজিবি হাসপাতালের চিকিৎসাসেবার মানোন্নয়নে চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগসহ বিভিন্ন অমীমাংসিত বিষয় দ্রুত নিষ্পত্তিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন