দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নারী সমাজের সক্রিয় অংশগ্রহণের ওপর জোর দিয়েছেন ভূমি ও পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। তিনি বলেন, দেশের প্রায় অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। তাদের বাদ দিয়ে কোনোভাবেই টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব নয়। তাই নারীদের কেবল শিক্ষার আলোয় আলোকিত করাই নয়, বরং কর্মসংস্থান তৈরি ও উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তুলে স্বাবলম্বী করা এখন সময়ের দাবি।
শুক্রবার হাটহাজারী বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজ প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত পবিত্র ঈদ-ই মিলাদুন্নবী (স.) উদযাপন ও অভিভাবক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বর্তমান নির্বাচিত সরকার অনগ্রসর জনগোষ্ঠী, বিশেষ করে নারীদের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে অঙ্গীকারবদ্ধ। সেই লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচি প্রবর্তন করেছেন, যার পাইলট প্রকল্প হিসেবে হাটহাজারীকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এই উদ্যোগ নারীর আত্মকর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক স্বাধীনতা নিশ্চিতে যুগান্তকারী ভূমিকা রাখবে।
সন্তানদের মানসিক ও নৈতিক বিকাশ প্রসঙ্গে প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি শিশু দিনের বড় অংশই পরিবারের সঙ্গে কাটায়। তাই শুধু বিদ্যালয় বা শিক্ষকদের ওপর নির্ভর না করে সন্তানদের পড়ালেখা, বন্ধু নির্বাচন ও সময় কাটানোর বিষয়ে অভিভাবকদের সচেতন নজরদারি বাড়াতে হবে। বিশেষ করে ফেসবুক ও টিকটকের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত আসক্তি শিক্ষার্থীদের ভবিষ্যতে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। প্রযুক্তি জ্ঞানার্জনে সাহায্য করলেও এর অপব্যবহার রোধে অভিভাবকদের সতর্ক থাকতে হবে। প্রযুক্তির পরিবর্তে সন্তানদের সাধারণ বই পড়ার প্রতি উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীদের ওপর জোরপূর্বক কোনো কিছু চাপিয়ে না দিয়ে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলার পরামর্শ দিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সন্ধ্যার পর সন্তান কোথায় যাচ্ছে বা কার সঙ্গে মিশছে—এসব বিষয়ে পরিবারের খেয়াল রাখা জরুরি।
এ ছাড়া হাটহাজারীকে সম্পূর্ণ মাদকমুক্ত, সন্ত্রাসমুক্ত ও চাঁদাবাজিমুক্ত করার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তিনি। তিনি বলেন, এককভাবে প্রশাসনের পক্ষে সমাজ থেকে অপরাধ নির্মূল করা সম্ভব নয়। এজন্য সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ জরুরি। হাটহাজারীর প্রতিটি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রতিটি ওয়ার্ডে স্থানীয় সুশীল সমাজ, রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতৃত্ব, সাংবাদিক ও সমাজের গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ‘অপরাধ ও মাদকবিরোধী কমিটি’ গঠন করা হবে। এই কমিটি তথ্যের ভিত্তিতে প্রশাসনের সহায়তায় কার্যকর আইনি পদক্ষেপ নেবে।
এলাকার ভৌগোলিক উন্নয়নের রূপরেখা তুলে ধরে তিনি বলেন, হাটহাজারীর সুবিধা বঞ্চিত ও প্রান্তিক অঞ্চলগুলোর উন্নয়নকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। অল্পসংখ্যক মানুষ উপকৃত হলেও দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত থাকা প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করা হবে। একজন জনপ্রতিনিধি হিসেবে তিনি কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণী বা দলের নন, বরং হাটহাজারী ও বায়েজিদের সকল মানুষের প্রতিনিধি হিসেবে সবার অধিকার ও জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে কাজ করে যাবেন।
অনুষ্ঠানে হাটহাজারী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের এডহক কমিটির সভাপতি নওশীন আরজান হেলালের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন হাটহাজারী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মুহাম্মদ আবদুল্লাহ আল মুমিন, কৃতি শিক্ষার্থী ড. কানিজ ফাতেমা এবং অভিভাবক প্রতিনিধি মোহাম্মদ আব্দুল মান্নান দৌলত। স্বাগত বক্তব্য দেন প্রতিষ্ঠানের অধ্যক্ষ মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন। অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা উপস্থিত ছিলেন।

