শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

‘বাজেট শুধু সংখ্যার হিসাব নয়, এটি জবাবদিহিতা ও দক্ষতার প্রতিফলন’ — আরপিএমপি কমিশনার

বাংলাদেশ পুলিশের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও আধুনিক, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করার লক্ষ্যে রংপুরে “পুলিশ বাজেট ম্যানেজমেন্ট সিস্টেম” বিষয়ক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কর্মশালায় রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেছেন, বাজেট কেবল সংখ্যার সমষ্টি নয়; এটি একটি প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনা, দক্ষতা ও জবাবদিহিতার প্রতিফলন।

রবিবার রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের (পিটিসি) একাডেমিক ভবনে পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের ফিন্যান্স অ্যান্ড বাজেট শাখার উদ্যোগে এ কর্মশালার আয়োজন করা হয়। এতে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন ইউনিটের ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তা, প্রশাসনিক কর্মকর্তা এবং ফিন্যান্স ও বাজেট সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন।

কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার বলেন, একটি দক্ষ ও পেশাদার পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে শুধু আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় দক্ষতা অর্জনই যথেষ্ট নয়; প্রশাসনিক ও আর্থিক ব্যবস্থাপনাতেও সমান পারদর্শী হতে হবে। তিনি বলেন, “সুশাসন নিশ্চিত করার অন্যতম পূর্বশর্ত হলো সঠিক আর্থিক পরিকল্পনা ও তার কার্যকর বাস্তবায়ন।”

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি ইউনিটের বাস্তব প্রয়োজন ও কার্যক্রমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে বাজেট প্রস্তুত করতে হবে। চাহিদা নিরূপণে দায়িত্বশীলতার ঘাটতি থাকলে সুষম বরাদ্দ নিশ্চিত করা সম্ভব হয় না।

সরকারি অর্থকে জনগণের আমানত উল্লেখ করে তিনি বলেন, এর প্রতিটি পয়সা ব্যয়ের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সততা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা প্রতিটি কর্মকর্তার নৈতিক ও আইনগত দায়িত্ব। সঠিক বাজেট ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে মাঠপর্যায়ের কার্যক্রম আরও গতিশীল হয় এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি জনগণের আস্থা বৃদ্ধি পায় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সের অতিরিক্ত ডিআইজি (ফিন্যান্স অ্যান্ড বাজেট) আবু আহাম্মদ আল মামুন। সভাপতিত্ব করেন রংপুর পুলিশ ট্রেনিং সেন্টারের পুলিশ সুপার (প্রশিক্ষণ) মোঃ আবু সায়েম প্রধান।

কর্মশালায় আধুনিক আর্থিক ব্যবস্থাপনা, ডিজিটাল পদ্ধতি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া সম্পর্কে জ্ঞান অর্জনের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। পুলিশ কমিশনার বলেন, প্রশিক্ষণ ও কর্মশালার মূল উদ্দেশ্য তখনই সফল হয়, যখন অর্জিত জ্ঞান বাস্তব কর্মক্ষেত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে সক্ষম হয়।

তিনি পুলিশ সদস্যদের ড্রেস রুল কোড কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশনা দিয়ে বলেন, পোশাক, আচরণ ও দায়িত্ব পালনের মধ্য দিয়েই একটি বাহিনীর পেশাদারিত্ব প্রতিফলিত হয়। একইসঙ্গে সিভিল কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের মার্জিত পোশাক ও দায়িত্বশীল আচরণের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পুলিশ কমিশনার আরও বলেন, পুলিশের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে হলে জনবান্ধব, মানবিক ও ইতিবাচক কর্মকাণ্ডের বিকল্প নেই। তিনি সকলকে মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার প্রতিও গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান।

বক্তব্যের শেষাংশে তিনি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে বলেন, “জানার আগ্রহ বাড়াতে হবে এবং নিজেকে সবসময় জ্ঞানপিপাসু হিসেবে গড়ে তুলতে হবে।” তিনি আশা প্রকাশ করেন, এ ধরনের কর্মশালা বাংলাদেশ পুলিশের আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, কার্যকর ও জবাবদিহিমূলক করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন