সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

নাগরিক সেবায় সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি সবাইকে দায়িত্ব নিতে হবে: শেখ রবিউল আলম

রাজধানী ঢাকার সাড়ে তিন কোটি মানুষের নিরবচ্ছিন্ন নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা শুধু দুই সিটি করপোরেশনের একার পক্ষে বড় চ্যালেঞ্জ বলে মন্তব্য করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেছেন, রাজধানীকে বাসযোগ্য, স্বস্তিদায়ক ও সমৃদ্ধ নগরী হিসেবে গড়ে তুলতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি রাজনৈতিক নেতৃত্ব, ওয়ার্ড পর্যায়ের জনপ্রতিনিধি, সামাজিক সংগঠন এবং সাধারণ নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।

আজ রাজধানীর গ্রিন রোড স্টাফ কোয়ার্টারে সিটি করপোরেশন আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নির্ধারিত জনবল, দপ্তর ও বিদ্যমান সক্ষমতা দিয়ে বিপুলসংখ্যক নগরবাসীর সব ধরনের নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা কঠিন। এ বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়ে নগরীর সমস্যাগুলো চিহ্নিত করতে হবে এবং সেগুলোর কার্যকর সমাধানে সংশ্লিষ্ট সবাইকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

তিনি বলেন, রাজধানীর সার্বিক উন্নয়ন, নাগরিক স্বস্তি, সড়কে শৃঙ্খলা এবং পরিবেশের উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগের কোনো বিকল্প নেই। সব দায়িত্ব সিটি করপোরেশনের ওপর ছেড়ে দিলে প্রত্যাশিত উন্নয়ন সম্ভব হবে না। বরং নগরবাসী, রাজনৈতিক নেতৃত্ব ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে দায়িত্ব পালন করতে হবে।

মতবিনিময় সভায় রাজধানীর বিভিন্ন ওয়ার্ডের সমস্যা সুনির্দিষ্টভাবে তুলে ধরার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, প্রতিটি ওয়ার্ডের সমস্যা ও বাস্তবতা এক রকম নয়। কোথাও সড়কের অবস্থা খারাপ, কোথাও মানুষের চলাচলে প্রতিবন্ধকতা রয়েছে, আবার কোনো এলাকায় নাগরিক শৃঙ্খলা ও পরিবেশের উন্নয়ন জরুরি।

তাই সব এলাকার জন্য একই ধরনের পরিকল্পনা গ্রহণ না করে স্থানীয় পরিস্থিতি, মানুষের প্রয়োজন এবং বিদ্যমান সমস্যার ধরন বিবেচনায় নিয়ে উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করতে হবে।

শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আপনারা সত্যিকারের সমস্যাটা তুলে ধরবেন। যেটা করলে সামগ্রিক উন্নতি হয়, সামগ্রিক স্বার্থ রক্ষা হয়, সেটাই তুলে ধরবেন।’

তিনি আরও বলেন, নগরীর সমস্যাগুলো যথাযথভাবে চিহ্নিত করা গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ এবং সীমিত সম্পদের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। এ ক্ষেত্রে স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে বাস্তবসম্মত প্রস্তাব পাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রাজধানীর উন্নয়ন পরিকল্পনায় ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থের পরিবর্তে সামগ্রিক নগরস্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী। তাঁর মতে, নগরীর দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের ক্ষেত্রে জনস্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।

ফুটপাত দখল, সড়কে চলাচলের প্রতিবন্ধকতা এবং জনশৃঙ্খলার মতো সমস্যার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এসব বিষয়ে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে নগরবাসীর স্বস্তি নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, পরিবেশের উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ অবস্থা থেকে রাজধানীকে বের করে আনার লক্ষ্যে পরিকল্পিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

রাজধানীর উন্নয়ন কার্যক্রম এমনভাবে পরিচালনা করতে হবে, যাতে তা শুধু নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর সুবিধা নিশ্চিত না করে; বরং সামগ্রিকভাবে নগরবাসীর জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ভূমিকা রাখে।

সিটি করপোরেশনের প্রশাসনিক ও আর্থিক সীমাবদ্ধতার বিষয়টিও তুলে ধরেন শেখ রবিউল আলম। তিনি বলেন, দীর্ঘদিনের অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার প্রভাব কাটিয়ে উঠে রাতারাতি রাজধানীর সব সমস্যার সমাধান করা সহজ নয়।

বিশেষ করে একটি বড় শহরের ব্যবস্থাপনা পরিচালনা, নাগরিক সেবার পরিধি বাড়ানো এবং অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধানের জন্য পর্যাপ্ত প্রস্তুতি, দক্ষ জনবল ও আর্থিক সক্ষমতা প্রয়োজন।

তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে, নগর ব্যবস্থাপনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিদ্যমান সীমাবদ্ধতাগুলো বিবেচনায় নিয়ে বাস্তবভিত্তিক পরিকল্পনা গ্রহণ করা জরুরি। পাশাপাশি সিটি করপোরেশনের সক্ষমতা ও সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতা বাড়ানোর মাধ্যমে নাগরিক সেবার মান উন্নয়নের উদ্যোগ নিতে হবে।

রাজধানীর জনসংখ্যা, নাগরিক চাহিদা ও দৈনন্দিন সমস্যার ব্যাপকতা বিবেচনায় নিয়ে নগর ব্যবস্থাপনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় মতবিনিময় সভায়।

সভায় ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুস সালামসহ সংশ্লিষ্ট নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিভিন্ন ওয়ার্ডের বিদ্যমান সমস্যা তুলে ধরা এবং নাগরিক সেবার মান উন্নয়নে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণের প্রত্যাশা নিয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়।

সংশ্লিষ্টদের সমন্বিত অংশগ্রহণ, স্থানীয় সমস্যার যথাযথ চিহ্নিতকরণ এবং জনস্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণের মাধ্যমে রাজধানীর নাগরিক সেবা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

সামগ্রিকভাবে, মন্ত্রীর বক্তব্যে রাজধানীর উন্নয়ন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সিটি করপোরেশনের পাশাপাশি নগরবাসী, জনপ্রতিনিধি, রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং সামাজিক সংগঠনগুলোর যৌথ দায়িত্বের বিষয়টি গুরুত্ব পেয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন