তিন অর্থবছরে পুরো ব্যয় বহন করবে সরকার, ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্প বাস্তবায়নের লক্ষ্য
বাংলাদেশ পুলিশের কার্যক্রম পরিচালনার সক্ষমতা বাড়াতে ২ হাজার ২৮১ কোটি টাকা ব্যয়ে ১ হাজার ১টি বিশেষায়িত যানবাহন কেনার প্রস্তাব দিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। প্রস্তাবটি অনুমোদনের জন্য ইতোমধ্যে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগে পাঠানো হয়েছে। গত ১৫ অক্টোবর এ নিয়ে পরিকল্পনা কমিশনে প্রকল্প মূল্যায়ন কমিটির (পিইসি) সভা অনুষ্ঠিত হয়।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের অক্টোবর থেকে ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের প্রস্তাব করা হয়েছে। তিন অর্থবছরে প্রকল্পের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন করবে সরকার।
প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৪৪৭ কোটি ৬৬ লাখ টাকা, ২০২৭-২৮ অর্থবছরে ৯১৬ কোটি ৭৬ লাখ টাকা এবং ২০২৮-২৯ অর্থবছরে ৯১৬ কোটি ৬১ লাখ টাকা ব্যয় করা হবে।
যে ধরনের যানবাহন কেনার প্রস্তাব
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় ১১টি আর্মড পারসোনেল ক্যারিয়ার (এপিসি), ২০টি ওয়াটার ক্যানন, ২০টি ক্রাউড কন্ট্রোল ভেহিকেল, ১৫টি সোয়াট ভ্যান, ১০০টি বিশেষায়িত প্যাট্রোল কার, ১৩টি বিশেষায়িত ভ্যান, ৫৫টি প্রিজন ভ্যান ও ২০০টি মোটরসাইকেল কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে।
এ ছাড়া পুলিশের প্রশিক্ষিত কুকুর পরিবহনের জন্য ৫০টি ইউটিলিটি টেরেইন ভেহিকেল, দুর্গম এলাকায় অভিযান ও টহলের জন্য ৫০টি অল-টেরেইন ভেহিকেল এবং পাহাড়ি এলাকায় চলাচলের জন্য ১০০টি হিল মোটরসাইকেল কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
পুলিশের গোয়েন্দা কার্যক্রম ও মাঠপর্যায়ে তথ্য সংগ্রহের জন্য ছয়টি মোবাইল সার্ভিল্যান্স গাড়ি কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। পাশাপাশি উপকূলীয়, নদী ও পাহাড়ি এলাকায় দ্রুত চলাচলের জন্য ১৫টি কুইক রেসপন্স বোট বা স্পিডবোট এবং পানিতে আটকে পড়া মানুষ ও দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তিদের উদ্ধারে ১৫টি রেসকিউ বোট কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
ফ্রিজার ভ্যানসহ থাকছে আরও বিভিন্ন যান
প্রকল্পের আওতায় বিভিন্ন ইউনিটের কমান্ডারদের মাঠপর্যায়ে যাতায়াতের জন্য ১০৫টি কমান্ডারস সাব-আরবান ভেহিকেল কেনার প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া ৯৬ কোটি টাকা ব্যয়ে মরদেহ পরিবহনের জন্য ৮০টি ফ্রিজার ভ্যান, ৮০টি স্মল ডিপ্লয়মেন্ট ইউটিলিটি ভেহিকেল এবং আনুষ্ঠানিকতা ও প্রশিক্ষণের কাজে ঘোড়া পরিবহনের জন্য ১০টি বিশেষায়িত যানবাহন কেনার পরিকল্পনা রয়েছে।
এর বাইরে বিভিন্ন ধরনের আরও ৫৬টি যানবাহন কেনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
দ্রুত সাড়া ও অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা বাড়ানোর লক্ষ্য
পুলিশ সদর দপ্তরের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে জনসেবায় দ্রুত সাড়া দেওয়ার পাশাপাশি পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়বে। এতে দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ঘটবে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা বলছেন, আধুনিক ও দক্ষ পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে বিশেষায়িত যানবাহনের বিকল্প নেই। এ ধরনের যানবাহন কেনা একটি কৌশলগত পদক্ষেপ, যা আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পুলিশের কার্যক্রম আরও গতিশীল করবে।
তাঁদের মতে, জনশৃঙ্খলা রক্ষা, অপরাধ দমন ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাধারণ টহল গাড়ির তুলনায় বিশেষায়িত যানবাহন আরও দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। এসব যানবাহনের মাধ্যমে দুর্গম ও প্রত্যন্ত অঞ্চলেও পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পারবে।
এ ছাড়া অভিযানের সময় কিছু বিশেষায়িত যানবাহন ভ্রাম্যমাণ নিয়ন্ত্রণকক্ষ হিসেবে ব্যবহার করা যাবে। উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা ও প্রযুক্তির মাধ্যমে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অপরাধস্থল থেকে দ্রুত প্রমাণ ও আলামত সংগ্রহ এবং অপরাধী শনাক্তের কাজও সহজ হবে বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।
২০২০ সালের পর বিশেষায়িত যান কেনা হয়নি: পুলিশ কর্মকর্তা
এ বিষয়ে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক (উন্নয়ন) সরদার নুরুল আমিন দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, ২০২০ সালের পর থেকে পুলিশের জন্য বিশেষায়িত যানবাহন কেনা হয়নি। অথচ জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন, দাঙ্গা নিয়ন্ত্রণ ও নিয়মিত অভিযান পরিচালনায় এসব যানবাহনের প্রয়োজন হয়।
তিনি বলেন, ‘আগে যেসব যানবাহন কেনা হয়েছে, সেগুলোর প্রতিটির বয়স ১০ থেকে ১৫ বছরের বেশি। সাধারণত একটি গাড়ির আয়ুষ্কাল ৮ থেকে ১০ বছর। আমাদের সব যানবাহনই পুরোনো হয়ে গেছে। এ ছাড়া চব্বিশের গণ-অভ্যুত্থানের সময় পুলিশের অনেক যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’
সরদার নুরুল আমিন আরও বলেন, ‘তাই পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে সরকার এ উদ্যোগ নিয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন ও বাস্তবায়িত হলে পুলিশের সক্ষমতা অনেক বাড়বে।

