মাদক পাচার ও অপব্যবহার রোধে ‘জিরো টলারেন্স’ বা শূন্য সহনশীলতা নীতির আওতায় আইন প্রয়োগ, নজরদারি ও অপরাধ তদন্ত কার্যক্রম জোরদার করেছে সরকার। তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখতে কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি আইনি সংস্কার, আধুনিক শনাক্তকরণ প্রযুক্তির ব্যবহার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসনসেবা সম্প্রসারণ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রতিরোধমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সরকারের এই সমন্বিত কৌশলের আওতায় অনলাইন ও ডিজিটাল মাধ্যমে মাদক পাচার প্রতিরোধ, মাদক ব্যবসার অর্থে অর্জিত অবৈধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) প্রয়োগক্ষমতা বৃদ্ধি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে আন্তঃসীমান্ত পাচার নেটওয়ার্ক, অপরাধের অর্থদাতা, বড় কারবারি ও নেপথ্যের পরিকল্পনাকারীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগে মোট ৪৪ হাজার ২৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাঁদের মধ্যে মাদক বিক্রি ও পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হয়েছেন ৩০ হাজার ১৮৭ জন, যা মোট গ্রেপ্তারের প্রায় ৬৮ দশমিক ২ শতাংশ। সংশ্লিষ্ট সময়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে মাদক-সংশ্লিষ্ট অভিযোগের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি এই পরিসংখ্যানে উঠে এসেছে।
মাদকবিরোধী কার্যক্রম জোরদারের অংশ হিসেবে সরকার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ সংশোধন করে ‘মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ প্রণয়ন করেছে বলে সরবরাহ করা তথ্যে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশোধিত আইনে অনলাইন মাদক পাচার, সংঘবদ্ধ অপরাধ এবং ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত নির্দিষ্ট কিছু মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে।
তথ্য অনুযায়ী, অনলাইনে মাদক পাচারের দায়ে সর্বোচ্চ ২০ লাখ টাকা জরিমানা ও কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। এ ছাড়া সংঘবদ্ধ অপরাধ কিংবা আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ডিজিটাল মাধ্যমে সংঘটিত নির্দিষ্ট কিছু মাদক অপরাধের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা জরিমানার ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
নির্দিষ্ট কিছু গুরুতর মাদক-সংশ্লিষ্ট অপরাধের জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা মৃত্যুদণ্ডের বিধান এবং অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার সুযোগও রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব ব্যবস্থার মাধ্যমে মাদক ব্যবসার আর্থিক ভিত্তি দুর্বল করা এবং অপরাধলব্ধ সম্পদের ব্যবহার বন্ধ করার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি ডিএনসির প্রয়োগক্ষমতা বাড়ানো এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বিশেষ ট্রাইব্যুনাল গঠনের ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে। তবে সংশোধিত আইনের নির্দিষ্ট ধারা, শাস্তির প্রয়োগক্ষেত্র এবং ট্রাইব্যুনাল গঠনের বাস্তব অবস্থা সরকারি গেজেট ও সংশ্লিষ্ট নথি থেকে নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, মাদক পাচার নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়া এবং এর মূল পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও বড় কারবারিদের বিচারের আওতায় আনতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মাদকবিরোধী অভিযান শুধু খুচরা বিক্রেতা ও বাহকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং পাচারব্যবস্থার নেপথ্যে থাকা ব্যক্তিদের শনাক্ত করে পুরো নেটওয়ার্ক ভেঙে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, মাদক ব্যবসার অর্থ দিয়ে অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে নতুন আইনে কঠোর বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সরকারের এই কৌশলে মাদক জব্দ ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি অপরাধের অর্থের উৎস শনাক্ত করা, সন্দেহজনক আর্থিক লেনদেন অনুসরণ এবং মাদক ব্যবসায় আর্থিক পৃষ্ঠপোষকতা দেওয়া ব্যক্তিদের চিহ্নিত করার ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে আন্তঃসীমান্ত পাচার নেটওয়ার্ক এবং সংঘবদ্ধ অপরাধী চক্রের বিরুদ্ধে সমন্বিত ব্যবস্থা নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে।
মাদক পাচারকারী গোষ্ঠীগুলো তরুণদের লক্ষ্যবস্তু করতে এবং অবৈধ কার্যক্রম সমন্বয়ে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও এনক্রিপ্টেড যোগাযোগব্যবস্থার ব্যবহার বাড়াচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, মাদক-সংশ্লিষ্ট আর্থিক অপরাধে বেনামি সিমকার্ড, একবার ব্যবহারযোগ্য পাসওয়ার্ড (ওটিপি), হোয়াটসঅ্যাপ এবং মোবাইল আর্থিক সেবা (এমএফএস) ব্যবহারের প্রবণতা বাড়ছে।
এ পরিস্থিতিতে সন্দেহজনক লেনদেন ও অর্থ পাচার শনাক্ত করতে জাতীয় টেলিযোগাযোগ পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের (এনটিএমসি) কারিগরি পরামর্শে আইনি কাঠামো আরও শক্তিশালী করার কাজ চলছে।
ডিজিটাল যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেনের সূত্র ধরে অপরাধী চক্রের কার্যক্রম শনাক্ত করা গেলে পাচারের পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ বাড়তে পারে। তবে এসব কার্যক্রমে আইনসম্মত নজরদারি, তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা এবং আদালতে গ্রহণযোগ্য প্রমাণ সংগ্রহ নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ।
২০২৬ সালের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দেশব্যাপী বিশেষ অভিযানে মাদক-সংশ্লিষ্ট অভিযোগের উল্লেখযোগ্য চিত্র উঠে এসেছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই তিন মাসে মাদক পাচার, অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র, ডাকাতি, চাঁদাবাজি, সন্ত্রাসবাদ, কিশোর গ্যাংয়ের তৎপরতা এবং অন্যান্য অভিযোগে মোট ৪৪ হাজার ২৮৮ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এর মধ্যে মাদক বিক্রি ও পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ৩০ হাজার ১৮৭ জন। অর্থাৎ, মোট গ্রেপ্তারের প্রায় ৬৮ দশমিক ২ শতাংশই ছিল মাদক-সংশ্লিষ্ট অভিযোগে।
মহানগর পর্যায়েও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক গ্রেপ্তারের তথ্য রয়েছে। ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) ওই সময়ে মোট ৬ হাজার ২৮৯ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মধ্যে মাদক বিক্রি ও পাচারের অভিযোগে গ্রেপ্তার হন ৪ হাজার ২৫১ জন।
অন্যদিকে, চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশ (সিএমপি) মোট ২ হাজার ৪৩৭ জনকে গ্রেপ্তার করে। তাঁদের মধ্যে ৮০৮ জন মাদক-সংশ্লিষ্ট মামলায় গ্রেপ্তার হন।
এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে মাদক অপরাধ দমনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও ডিএনসির সমন্বিত অভিযান অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তবে গ্রেপ্তারের সংখ্যা অপরাধের চূড়ান্ত প্রমাণ নয়; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি পৃথক বিষয়।
মাদক কারবারের ধরন ক্রমেই জটিল হয়ে ওঠায় শনাক্তকরণ ও তদন্তে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ডিএনসির সক্ষমতা জোরদার করতে উন্নত সরঞ্জাম, প্রশিক্ষিত মাদক শনাক্তকারী কুকুরের দল বা ডগ স্কোয়াড, উন্নত পরীক্ষাগার এবং আটক আসামিদের জন্য উন্নত আটককেন্দ্রের ব্যবস্থা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।
রাসায়নিক পরীক্ষার নির্ভুলতা ও নির্ভরযোগ্যতা বাড়ানো এবং পরীক্ষায় জালিয়াতি প্রতিরোধে দেশের প্রতিটি জেলায় উন্নত রাসায়নিক পরীক্ষাগার স্থাপনের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে।
মাদক শনাক্তকরণে রাসায়নিক পরীক্ষার ফলাফল গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। কোনো নমুনায় কী ধরনের মাদক রয়েছে, তা নির্ভুলভাবে নির্ধারণ করা তদন্ত, অভিযোগ গঠন এবং আদালতে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য প্রয়োজনীয়। এ কারণে উন্নত যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত জনবল এবং নমুনা সংগ্রহ ও সংরক্ষণের যথাযথ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করার প্রয়োজন রয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ঢাকার উত্তরা এলাকায় কেটামিন উৎপাদনের একটি পরীক্ষাগার শনাক্তের ঘটনাকে অপরাধী গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান জটিল কৌশল ব্যবহারের উদাহরণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। কেটামিন চিকিৎসাক্ষেত্রে ব্যবহৃত একটি অবেদনকারী ওষুধ; এর অনিয়ন্ত্রিত ব্যবহার ও অপব্যবহারে স্বাস্থ্যঝুঁকি রয়েছে।
এ ছাড়া সিনথেটিক, সেমি-সিনথেটিক মাদক এবং নতুন ধরনের সাইকোঅ্যাকটিভ পদার্থের বিস্তার মাদক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকে আরও জটিল করে তুলছে। এসব পদার্থ শনাক্ত ও তদন্তে বিশেষায়িত প্রযুক্তি, উন্নত পরীক্ষাগার এবং দক্ষ জনবলের প্রয়োজনীয়তা বাড়ছে।
মাদক পাচার ও সংশ্লিষ্ট অপরাধ মোকাবিলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি), কোস্ট গার্ড, স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) ও পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টার প্রশংসা করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
কঠোর আইন প্রয়োগের পাশাপাশি মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ওপরও গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার। মাদকাসক্তিকে গুরুতর জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে বিবেচনা করে চিকিৎসাসেবার সুযোগ বাড়ানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের স্বাভাবিক ও উৎপাদনশীল জীবনে ফিরিয়ে আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের শুধু অপরাধী হিসেবে না দেখে চিকিৎসা ও সহায়তার মাধ্যমে সুস্থ হয়ে ওঠার প্রয়োজন রয়েছে—এমন রোগী হিসেবে বিবেচনা করা উচিত।
সরবরাহ করা তথ্য অনুযায়ী, সরকার ১ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের সাতটি বিভাগীয় শহরে ২০০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক মাদকাসক্তি নিরাময় ও পুনর্বাসনকেন্দ্র নির্মাণ শুরু করেছে। পাশাপাশি ঢাকার কেন্দ্রীয় মাদকাসক্তি নিরাময় কেন্দ্রের শয্যাসংখ্যা ২৫০টিতে উন্নীত করা এবং দেশের অন্যান্য স্থানে চিকিৎসাসুবিধা সম্প্রসারণের কাজ চলছে।
এসব উদ্যোগের লক্ষ্য হলো চিকিৎসাসেবা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানো, মাদকাসক্তির সামাজিক ক্ষতি কমানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিদের পুনরায় স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে সহায়তা করা।
দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা, পরিবারভিত্তিক সহায়তা, চিকিৎসা-পরবর্তী পর্যবেক্ষণ এবং সামাজিক পুনঃএকীভূতকরণের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ, মাদক গ্রহণ বন্ধ করার পাশাপাশি পুনরায় মাদক গ্রহণের ঝুঁকি কমানো এবং আক্রান্ত ব্যক্তিকে পরিবার ও সমাজের সঙ্গে যুক্ত রাখাও পুনর্বাসনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তরুণদের মাদক অপব্যবহার থেকে দূরে রাখতে দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে মাদক ও জুয়া প্রতিরোধে কমিটি গঠনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপদ ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের মাদক ও জুয়াসংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ড থেকে সুরক্ষিত রাখাই এ উদ্যোগের উদ্দেশ্য।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানভিত্তিক প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো, ঝুঁকিপূর্ণ আচরণ শনাক্ত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা ও চিকিৎসাসেবার সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
মাদকবিরোধী বৃহত্তর সামাজিক আন্দোলনে পরিবার, শিক্ষক, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় নেতা, নাগরিক সমাজের সংগঠন, বেসরকারি সংস্থা ও স্বেচ্ছাসেবীদের সম্পৃক্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
তিনি বলেন, সম্মিলিত উদ্যোগ ছাড়া কোনো একক দেশ, সংস্থা বা সংগঠনের পক্ষে মাদকের ভয়াবহতা নির্মূল করা সম্ভব নয়।
সরকারের ঘোষিত পরিকল্পনায় মাদক পাচারকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইন প্রয়োগ, অপরাধলব্ধ সম্পদ বাজেয়াপ্ত, ডিজিটাল নজরদারি, আধুনিক তদন্ত সরঞ্জাম, উন্নত রাসায়নিক পরীক্ষাগার, চিকিৎসা ও পুনর্বাসন এবং জনসচেতনতামূলক কার্যক্রমকে সমন্বিত করা হয়েছে।
তবে এসব উদ্যোগের কার্যকারিতা নির্ভর করবে আইনের যথাযথ প্রয়োগ, তদন্তের মান, বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়, প্রযুক্তিগত সক্ষমতা এবং চিকিৎসাসেবার বাস্তব প্রাপ্যতার ওপর। বিশেষ করে মাদক পাচারের মূল পরিকল্পনাকারী ও অর্থদাতাদের শনাক্ত করা, আন্তঃসীমান্ত পাচার প্রতিরোধ এবং অপরাধের আর্থিক ভিত্তি দুর্বল করার ক্ষেত্রে ধারাবাহিক অগ্রগতি গুরুত্বপূর্ণ হবে।
একই সঙ্গে মাদকাসক্ত ব্যক্তিদের চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করা, তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ানো এবং পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে প্রতিরোধমূলক কার্যক্রমে সম্পৃক্ত করা দীর্ঘমেয়াদি মাদক নিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
সব মিলিয়ে, সরকারের ‘জিরো টলারেন্স’ নীতির আওতায় মাদক জব্দ ও গ্রেপ্তারের পাশাপাশি পাচার নেটওয়ার্ক, অর্থায়ন ও সরবরাহব্যবস্থাকে মোকাবিলা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে চিকিৎসা, পুনর্বাসন ও সামাজিক সচেতনতামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে তরুণ ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে সুরক্ষিত রাখার একটি সমন্বিত ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

