মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

স্থলমাইন বিস্ফোরণ: দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে ঘটনা সাজানোর অভিযোগ উত্তর কোরিয়ার

স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হওয়ার ঘটনায় সিউলের বিরুদ্ধে ঘটনা সাজানোর অভিযোগ তুলে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে চিঠি পাঠিয়েছে উত্তর কোরিয়া। সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের উত্তর কোরীয় কার্যক্রমকে সামরিক আগ্রাসন হিসেবে তুলে ধরতেই দক্ষিণ কোরিয়া এ ঘটনা সাজিয়েছে বলে দাবি করেছে পিয়ংইয়ং।

সোমবার উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তা সংস্থা এএফপির প্রতিবেদনে এ কথা বলা হয়েছে।

দুই কোরিয়ার মধ্যবর্তী কঠোর নিরাপত্তাবেষ্টিত অসামরিকীকৃত অঞ্চল (ডিএমজেড) এলাকায় গত মাসে ওই স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। দক্ষিণ কোরিয়া এ ঘটনার জন্য উত্তর কোরিয়ার পুঁতে রাখা স্থলমাইনকে দায়ী করলেও অভিযোগটি জোরালোভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে পিয়ংইয়ং। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই দেশের মধ্যে চলমান উত্তেজনা আরও বেড়েছে।

উত্তর কোরিয়ার জাতিসংঘের স্থায়ী প্রতিনিধি রোববার নিরাপত্তা পরিষদে চিঠিটি পাঠান। দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা কোরিয়ান সেন্ট্রাল নিউজ এজেন্সি (কেসিএনএ) প্রকাশিত ওই চিঠিতে দক্ষিণ কোরিয়ার বিরুদ্ধে সন্দেহজনক মাইন বিস্ফোরণের দায় ভিত্তিহীনভাবে অন্যের ওপর চাপানোর অভিযোগ তোলা হয়েছে।

চিঠিতে উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, দক্ষিণ কোরিয়া পরিকল্পিতভাবে ঘটনাটি সাজিয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো সীমান্তে উত্তর কোরিয়ার নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের কার্যক্রমকে ‘সামরিক আগ্রাসন’ হিসেবে চিত্রিত করা এবং ওই কার্যক্রম বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্ত করা।

কেসিএনএর প্রকাশিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, কোরীয় উপদ্বীপে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার দায় এড়াতেই এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ‘নাটক’ সাজানো হয়েছে বলে মনে করে পিয়ংইয়ং।

চিঠিতে উত্তর কোরিয়া সীমান্তে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদারের চলমান কার্যক্রমকে জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে দাবি করেছে। একই সঙ্গে এ কার্যক্রম দেশটির সার্বভৌমত্বের বৈধ ও ন্যায়সংগত প্রয়োগ বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।

এ ছাড়া সীমান্তে ওই কাজে নিয়োজিত উত্তর কোরীয় সেনাদের লক্ষ্য করে দক্ষিণ কোরিয়ার সতর্কতামূলক গুলিবর্ষণের সমালোচনা করেছে পিয়ংইয়ং।

কেসিএনএর প্রকাশিত বক্তব্যে বলা হয়, দক্ষিণ কোরিয়ার এ ধরনের কর্মকাণ্ড জাতিসংঘ সনদের ২ নম্বর অনুচ্ছেদের ৪ নম্বর ধারার ‘নির্লজ্জ লঙ্ঘন’। ওই ধারায় আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোনো রাষ্ট্রের ভৌগোলিক অখণ্ডতা বা রাজনৈতিক স্বাধীনতার বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ কিংবা শক্তি প্রয়োগের হুমকি থেকে বিরত থাকার বাধ্যবাধকতা রয়েছে।

অন্যদিকে, এর আগে গত সপ্তাহে দক্ষিণ কোরিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সভাপতির কাছে একটি চিঠি পাঠায়। ওই চিঠিতে স্থলমাইন বিস্ফোরণের জন্য উত্তর কোরিয়াকে দায়ী করে ঘটনাটিকে ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

দুই দেশের পাল্টাপাল্টি অভিযোগের মধ্যে স্থলমাইন বিস্ফোরণের ঘটনাটি নতুন করে কোরীয় উপদ্বীপের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ তৈরি করেছে। তবে ঘটনাটি নিয়ে দুই পক্ষের পরস্পরবিরোধী বক্তব্যের বাইরে স্বাধীনভাবে যাচাই করা কোনো তথ্য এই প্রতিবেদনে উল্লেখ নেই।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন