মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

লিবিয়া থেকে দেশে ফিরলেন ১৭৪ বাংলাদেশি, অসুস্থ ৪১ জন

দূতাবাস ও আইওএমের যৌথ উদ্যোগে প্রত্যাবাসন; বুধবার ফিরছেন আরও ১৭৫ জন

লিবিয়ায় আটকে পড়া ১৭৪ জন বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে। লিবিয়ায় বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার (আইওএম) যৌথ উদ্যোগে মানবিক সহায়তার আওতায় তাঁদের প্রত্যাবাসন করা হয়।

মঙ্গলবার সকালে লিবিয়ার বেসরকারি বিমান সংস্থা বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন তাঁরা। লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সাগরপথে ইউরোপযাত্রায় আটক ছিলেন ৩৬ জন

দূতাবাসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, দেশে ফেরা ১৭৪ জনের মধ্যে ৩৬ জন সাগরপথে ইউরোপে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় আটক হয়েছিলেন। পরে তাঁদের ত্রিপোলির তাজুরা ডিটেনশন সেন্টারে বন্দি রাখা হয়।

অন্য ১৩৮ জন ত্রিপোলির ঝুঁকিপূর্ণ ও অনিশ্চিত পরিবেশ থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরেছেন। প্রত্যাবাসিত ব্যক্তিদের মধ্যে ৪১ জন শারীরিকভাবে অসুস্থ বলে জানা গেছে।

ফেরার অপেক্ষায় থাকা নাগরিকদের সঙ্গে রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ

প্রত্যাবাসনের আগে ত্রিপোলিতে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস প্রাঙ্গণে দেশে ফেরার অপেক্ষায় থাকা নাগরিকদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মেজর জেনারেল মো. হাবীব উল্লাহ। এ সময় দূতাবাসের শ্রম কাউন্সেলর ও প্রথম শ্রম সচিব উপস্থিত ছিলেন।

দূতাবাস জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় আগামীকাল বুধবার মিসরাতা শহর থেকে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরতে ইচ্ছুক আরও ১৭৫ জন বাংলাদেশিকে একই মানবিক সহায়তার আওতায় ফিরিয়ে আনার প্রক্রিয়া চূড়ান্ত করা হয়েছে।

অবৈধ পথে বিদেশযাত্রার ঝুঁকি সম্পর্কে সতর্কতা

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত অনিয়মিত ও অবৈধ অভিবাসনের ঝুঁকি এবং এর পরিণতি সম্পর্কে বাংলাদেশিদের সতর্ক করেন।

তিনি বলেন, “অবৈধ পথে বিদেশ গমনের ফলে চরম শারীরিক, মানসিক ও আর্থিক ক্ষতির শিকার হতে হয়, যা ব্যক্তি ছাড়াও তার পরিবার ও পুরো সমাজের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে।”

রাষ্ট্রদূত দেশে ফেরা নাগরিকদের নতুন উদ্যমে কাজ শুরু করার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে বিদেশে যাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি পথ অনুসরণের পরামর্শ দেন।

মানবপাচারকারী ও দালাল চক্রের বিরুদ্ধে সচেতনতার আহ্বান

অবৈধ অভিবাসন প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় জনসচেতনতা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত। পাশাপাশি মানবপাচারকারী ও দালাল চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে তথ্য দিয়ে সহায়তা করার অনুরোধ জানান তিনি।

দূতাবাস ও আইওএমের এ উদ্যোগের মাধ্যমে লিবিয়ায় ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে থাকা বাংলাদেশিদের নিরাপদে দেশে ফেরানোর প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে। বুধবার আরও ১৭৫ জনকে ফিরিয়ে আনার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে প্রত্যাবাসনের এ কার্যক্রমে নতুন করে অগ্রগতি হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন