মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

তৃতীয় ব্যালন ডি’অর জিতে পুতেয়াসের প্রত্যাবর্তনের গল্প, নতুন অধ্যায় লন্ডনে

গুরুতর চোট কাটিয়ে আবারও বিশ্বসেরার স্বীকৃতি স্পেনের তারকার; বার্সেলোনা ছেড়ে লন্ডন সিটিতে নতুন চ্যালেঞ্জে ৩২ বছর বয়সী পুতেয়াস।

নিজের নতুন শহর লন্ডনে সোমবার তৃতীয়বারের মতো ব্যালন ডি’অর জিতেছেন স্পেনের তারকা ফুটবলার আলেক্সিয়া পুতেয়াস। ক্যারিয়ারের সেরা সময়ে গুরুতর চোটে দীর্ঘদিন মাঠের বাইরে থাকার পর নারী ফুটবলের শীর্ষে তাঁর প্রত্যাবর্তনকে স্বীকৃতি দিল এই পুরস্কার। বার্সেলোনার হয়ে সাফল্যের পর এবার নতুন ক্লাব লন্ডন সিটিতে নিজের অভিজ্ঞতা ও জয়ের মানসিকতা ছড়িয়ে দেওয়ার চ্যালেঞ্জ নিয়েছেন ৩২ বছর বয়সী এই মিডফিল্ডার।

চোটে থেমেছিল অগ্রযাত্রা

বার্সেলোনার সৃজনশীল প্রাণভোমরা হিসেবে ২০২১ ও ২০২২ সালে টানা দুইবার ব্যালন ডি’অর জিতেছিলেন পুতেয়াস। তখন তাঁকে নারী ফুটবলের অন্যতম সেরা খেলোয়াড় হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল। কিন্তু ২০২২ সালের ইউরো জয়ের লক্ষ্যে স্পেনের প্রস্তুতির সময় লিগামেন্টে গুরুতর চোট পান তিনি। এতে তাঁর ক্যারিয়ারের অগ্রযাত্রা বড় ধাক্কা খায়।

চোট কাটিয়ে ২০২৩ সালে স্পেনের বিশ্বকাপ জয়ে ভূমিকা রাখলেও আগের মতো নিয়মিত প্রভাব বিস্তার করতে পারেননি পুতেয়াস। ক্লাব ও জাতীয় দল—দুই পর্যায়েই সতীর্থ আইতানা বোনমাতির আড়ালে পড়ে যান তিনি। নিজের সেরা ছন্দে ফিরতে তাঁর প্রায় দুই বছর সময় লাগে।

গত মাসে বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে পুতেয়াস বলেন, চোটে পড়ার পর থেকে তিনি প্রতিটি মুহূর্ত এমনভাবে উপভোগ করার চেষ্টা করেন, যেন সেটিই তাঁর শেষ মুহূর্ত। কারণ, একই ধরনের ঘটনা আবার ঘটবে কি না, তা কেউ জানেন না।

বোনমাতির চোট, আবারও পুতেয়াসের সামনে সুযোগ

২০২৩ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার ব্যালন ডি’অর জিতে নারী ফুটবলে নিজের অবস্থান আরও শক্ত করেন আইতানা বোনমাতি। তবে পায়ের হাড় ভেঙে যাওয়ায় তিনিও মাঠের বাইরে চলে যান। এতে আবারও পুতেয়াসের ওপর প্রত্যাশা বাড়ে।

সেই চাপ সামলে গত মৌসুমে বার্সেলোনাকে চ্যাম্পিয়নস লিগের শিরোপা পুনরুদ্ধারে গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা করেন তিনি। দীর্ঘ বিরতির পর নিজের পারফরম্যান্সে ধারাবাহিকতা ফিরিয়ে এনে আবারও বিশ্বসেরার স্বীকৃতি পেলেন এই স্প্যানিশ তারকা।

পুতেয়াস বলেন, তিনি কখনোই ব্যালন ডি’অরকে একান্ত নিজের বলে মনে করেননি। আগে দুবার এই পুরস্কার জয়ের অভিজ্ঞতা থাকায় এবার তিনি আরও বেশি আনন্দ নিয়ে মুহূর্তটি উপভোগ করতে পারছেন।

বার্সেলোনা ছেড়ে লন্ডন সিটিতে নতুন চ্যালেঞ্জ

কাতালোনিয়ার ক্লাব বার্সেলোনার হয়ে সম্ভাব্য প্রায় সব সাফল্য অর্জনের পর নতুন অভিযানে নেমেছেন পুতেয়াস। তিনি যোগ দিয়েছেন লন্ডন সিটিতে। মার্কিন ব্যবসায়ী মিশেল ক্যাংয়ের মালিকানাধীন লন্ডন সিটি লায়নেসেস ইংল্যান্ডের শীর্ষ নারী ফুটবল লিগে নিজেদের অবস্থান প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। ক্লাবটি দেশটির প্রচলিত ফুটবল কাঠামোর বাইরে থাকা একটি স্বাধীন দল হিসেবে পরিচিত।

নতুন ক্লাবে যোগ দেওয়াকে নিজের জীবনে বড় পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন পুতেয়াস। তাঁর ভাষায়, নতুন দেশ, শহর ও সংস্কৃতির সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং নতুন ভাষা শেখা—সবকিছুই প্রতিদিনের শেখার অংশ।

তিনি বলেন, বার্সেলোনায় তাঁর অধ্যায় শেষ করার সময় এমন কিছু প্রয়োজন ছিল, যা আগের অভিজ্ঞতার পুনরাবৃত্তি নয়। নতুন পরিবেশে কাজ করার সুযোগই তাঁকে লন্ডনে আসতে উৎসাহিত করেছে।

পুতেয়াসের মতে, লন্ডন সিটি এমন একটি ক্লাব, যেখানে এখনো অনেক কিছু গড়ে তোলার বাকি। তাই নিজের অর্জিত অভিজ্ঞতা, জয়ের সংস্কৃতি ও মানসিকতা নতুন দলের মধ্যে ছড়িয়ে দিতে চান তিনি।

ইংলিশ লিগে ইতিবাচক প্রভাব

ইংলিশ নারী সুপার লিগে ইতোমধ্যেই পুতেয়াসের প্রভাব দেখা যাচ্ছে। পয়েন্ট তালিকায় লন্ডন সিটি রয়েছে চেলসি ও ম্যানচেস্টার সিটির ঠিক পেছনে এবং ঐতিহ্যবাহী শক্তি আর্সেনালের ওপরে।

নতুন দলের হয়ে তাঁর পারফরম্যান্স শুধু ক্লাবের জন্য নয়, স্পেনের জাতীয় দলের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। আগামী বছর বিশ্বকাপের শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্যে স্পেনের পরিকল্পনায় পুতেয়াসের অভিজ্ঞতা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

চলতি মৌসুমে ইউরোপীয় প্রতিযোগিতায় না খেলায় তাঁর ম্যাচের চাপ তুলনামূলক কম থাকবে। দলবদলের সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় বিষয়টি বিবেচনায় ছিল বলে জানিয়েছেন পুতেয়াস। তবে আপাতত বিশ্বকাপ নিয়ে দূরবর্তী পরিকল্পনার চেয়ে প্রতিদিনের অনুশীলন ও পারফরম্যান্সেই মনোযোগ দিতে চান তিনি।

পুতেয়াসের বিশ্বাস, নতুন পরিবেশ তাঁকে নিজের সেরা খেলাটা উপহার দিতে প্রস্তুত করবে। তাঁর কাছে এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত উন্নতি করা এবং নতুন ক্লাবের সঙ্গে সাফল্য গড়ে তোলা।

নতুন শহরে নতুন স্বপ্ন

চোট, দীর্ঘ পুনর্বাসন এবং সতীর্থের উত্থানের মধ্য দিয়ে কঠিন সময় পার করেছেন পুতেয়াস। সেই বাধা পেরিয়ে আবারও ব্যালন ডি’অর জেতা তাঁর ক্যারিয়ারে নতুন অধ্যায় যোগ করেছে।

বার্সেলোনায় সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর পর লন্ডনে নতুন করে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার পথে হাঁটছেন তিনি। তৃতীয় ব্যালন ডি’অর জয়ের আনন্দের পাশাপাশি এখন তাঁর সামনে নতুন ক্লাবকে এগিয়ে নেওয়া এবং স্পেনের হয়ে ভবিষ্যৎ সাফল্যের প্রস্তুতি গড়ে তোলার চ্যালেঞ্জ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন