সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬

পদত্যাগের চিন্তা নেই, বিশ্ব ফুটবলের ‘বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠের’ সমর্থন দাবি ইনফান্তিনোর

ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে বিতর্কের মধ্যেই আত্মবিশ্বাসী সভাপতি, নথি প্রকাশে আইনি প্রক্রিয়ার কথা বললেন

বিশ্ব ফুটবলের ‘বিশাল সংখ্যাগরিষ্ঠের’ সমর্থন রয়েছে বলে দাবি করেছেন ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাব ঘিরে বিতর্কের মধ্যে পদত্যাগের কথা ভেবেছেন কি না, এমন প্রশ্ন হেসে উড়িয়ে দিয়েছেন তিনি। একই সঙ্গে বলেছেন, ভিন্ন ভিন্ন মতামতকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসা সব সময় সহজ নয়।

বিবিসি স্পোর্টসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নিজের অবস্থান নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করেন ইনফান্তিনো। ফিফা ফরোয়ার্ড এন্টারপ্রাইজ (এফএফই) প্রস্তাব ঘিরে সমালোচনা সত্ত্বেও সভাপতির দায়িত্বে থাকার বিষয়ে দৃঢ় অবস্থান জানান তিনি।

ইনফান্তিনো বলেন, ‘মতবিরোধের মধ্যে খারাপ কিছু নেই। বিশ্বের অনেক দেশে প্রতিদিনই আমরা এটা দেখি। মতবিরোধ থাকা ঠিক আছে। ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থাকাও ঠিক আছে। তবে এরপর আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখতে হবে।’

বাণিজ্যিক স্বত্ব বিক্রির প্রস্তাব নিয়ে বিতর্ক

২০১৬ সাল থেকে ফিফার নেতৃত্বে থাকা ইনফান্তিনো প্রায় দুই মাস আগে সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর চাপের মুখে পড়েন। ইউরোপীয় ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা, এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) এবং উত্তর ও মধ্য আমেরিকার ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা কনকাকাফের প্রধানেরা একটি চিঠিতে স্বাক্ষর করেন। ওই চিঠিতে ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে ‘প্রতারণার মাধ্যমে’ আস্থার সম্পর্ক ভঙ্গের অভিযোগ তোলা হয়।

গত সপ্তাহে উয়েফা দাবি করে, এফএফই-সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ সব নথি আগামী ২ নভেম্বরের মধ্যে প্রকাশ করতে হবে ফিফাকে। উয়েফার সাধারণ সম্পাদক থিওডোর থিওডোরিদিস বলেন, সংস্থাটি ‘বেশ কয়েকটি মৌলিক প্রশ্নের’ উত্তর দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

এফএফই প্রস্তাবের আওতায় ফিফা পরিচালিত প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা ছিল। তবে কয়েক দিনের মধ্যেই প্রস্তাবটি বাতিল করা হয়।

বিতর্কের মধ্যে ইনফান্তিনো মরক্কো, ডোমিনিকান রিপাবলিক, কেপ ভার্দে ও জাপান সফর করেছেন। এসব সফরে তিনি বিভিন্ন দেশের ফুটবল সংগঠনগুলোর সমর্থন পাওয়ার চেষ্টা করেন। আগামী বছর চতুর্থ মেয়াদে ফিফা সভাপতি নির্বাচিত হওয়ার পথেও তিনি এগিয়ে আছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়নে অর্থায়ন ৩.৪ বিলিয়ন ডলার বাড়ানোর প্রস্তাব দিয়েছেন তিনি।

‘হয়তো কম ভালো’ কাজ করার স্বীকারোক্তি

সাক্ষাৎকারে ইনফান্তিনো এএফসির পূর্ণ সমর্থন পাওয়ার কথা তুলে ধরেন। এএফসি সভাপতি শেখ সালমানের অবস্থান পরিবর্তনের পর এই সমর্থন এসেছে বলে তিনি জানান। পাশাপাশি আফ্রিকার সব দেশের সমর্থন পাওয়ার দাবিও করেন তিনি।

তবে গত সপ্তাহে এফএফই নিয়ে যোগাযোগ ও পরামর্শের ঘাটতির জন্য ফিফা কাউন্সিলের কাছে ক্ষমা চেয়েছিলেন ইনফান্তিনো। ওই বৈঠকে কাউন্সিলের সদস্যরা তাকে বলেছিলেন, প্রস্তাবটির যৌক্তিকতা-সংক্রান্ত নথিসহ চাওয়া কাগজপত্র সরবরাহ না করলে তিনি ফিফা সভাপতি হওয়ার ‘যোগ্য নন’।

নথিগুলো কখন সরবরাহ করা হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট উত্তর দেননি ইনফান্তিনো। তিনি বলেন, এ ক্ষেত্রে একটি ‘আইনি প্রক্রিয়া’ অনুসরণ করতে হবে এবং বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে।

ইনফান্তিনো বলেন, ‘প্রক্রিয়া যতটুকু অনুমতি দেয়, যতটুকু আমাদের পক্ষে সম্ভব, সেই অনুযায়ী অবশ্যই উত্থাপিত সব প্রশ্নের উত্তর দেব।’

আজারবাইজানে প্রথম অনূর্ধ্ব-১৫ বিশ্বকাপ থেকে কথা বলার সময় তিনি বলেন, ফিফা প্রশাসন যতটা সম্ভব ভালোভাবে কাজ করার চেষ্টা করছে। তবে স্বীকার করেন, তারা ‘এমন কিছু কাজ করেছেন, যেগুলো হয়তো কম ভালো হয়েছে’।

উয়েফার সঙ্গে টানাপোড়েনের সম্পর্ক উন্নয়নের বিষয়ে ইনফান্তিনো বলেন, সংস্থাটির সঙ্গে আরও ঘন ঘন সংলাপে বসা প্রয়োজন।

‘২১১ সদস্য অ্যাসোসিয়েশন আমাকে নির্বাচিত করেছে’

ইনফান্তিনো ফিফা সভাপতির পদে থাকার যোগ্য কি না এবং কখনো পদত্যাগের কথা ভেবেছেন কি না—বিবিসির এমন প্রশ্নে হেসে ওঠেন তিনি। এরপর বলেন, বিশ্বের ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশন তাকে নির্বাচিত করেছে।

তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয়, ফিফার মতো একটি সংগঠনে ভিন্ন ভিন্ন মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গি থাকতে পারে—এটাই গুরুত্বপূর্ণ।’

গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া এবং সব সদস্যের সমান ভোট ও কণ্ঠস্বরের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, ফুটবল যদি সবার হয়, তাহলে সংখ্যাগরিষ্ঠের মতামতকেও সম্মান করতে হবে।

ইনফান্তিনো বলেন, ‘আমি মাত্রই টোকিও থেকে ফিরেছি, যেখানে এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন আমাকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছে। আমি কেপ ভার্দেতেও ছিলাম, যেখানে [আফ্রিকান ফুটবল কনফেডারেশনের] সব দেশ আমাকে সমর্থন দিয়েছে। আমি বিশ্বের সব জায়গার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সঙ্গে কথা বলছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভিন্ন ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি রয়েছে। সব মতামতকে এক ছাদের নিচে নিয়ে আসা সব সময় সহজ নয়। তবে আমাদের সবার মতামত ও দৃষ্টিভঙ্গিকে সম্মান করতে হবে, আর আমি তা করি। এরপর ফিফার সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোই সিদ্ধান্ত নেবে, তারা কাকে সভাপতি হিসেবে চায় এবং ফিফা কীভাবে পরিচালিত হোক, তা তারা কীভাবে দেখতে চায়।’

আগামী মার্চে অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে ইনফান্তিনোর বিপক্ষে প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দেওয়ার শেষ সময় ১৮ নভেম্বর। এখন পর্যন্ত কেউ প্রার্থিতা ঘোষণা করেননি। ফলে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে তার।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন