যৌতুক ও পারিবারিক বিরোধের জেরে জোড়া হত্যার মামলা; ৫০ হাজার টাকা জরিমানা, রায়ের সময় আসামি পলাতক
সাতক্ষীরায় যৌতুকের দাবি ও পারিবারিক বিরোধের জেরে স্ত্রী ও শিশুকন্যাকে হত্যার দায়ে আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
সোমবার সাতক্ষীরার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. জাকারিয়া হোসেন এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন না। জামিনে মুক্ত হওয়ার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন বলে মামলাসংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
যৌতুকের দাবিতে পারিবারিক বিরোধ
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী জাহানারা খাতুনের (৫৬) মেয়ে সাবিনা ইসলাম (২৬) প্রায় সাড়ে তিন বছর আগে সাতক্ষীরার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুর রউফ সরদারের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। তাঁদের সংসারে একটি কন্যাসন্তানের জন্ম হয়।
বাদীর অভিযোগ, বিয়ের পর যৌতুকের দাবি ও পারিবারিক বিরোধকে কেন্দ্র করে দাম্পত্য জীবনে অশান্তি দেখা দেয়। আসামির মায়ের চিকিৎসার খরচের জন্য ৫০ হাজার টাকা এবং মোটরসাইকেল কেনার জন্য টাকা দেওয়ার চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ নিয়ে বিরোধের একপর্যায়ে সাবিনা ইসলাম তাঁর শিশুকন্যাকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যান।
ঘরে মা ও মেয়ের মরদেহ
এজাহারে বলা হয়, ২০১৫ সালের ৮ সেপ্টেম্বর রাতে পরিবারের সদস্যরা ঘুমিয়ে থাকা অবস্থায় সাইকেলের শব্দ শুনে জেগে ওঠেন জাহানারা খাতুন। পরে ঘরের ভেতরে গিয়ে তিনি মেয়ে সাবিনা ইসলাম ও নাতনি আয়েশা সিদ্দিকাকে খাটের ওপর নিথর অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
তাঁদের বাঁচানোর চেষ্টা করা হলেও শেষ পর্যন্ত প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হয়নি বলে এজাহারে উল্লেখ রয়েছে। এ ঘটনায় জাহানারা খাতুন থানায় অভিযোগ দায়ের করেন।
১২ জনের সাক্ষ্য, আসামির জবানবন্দি
মামলার তদন্ত শেষে পুলিশ আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করে। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় চিকিৎসক, তদন্ত কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেটসহ মোট ১২ জন সাক্ষ্য দেন। মামলায় আসামির ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় দেওয়া জবানবন্দিও রেকর্ড করা হয় বলে সংশ্লিষ্ট নথিতে উল্লেখ রয়েছে।
বিচারিক কার্যক্রম শেষে আদালত আব্দুর রউফ সরদারকে মৃত্যুদণ্ড এবং ৫০ হাজার টাকা জরিমানার আদেশ দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের বক্তব্য
মামলায় রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) শেখ আলমগীর আশরাফ। তিনি বাসসকে রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, এ রায়ের মধ্য দিয়ে নিহতদের পরিবারের ন্যায়বিচার পাওয়ার প্রত্যাশা পূরণ হয়েছে বলে তিনি মনে করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আব্দুর রউফ সরদার কালিগঞ্জ উপজেলার ঘোনা গ্রামের আব্দুল্লাহ সরদারের ছেলে। মামলার বাদী জাহানারা খাতুন একই উপজেলার তারালি সরদার পাড়ার বাসিন্দা।

