বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে বিদেশি সহায়তার চিত্রে প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড়ের ভিন্নতা

প্রথম প্রান্তিকে প্রতিশ্রুতি ১২৭ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে, তবে অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৪৯ কোটি ডলার

চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে (জুলাই-সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশের জন্য বিদেশি ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে। অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, এ সময়ে উন্নয়ন সহযোগীরা মোট ১২৭ কোটি ৩০ লাখ ৩০ হাজার ডলারের ঋণ ও অনুদানের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ প্রতিশ্রুতির পরিমাণ ছিল ৯১ কোটি ৬ লাখ ৭০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে নতুন বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বেড়েছে ৩৯ দশমিক ৮ শতাংশ।

প্রতিশ্রুতির বেশির ভাগই ঋণ

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে পাওয়া নতুন প্রতিশ্রুতির মধ্যে ঋণের পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি ৭৫ লাখ ৮০ হাজার ডলার। অনুদানের পরিমাণ ছিল ১২ কোটি ৫৪ লাখ ৫০ হাজার ডলার।

নতুন অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি বাড়ায় আগামী সময়ে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বৈদেশিক অর্থায়নের সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে প্রতিশ্রুত অর্থ বাস্তবে পাওয়া নির্ভর করবে অর্থছাড়ের সময়সূচি, প্রকল্পের প্রস্তুতি এবং সংশ্লিষ্ট শর্ত পূরণের ওপর।

ইস্টার্ন রিফাইনারির আধুনিকায়নে ১০০ কোটি ডলারের উদ্যোগ

বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বৃদ্ধির পাশাপাশি দেশের জ্বালানি অবকাঠামো উন্নয়নেও বড় অঙ্কের বৈদেশিক অর্থায়নের উদ্যোগ রয়েছে। দেশের একমাত্র তেল শোধনাগার ইস্টার্ন রিফাইনারি লিমিটেডের আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পে ইসলামী উন্নয়ন ব্যাংক (আইএসডিবি) প্রায় ১০০ কোটি ডলারের অর্থায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।

এই অর্থায়ন বাস্তবায়িত হলে দেশের জ্বালানি পরিশোধন সক্ষমতা বাড়ানো এবং জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদারে সহায়তা করতে পারে।

প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমেছে

নতুন সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়লেও চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমেছে। ইআরডির হিসাবে, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে উন্নয়ন সহযোগীদের কাছ থেকে মোট ৬৬ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার ছাড় হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ পরিমাণ ছিল ১১৪ কোটি ৮৫ লাখ ৯০ হাজার ডলার। অর্থাৎ, এক বছরের ব্যবধানে অর্থছাড় কমেছে প্রায় ৪২ দশমিক ৪ শতাংশ।

চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে ছাড় হওয়া প্রকল্প সহায়তার পরিমাণ ছিল ৬৫ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলার। এর মধ্যে ঋণ ছিল ৫৪ কোটি ১৭ লাখ ৪০ হাজার ডলার এবং অনুদান ছিল ১১ কোটি ৫ লাখ ৭০ হাজার ডলার। এ ছাড়া খাদ্য সহায়তা হিসেবে ১ কোটি ডলারের অনুদান ছাড় হয়েছে।

বিদেশি ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধ বেড়েছে

বিদেশি সহায়তার অর্থছাড় কমার বিপরীতে ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধে বাংলাদেশের ব্যয় বেড়েছে। চলতি অর্থবছরের প্রথম তিন মাসে এ খাতে মোট ১৩৫ কোটি ১২ লাখ ৩০ হাজার ডলার পরিশোধ করেছে বাংলাদেশ। গত অর্থবছরের একই সময়ে পরিশোধের পরিমাণ ছিল ১২৭ কোটি ৯৯ লাখ ৫০ হাজার ডলার। সে হিসাবে এক বছরে ঋণ পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে ৫ দশমিক ৬ শতাংশ।

ইআরডির তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-সেপ্টেম্বর সময়ে বিদেশি ঋণের আসল হিসেবে ৮৫ কোটি ৮৯ লাখ ২০ হাজার ডলার পরিশোধ করা হয়েছে। গত অর্থবছরের একই সময়ে এ বাবদ ব্যয় হয়েছিল ৮১ কোটি ৬৯ লাখ ৯০ হাজার ডলার।

একই সময়ে সুদ পরিশোধের পরিমাণ ৪৬ কোটি ২৯ লাখ ৬০ হাজার ডলার থেকে বেড়ে ৪৯ কোটি ২৩ লাখ ১০ হাজার ডলারে দাঁড়িয়েছে।

প্রতিশ্রুতি ও অর্থছাড়ের ব্যবধান গুরুত্বপূর্ণ

বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বলতে উন্নয়ন সহযোগীদের ভবিষ্যৎ অর্থায়নের অঙ্গীকার বোঝায়। অন্যদিকে, অর্থছাড় হলো প্রকল্প বা কর্মসূচির বিপরীতে বাস্তবে পাওয়া অর্থ। ফলে প্রতিশ্রুতি বাড়লেই তাৎক্ষণিকভাবে সরকারের হাতে সমপরিমাণ অর্থ আসে না।

চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকের তথ্য বলছে, নতুন বিদেশি সহায়তার প্রতিশ্রুতি বাড়লেও বাস্তবে অর্থছাড় কমেছে এবং ঋণের আসল ও সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়েছে। তাই প্রতিশ্রুত অর্থ সময়মতো ছাড়, প্রকল্প বাস্তবায়নের প্রস্তুতি এবং বৈদেশিক অর্থায়নের কার্যকর ব্যবহার নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন