ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমাতে নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
ঢাকা শহরে পানির সরবরাহ বাড়াতে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের জন্য নতুন প্রকল্প নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়ানোর লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন।
ঢাকায় দৈনিক পানির চাহিদা ও সরবরাহ
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন প্রায় ৩১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশ পানি আসে ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে। বাকি ২৬ শতাংশ সরবরাহ করা হয় নদীর পানি শোধনের মাধ্যমে।
ভূগর্ভস্থ পানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নদীর পানি শোধন করে সরবরাহ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি। আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে পদ্মা নদী থেকে প্রতিদিন অতিরিক্ত ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের লক্ষ্যে নতুন প্রকল্প নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী।
পানির অপচয় রোধে শিক্ষার্থীদের সচেতন হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, পানি ব্যবহারে সাশ্রয়ী হতে হবে এবং অপ্রয়োজনীয় অপচয় বন্ধে সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা রাখতে হবে।
রোগ প্রতিরোধে সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার গুরুত্ব
বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, ডায়রিয়া ও খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধে খাবার আগে এবং শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া অত্যন্ত জরুরি।
ফাস্টফুড খাওয়ার সময় হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি। নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার অভ্যাস সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য বলেও উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দৈনন্দিন জীবনে পরিচ্ছন্নতার অভ্যাস নিয়মিত চর্চা করলে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব। তাই ছোটবেলা থেকেই শিশুদের ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা ও স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কে সচেতন করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
শিক্ষার্থীদের পুষ্টি ও খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার পরামর্শ
পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার প্রতিও শিক্ষার্থীদের মনোযোগী হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের মধ্যে ভিটামিন ডি-এর ঘাটতির কারণে ক্লান্তি দেখা যায়। এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি গ্রহণের পাশাপাশি পুষ্টিকর খাবারের দিকেও নজর দেওয়া উচিত।
সুস্থ থাকতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত খেলাধুলায় অংশ নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি। শারীরিক সুস্থতা ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের অভ্যাস শিক্ষার্থীদের সামগ্রিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে অনুষ্ঠানে তুলে ধরা হয়।
অনুষ্ঠানে ইউনিসেফ ও ডব্লিউএইচওর প্রতিনিধিরা
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মালালাই আহমাদজাই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) বাংলাদেশ প্রতিনিধি ড. রাজেশ নারওয়াল এবং ইউনিসেফের ওয়াশ বিভাগের প্রধান পিটার মায়েস।
বক্তারা বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে নিয়মিত স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
পরে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার শপথবাক্য পাঠ করানো হয়। আনন্দঘন ও উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

