বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে সুইজারল্যান্ডের প্রতি রাষ্ট্রপতির আহ্বান

বাংলাদেশ এখন আর সাহায্য নয়, ব্যাপক বিনিয়োগ চায়’—বাণিজ্য, কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা সম্প্রসারণে গুরুত্বারোপ।

বাংলাদেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্প্রসারণে সুইজারল্যান্ডের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ এখন আর সাহায্য নয়, বরং ব্যাপক বিনিয়োগ চায়। দেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সুইস বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং অর্থনৈতিক অগ্রগতি ত্বরান্বিত হবে।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) বঙ্গভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো জিগফ্রিড রেঙ্গলি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করতে গেলে তিনি এ আহ্বান জানান। রাষ্ট্রপতির প্রেস সচিব মো. সরওয়ার আলম বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থাকে (বাসস) এ তথ্য জানান।

সম্ভাবনাময় খাতে সুইস বিনিয়োগের আহ্বান

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশে কার্যক্রম পরিচালনাকারী সুইজারল্যান্ডের স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠানগুলোর অবদানের প্রশংসা করেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে সুইস বিনিয়োগ আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে বিনিয়োগ বাড়ানো গেলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং দেশের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে।

তিনি আশা প্রকাশ করেন, বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে বিনিয়োগ, বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার নতুন সুযোগ তৈরি করবে।

স্থানীয় সরকার ব্যবস্থায় সুইস অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ

বাংলাদেশের স্থানীয় সরকার ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগানোর আগ্রহ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। এ ক্ষেত্রে দেশটির সহযোগিতাও কামনা করেন তিনি।

জবাবে সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত এ বিষয়ে তাঁর দেশের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সংসদীয় কার্যক্রমে সহযোগিতা

সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বৃদ্ধি এবং সংসদীয় কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করতে সুইজারল্যান্ডের সহযোগিতার প্রশংসা করেন রাষ্ট্রপতি।

তিনি বলেন, দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে কাজে লাগিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার পরিসর আরও বিস্তৃত করা সম্ভব। বিনিয়োগ ও বাণিজ্যের পাশাপাশি বিভিন্ন উন্নয়নমূলক খাতেও সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

জলবায়ু, শিক্ষা ও দক্ষতা উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা

সাক্ষাৎকালে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা, দক্ষতা উন্নয়ন, সাংস্কৃতিক বিনিময়, কারিগরি শিক্ষা এবং শিক্ষা ও গবেষণায় সহযোগিতার বিষয়েও আলোচনা হয়।

এ সময় রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব, সচিব ও প্রেস সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক এবং সুইজারল্যান্ড দূতাবাসের উপ-মিশন প্রধান দিপাক এলমার উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন