সংবিধান সংশোধনবিষয়ক বিশেষ কমিটির নবম বৈঠকে গুম, নির্যাতন ও হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং শহিদ পরিবারের প্রতিনিধিদের মতামত, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনেরও আহ্বান
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত বিশেষ কমিটির নবম বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে কমিটির সভাপতি ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে বিগত ১৭ বছরে নির্যাতন, গুম ও হত্যাকাণ্ডের শিকার ব্যক্তি এবং শহিদ পরিবারের প্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন কমিটির সদস্যরা। এ সময় সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে গুম প্রতিরোধ, বিচারব্যবস্থা শক্তিশালী করা, অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা, গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্বীকৃতি এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের দাবি জানানো হয়।
গুম প্রতিরোধে কার্যকর সাংবিধানিক সুরক্ষার দাবি
বৈঠকে অংশ নেওয়া ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের প্রতিনিধিরা গুম, নির্যাতন এবং আইনগত সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের ওপর তাঁরা গুরুত্বারোপ করেন।
তাঁদের বক্তব্যে গুমের শিকার ব্যক্তিদের যথাযথ স্বীকৃতি, বিচারপ্রাপ্তি নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসনের বিষয়গুলো গুরুত্ব পায়। সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে এসব বিষয়ে কার্যকর সুরক্ষা প্রতিষ্ঠারও দাবি জানান তাঁরা।
ভুক্তভোগী পরিবারের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা
গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবারের সদস্য হিসেবে সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম, হুমাম কাদের চৌধুরী, আনিছুর রহমান ও মোছা. তাহসিনা রুশদী বৈঠকে নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
তাঁরা নির্যাতন এবং আইনগত সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হওয়ার অভিজ্ঞতা বর্ণনা করেন। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেন।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন যাঁরা
বিশেষ কমিটির বৈঠকে সদস্য হিসেবে অংশ নেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, তথ্যমন্ত্রী আন্দালিব রহমান, প্রবাসীকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী মো. নূরুল হক এবং সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমীন।
এ ছাড়া বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব, আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে সংবিধান সংশোধনের মাধ্যমে গুম প্রতিরোধ, ন্যায়বিচার নিশ্চিতকরণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর সুরক্ষা ও পুনর্বাসনের বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবারের প্রতিনিধিদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে আলোচনায় আসে।

