বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬

কুষ্টিয়ায় সাবেক এমপি আবদুর রউফ ও স্ত্রীর বিরুদ্ধে দুদকের পদক্ষেপ

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে মামলা; স্ত্রীর নামে সম্পদ অর্জনে ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগও আনা হয়েছে।

জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগে কুষ্টিয়া-৪ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রউফ ও তাঁর স্ত্রী জান্নাতুন নাহারের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বুধবার কুষ্টিয়ায় দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে মামলা দুটি দায়ের করা হয়। দুদকের এজাহার অনুযায়ী, আবদুর রউফের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৬০৫ টাকার এবং তাঁর স্ত্রীর বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৯২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

আবদুর রউফের বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৫ লাখ টাকার অভিযোগ

দুদকের এজাহারে বলা হয়েছে, অনুসন্ধানে আবদুর রউফ ও তাঁর ওপর নির্ভরশীল ব্যক্তিদের নামে মোট ২ কোটি ৬১ লাখ ৮০ হাজার ৬৯২ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে।

এ ছাড়া তাঁর ঋণের পরিমাণ ২৩ লাখ ৩১ হাজার ৭১২ টাকা। পারিবারিক খরচ, কর পরিশোধ ও অন্যান্য ব্যয় বাবদ ব্যয় হয়েছে ৬৬ লাখ ২৭ হাজার ৪৫৩ টাকা। বিপরীতে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ৩৯ লাখ ৬৫ হাজার ৮২৮ টাকা বলে উল্লেখ করেছে দুদক।

এসব আয়, সম্পদ ও ব্যয়ের হিসাব পর্যালোচনা করে তাঁর বিরুদ্ধে ২ কোটি ৬৫ লাখ ১০ হাজার ৬০৫ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগ আনা হয়েছে।

স্ত্রী জান্নাতুন নাহারের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৯ লাখ টাকার অভিযোগ

দুদকের এজাহার অনুযায়ী, জান্নাতুন নাহারের নামে ১ কোটি ৭১ লাখ ৮৯ হাজার ২৯২ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে। পারিবারিক খরচ, কর পরিশোধ ও অন্যান্য ব্যয়সহ তাঁর মোট সম্পদের মূল্য দাঁড়িয়েছে ১ কোটি ৯৪ লাখ ৬৪ হাজার ২৯২ টাকা।

এর বিপরীতে তাঁর গ্রহণযোগ্য আয়ের পরিমাণ ৫৪ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বলে উল্লেখ করা হয়েছে। আয় ও ব্যয়ের তথ্য বিশ্লেষণ করে তাঁর বিরুদ্ধে ১ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার ২৯২ টাকার জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও ভোগদখলে রাখার অভিযোগ এনেছে দুদক।

স্ত্রীর নামে সম্পদ অর্জনে সহায়তার অভিযোগ

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়েছে, সংসদ সদস্য থাকাকালে আবদুর রউফ নিজের পদ-পদবি ব্যবহার করে ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন এবং ঘুষ ও দুর্নীতির অর্থের মাধ্যমে স্ত্রীর নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনে সহায়তা করেছেন।

এ অভিযোগে জান্নাতুন নাহারের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারায় এবং আবদুর রউফের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।

১৯৮৫ থেকে ২০২৫ সালের তথ্য পর্যালোচনা

দুদকের এজাহার অনুযায়ী, ১৯৮৫ সাল থেকে ২০২৫ সালের ২৬ আগস্ট পর্যন্ত সময়ের সম্পদ, আয় ও ব্যয়ের তথ্য পর্যালোচনা করে অনুসন্ধান চালানো হয়। গত ১৩ অক্টোবর দুদকের প্রধান কার্যালয় মামলা দায়েরের অনুমোদন দেয়।

এজাহারে বলা হয়েছে, তদন্তে আরও কোনো সম্পদ বা অন্য কারও সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেলে তা মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন