মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

উখিয়ার ইনানীতে নলকূপের গ্যাস থেকে আগুন, আতঙ্কে স্থানীয়রা

১ হাজার ফুট খননের পরও মেলেনি পানি, গ্যাসের সঙ্গে আগুনের তীব্রতায় আতঙ্কিত স্থানীয়রা

কক্সবাজারের উখিয়া উপজেলার ইনানীতে নলকূপ বসানোর জন্য প্রায় ১ হাজার ফুট গভীর মাটি খননের পর পানি না পেয়ে গ্যাসের সন্ধান মিলেছে। মঙ্গলবার ভোরে কূপ থেকে তীব্র বেগে গ্যাস বের হওয়ার সময় পাশের বৈদ্যুতিক তার থেকে আগুন ধরে যায়। আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট কাজ করছে। পরে সেনাবাহিনীর ফায়ার টিমও আগুন নেভানোর কাজে যোগ দেয়।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) ভোর ৬টার দিকে ইনানীর ছোট ব্রিজসংলগ্ন এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। গ্যাসের সঙ্গে আগুনের তীব্রতা বেশি হওয়ায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে বেগ পেতে হচ্ছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস। এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

রিসোর্টের জন্য নলকূপ খনন

ইনানীতে জেলা প্রশাসনের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিচকর্মীদের সুপারভাইজার বেলাল উদ্দিন বাসসকে জানান, ইনানীর সিকদারপাড়ায় মো. আবদুল্লাহ নামে এক ব্যক্তি তাঁর ২০ শতক জমিতে একটি রিসোর্ট নির্মাণ করছেন। রিসোর্টের জন্য পানির ব্যবস্থা করতে গত ১৫ দিন ধরে সেখানে নলকূপ বসানোর কাজ চলছিল।

প্রায় ১ হাজার ফুট গভীর পর্যন্ত মাটি খনন করেও পানির সন্ধান না পাওয়ায় তিন দিন আগে খননকাজ বন্ধ রাখা হয়। এর মধ্যে মঙ্গলবার ভোরে হঠাৎ কূপ থেকে তীব্র বেগে গ্যাস বের হতে শুরু করে। একপর্যায়ে পাশের বৈদ্যুতিক তার থেকে আগুন ধরে যায়।

আগুন নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিস ও সেনাবাহিনী

ঘটনার খবর পেয়ে সকাল ৮টার দিকে উখিয়া ও কক্সবাজার থেকে ফায়ার সার্ভিসের তিনটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নেভানোর কাজ শুরু করে।

কক্সবাজার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক সৈয়দ মুহাম্মদ মোরশেদ হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে তিনটি ইউনিট নিরবচ্ছিন্নভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। দুপুর আড়াইটার পর সেনাবাহিনীর ফায়ার টিমের সদস্যরাও আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দেন।

তিনি জানান, গ্যাসের সঙ্গে আগুনের তীব্রতা বেশি। অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা এড়াতে পুরো এলাকার বিদ্যুৎ সংযোগ সাময়িকভাবে বিচ্ছিন্ন রাখা হয়েছে।

আগুন না নেভায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক

স্থানীয়রা জানান, আগুন নেভাতে একের পর এক বালুর বস্তা ফেলা হলেও তা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আগুন আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কায় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পাশাপাশি ওই এলাকায় বড় কোনো গ্যাসক্ষেত্র রয়েছে কি না, তা ভূতাত্ত্বিক পরীক্ষার মাধ্যমে অনুসন্ধানের দাবি জানিয়েছেন সচেতন এলাকাবাসী।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন