মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬

মানবিক বাংলাদেশ গড়তে উন্নয়নমূলক কাজে যুবদলকে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান রিজভী

খালখনন, বৃক্ষরোপণ ও মশা নিধনে ভূমিকা রাখার তাগিদ; অপরাধ দমনে আইনের যথাযথ প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ

মানবিক বাংলাদেশ গঠনে যুবদলকে উৎপাদন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেছেন, খালখনন, বৃক্ষরোপণ এবং ডেঙ্গু ও এডিস মশা নিধনসহ জনকল্যাণমূলক কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে যুবদল দেশের উন্নয়নে অবদান রাখতে পারে।

মঙ্গলবার বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

তরুণদের উৎপাদনমুখী কাজে সম্পৃক্ত করার আহ্বান

রুহুল কবির রিজভী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং উৎপাদন ও উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত করার লক্ষ্য নিয়ে যুবদল গঠন করেছিলেন। পাশাপাশি তরুণদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তুলতে যুব মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।

তিনি বলেন, জিয়াউর রহমানের শাসনামলে যুবকদের হাতের কাজ, টাইপিং ও ওয়েল্ডিংয়ের মতো কারিগরি প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। এসব উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল দক্ষ জনশক্তি তৈরি করা। যুবদলও দেশের পুনর্গঠন ও উৎপাদনমুখী কর্মকাণ্ডে ভূমিকা রেখেছে।

ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের উদ্যোগের উল্লেখ

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান মানবিক বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডের মতো উদ্যোগ নিয়েছেন।

রিজভীর দাবি, অর্থনীতিবিদদের গবেষণায় এসব উদ্যোগের মাধ্যমে দারিদ্র্যের হার আরও ৫ শতাংশ কমার সম্ভাবনার কথা উঠে এসেছে। তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে এক থেকে দেড় হাজার কিলোমিটার খাল খনন এবং তিন থেকে চার কোটি গাছ লাগানো হয়েছে। আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর লক্ষ্য রয়েছে।

দেশকে আরও বসবাসযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যেই এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

খালখনন, বৃক্ষরোপণ ও মশা নিধনে যুবদলের ভূমিকা

রিজভী বলেন, যুবদলের ভবিষ্যৎ কর্মসূচি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উন্নয়ন পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বিত হওয়া উচিত। সংগঠনটির নেতাকর্মীরা খালখনন, বৃক্ষরোপণ এবং ডেঙ্গু ও এডিস মশা নিধনে কার্যকর পদক্ষেপ নিলে জনকল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবেন।

এসব কর্মকাণ্ডে সক্রিয় অংশগ্রহণের মাধ্যমে যুবদল জনগণের সঙ্গে আরও নিবিড়ভাবে সম্পৃক্ত হতে পারবে এবং সংগঠনটির জনপ্রিয়তাও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও নাগরিক নিরাপত্তার ওপর গুরুত্ব

রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিএনপি এমন একটি বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত হয়েছিল, যেখানে মানুষ অবাধে কথা বলতে পারবে, নির্ভয়ে চলাচল করবে এবং পূর্ণ নিরাপত্তা পাবে।

তিনি দাবি করেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাসনামলে সব রাজনৈতিক দলের রাজনীতি করার সুযোগ ছিল এবং সংবাদপত্রের স্বাধীনতা বজায় ছিল।

অপরাধ দমনে আইনের যথাযথ প্রয়োগের আহ্বান

অপরাধ দমনে বিদ্যমান আইন যথাযথভাবে প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করে রিজভী বলেন, দেশে পর্যাপ্ত আইন রয়েছে। এসব আইনের কার্যকর প্রয়োগের মাধ্যমেই সন্ত্রাস ও অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, গুম ও ক্রসফায়ারের মতো বেআইনি পদ্ধতি অপরাধ দমনের কার্যকর উপায় নয়। পুলিশ বাহিনীতে অনেক সৎ ও দক্ষ কর্মকর্তা রয়েছেন। তাঁদের প্রভাবমুক্তভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া হলে অপরাধ নিয়ন্ত্রণ সহজ হবে।

কিশোর অপরাধসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে আইন মেনে পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বেআইনি পদ্ধতি কখনোই অপরাধ দমনের গ্রহণযোগ্য উপায় হতে পারে না। রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠানকে দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কথা বলতে হবে।

জুলাই গণঅভ্যুত্থান ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রসঙ্গ

রিজভী বলেন, গুম, ক্রসফায়ার, গুপ্তহত্যা, রক্তপাত, অমানবিক দুঃশাসন ও ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৭ বছরের লড়াইয়ের পর জুলাই গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশ নতুন পর্যায়ে পৌঁছেছে।

তিনি বলেন, অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে বিএনপি ক্ষমতায় এসেছে এবং তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হয়েছেন।

যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে নেতারা

যুবদলের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প ও রক্তদান কর্মসূচিতে সংগঠনটির সভাপতি আবদুল মোনায়েম মুন্না, সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন, বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট আব্দুস সালাম আজাদ, চিকিৎসক ডা. লোহানীসহ অন্যান্য চিকিৎসক ও আয়োজকেরা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন