জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন ও মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগ; শ্যালক রেজাউল আলম শাহীন ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদ অনুসন্ধানে পেয়েছে দুদক
সাবেক স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মো. মনিরুল ইসলাম, তাঁর স্ত্রী এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সাবেক অতিরিক্ত সচিব সায়লা ফারজানা ও তাঁদের স্বজনদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জন এবং মানিলন্ডারিংয়ের অভিযোগে দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
দুদকের অনুসন্ধানে মনিরুল ইসলামের স্ত্রীর ভাই রেজাউল আলম শাহীন ও তাঁর স্ত্রী সানজিদা খানম টুম্পার বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ মোট ৩৮ কোটি ৬২ লাখ ৬৭ হাজার ৫৮৫ টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুই মামলায় যাঁদের আসামি করা হয়েছে
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, প্রথম মামলায় আসামি করা হয়েছে রেজাউল আলম শাহীন, মো. মনিরুল ইসলাম ও সায়লা ফারজানাকে।
দ্বিতীয় মামলায় আসামি করা হয়েছে সানজিদা খানম টুম্পা, মো. মনিরুল ইসলাম, সায়লা ফারজানা ও রেজাউল আলম শাহীনকে।
দুটি মামলাতেই দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৭(১) ধারা, দুর্নীতি প্রতিরোধ আইন, ১৯৪৭-এর ৫(২) ধারা, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২-এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারা এবং দণ্ডবিধির ১০৯ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
রেজাউল আলম শাহীনের ৪০ ব্যাংক হিসাবে হাজার কোটি টাকার বেশি লেনদেন
দুদকের অনুসন্ধানে রেজাউল আলম শাহীনের নামে থাকা ৪০টি ব্যাংক হিসাবে ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ১৬ এপ্রিল পর্যন্ত মোট ১ হাজার ৪৫ কোটি ২৮ লাখ ৩০ হাজার ৭৩৮ টাকার লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে।
দুদকের অনুসন্ধানে তাঁর ও তাঁর স্ত্রীর সম্পদের উৎস এবং ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হয়েছে। তাঁদের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।
সানজিদা খানম টুম্পার ২৭ ব্যাংক হিসাবে লেনদেন ৫৮ কোটি টাকার বেশি
দুদকের তথ্য অনুযায়ী, সানজিদা খানম টুম্পার নামে থাকা ২৭টি ব্যাংক হিসাবে ২০১৩ সালের ৮ ডিসেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত মোট ৫৮ কোটি ৬২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৪৩ টাকার লেনদেন হয়েছে।
অনুসন্ধানে তাঁর নামে ১৫ কোটি ৯৭ লাখ ৩৯ হাজার ৭৬৫ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর বিপরীতে বৈধ আয়ের উৎস পাওয়া গেছে ৬৭ লাখ ১৮ হাজার ৭০৬ টাকার।
দুদকের হিসাব অনুযায়ী, বৈধ আয়ের উৎসের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ সম্পদের পরিমাণ ১৫ কোটি ৩০ লাখ ২১ হাজার ৫৯ টাকা।
মানিলন্ডারিং ও অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ
দুদক জানিয়েছে, সম্পদের পরিমাণ, বৈধ আয়ের উৎস এবং ব্যাংক হিসাবে লেনদেনের তথ্যের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। এসব মামলায় অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থপাচারসংক্রান্ত আইনের বিভিন্ন ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
তবে মামলায় আনা অভিযোগগুলো এখনো বিচারিক প্রক্রিয়ায় প্রমাণিত হয়নি।

