অনুসরণ করুন:
বুধবার, ৭ অক্টোবর ২০২৬

আগুনে নিঃস্ব দিনমজুর হেলালের পরিবার, সহায়তার আকুতি

রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে বসতঘরসহ সর্বস্ব হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে দিনমজুর হেলাল উদ্দিনের পরিবার। আগুনে পুড়ে মারা গেছে একটি ছাগল। গুরুতর দগ্ধ হয়েছে একটি গাভীন গরু। পুড়ে ছাই হয়েছে পরিবারের উপার্জনের অন্যতম অবলম্বন রিকশা-ভ্যান, ঘরের আসবাবপত্র, পোশাক, মেয়ের পড়ার বই, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সবকিছু।

মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৫টার দিকে গোদাগাড়ী উপজেলার প্রেমতলী এলাকার ফরাদপুর গ্রামের সাদ্দামপাড়ায় এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ক্ষতিগ্রস্ত হেলাল উদ্দিন ওই এলাকার একজন দিনমজুর। তার দুই সন্তান রয়েছে। আগুনে ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়ে বর্তমানে পরিবারটি চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, প্রতিদিনের মতো মঙ্গলবার ভোরে কাজে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন হেলাল উদ্দিন। এ সময় তার স্ত্রী রান্না করার জন্য রান্নাঘরে যান। রান্নাঘরের পাশে রাখা পাটকাটি বা পাটে কোনোভাবে আগুনের সূত্রপাত হয় বলে পরিবারের ধারণা। মুহূর্তের মধ্যেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে পুরো বসতঘরে।

আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় পরিবারের সদস্যরা প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ারও সুযোগ পাননি। একপর্যায়ে পুরো বসতঘর আগুনে পুড়ে যায়। ঘরে থাকা একটি বড় ছাগল আগুনে পুড়ে মারা যায়। পরিবারটির দাবি, ছাগলটির আনুমানিক মূল্য ১৫ থেকে ২০ হাজার টাকা।

এ ছাড়া একটি গাভীন গরু আগুনে গুরুতর দগ্ধ হয়েছে। গরুটি জীবিত থাকলেও বর্তমানে তার অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা। গরুটির চিকিৎসার জন্যও তাদের বড় অঙ্কের অর্থের প্রয়োজন হচ্ছে।

অগ্নিকাণ্ডে হেলাল উদ্দিনের একটি রিকশা-ভ্যানও পুড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিবারের দাবি, রিকশা-ভ্যানটির আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় লাখ টাকা। দিনমজুর হিসেবে কাজের পাশাপাশি এটি ছিল পরিবারের আয়ের গুরুত্বপূর্ণ একটি অবলম্বন। সেটিও আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিবারের উপার্জনের পথ আরও সংকুচিত হয়ে পড়েছে।

আগুনে বসতঘরের আসবাবপত্র, পরিবারের পোশাক, মেয়ের পড়াশোনার বই, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্রসহ নিত্যব্যবহার্য বিভিন্ন সামগ্রী পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। ফলে একদিকে থাকার ঘর হারিয়েছে পরিবারটি, অন্যদিকে সন্তানদের পড়াশোনা ও দৈনন্দিন জীবনও অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, আগুন লাগার পর ফায়ার সার্ভিসে একাধিকবার ফোন করা হয়। তবে স্থানীয়রা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করেন। স্থানীয়দের চেষ্টায় আগুন অনেকটা নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় ফায়ার সার্ভিসের গাড়ি গোপালপুর এলাকা থেকে ফিরে যায় বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

অগ্নিকাণ্ডে হেলাল উদ্দিনের পরিবারের সদস্যরাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। তার স্ত্রী বর্তমানে দগ্ধ অবস্থায় প্রেমতলী মেডিকেলে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানা গেছে।

আগুনে বসতঘর পুড়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবারের আয়ের অন্যতম অবলম্বন রিকশা-ভ্যান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একটি গবাদিপশু মারা গেছে এবং গাভীন গরুটিও গুরুতর দগ্ধ। সবমিলিয়ে দুই সন্তান নিয়ে পরিবারটির সামনে এখন কঠিন অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে।

ক্ষতিগ্রস্ত হেলাল উদ্দিনের পরিবার জানিয়েছে, বসতঘর পুনর্নির্মাণ, প্রয়োজনীয় আসবাবপত্র সংগ্রহ, দগ্ধ গরুটির চিকিৎসা এবং রিকশা-ভ্যান মেরামত করতে তাদের বিপুল অর্থের প্রয়োজন। দিনমজুরের সামান্য আয়ে এই ক্ষতি কাটিয়ে ওঠা তাদের পক্ষে সম্ভব নয়। এ অবস্থায় জেলা ও উপজেলা প্রশাসনসহ সমাজের বিত্তবান ও সামর্থ্যবান মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছে পরিবারটি।

গোদাগাড়ী উপজেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মো. মমিনুল হক বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের সঙ্গে যোগাযোগ করে ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন পাঠালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ইসরাত জাহান বলেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বা সদস্যের (মেম্বার) মাধ্যমে যোগাযোগ করে ক্ষয়ক্ষতির প্রতিবেদন পাঠালে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি তিনি নিজে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানকে ফোন করে বিষয়টি জানিয়ে দেবেন বলেও জানান।

স্থানীয়রা জানান, দিনমজুর হেলাল উদ্দিনের পরিবারের পক্ষে এত বড় ক্ষতি একা সামাল দেওয়া সম্ভব নয়। আগুনে ঘরবাড়ি ও সম্পদ হারিয়ে পরিবারটি এখন কার্যত নিঃস্ব। তাই দ্রুত প্রশাসনের পক্ষ থেকে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সরকারি সহায়তা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা প্রয়োজন।

তাদের প্রত্যাশা, অসহায় পরিবারটির দুর্দশার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন দ্রুত প্রয়োজনীয় সহায়তা নিয়ে পাশে দাঁড়াবে। পাশাপাশি সমাজের সামর্থ্যবান মানুষ ও বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন এগিয়ে এলে আগুনে সর্বস্ব হারানো পরিবারটি আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন