মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশ-তুরস্ক বাণিজ্য সম্পর্ক আরও গভীর করার তাগিদ

তুরস্কের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) নিয়ে চলমান আলোচনা এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা আরও বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন বাণিজ্য, বস্ত্র ও পাট এবং শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

সোমবার দুপুরে শিল্প মন্ত্রণালয়ে ঢাকায় নিযুক্ত তুরস্কের রাষ্ট্রদূত রামিজ সেনের সঙ্গে বৈঠককালে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে দুই দেশের অর্থনৈতিক সম্পর্ক সম্প্রসারণের পাশাপাশি বিপজ্জনক শিল্পবর্জ্য ব্যবস্থাপনায় তুরস্কের অভিজ্ঞতা ও সক্ষমতা কাজে লাগানোর সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করেন তারা।

বৈঠকে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনার অগ্রগতি পর্যালোচনা করা হয়। আসন্ন তুরস্ক সফরে দেশটির বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক এবং বিনিয়োগ সংস্থার প্রতিনিধিদের সঙ্গে সাক্ষাতের আগ্রহ প্রকাশ করেন খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় দুই পক্ষ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার আশাবাদ ব্যক্ত করে।

ফল আমদানির ক্ষেত্রে ব্যবসায়িক যোগাযোগ বাড়ানোর লক্ষ্যে তুরস্কের ফলমূল রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোর পরিচিতি ও যোগাযোগের তথ্য চায় বাংলাদেশ। এসব তথ্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেশের সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের কাছে পৌঁছে দেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে আলোচনা হয়।

বৈঠকে ইলেকট্রনিকস ও জাহাজ ভাঙা শিল্পের বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। এ ধরনের বর্জ্য পরিশোধন, সংরক্ষণ ও নিরাপদ নিষ্পত্তির জন্য তুরস্কে থাকা বিশেষায়িত স্থাপনা বা টিএসডিএফ-সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা ও সহযোগিতা নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

চামড়া শিল্প নিয়েও দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা হয়। তুরস্কের রাষ্ট্রদূত জানান, পরিবেশগত কারণে দেশটিতে চামড়া প্রক্রিয়াজাতকরণ ও ট্যানারির কার্যক্রম কমেছে। একই সময়ে সিন্থেটিক চামড়ার ব্যবহার এবং এ খাতের কাঁচামাল আমদানির প্রবণতা বেড়েছে।

এ ছাড়া রাষ্ট্রদূত কমসেকের (COMCEC) অধীনে আসন্ন মন্ত্রী পর্যায়ের সম্মেলন এবং ওয়ার্ল্ড হালাল ইন্ডাস্ট্রিয়াল সামিট ও হালাল এক্সপোতে বাংলাদেশের অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানান। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে জানানো হয়, কমসেকের মূল সম্মেলনে বাণিজ্যমন্ত্রী অংশ নেবেন এবং পরবর্তী সম্মেলনে বাংলাদেশের অন্যান্য প্রতিনিধিরা অংশ নেবেন।

বৈঠকে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব আব্দুন নাসের খান, তুরস্ক দূতাবাসের ইকনমিক কাউন্সিলর এবং বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন