দীর্ঘদিন ধরে পরিত্যক্ত লালমনিরহাটের মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাই করতে সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ও সেতু বিভাগের প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান এমপি।
রোববার (৪ অক্টোবর) মোগলহাট স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন তিনি। এ উপলক্ষে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু এমপি।
পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী মো. রাজিব আহসান বলেন, মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালু করা গেলে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যে নতুন গতি সঞ্চারিত হবে। একই সঙ্গে লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের অর্থনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও কর্মসংস্থানে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ স্থলবন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মানজারুল মান্নানসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ইতোমধ্যে মোগলহাট স্থলবন্দরের ভৌত অবকাঠামো ও সার্বিক পরিস্থিতি সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন। ওই পরিদর্শনের ভিত্তিতে একটি প্রতিবেদনও প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, বন্দরটি পুনরায় চালুর জন্য বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। নদীর ওপারে একটি সেতু, সংযোগ সড়ক, ছোট একটি স্টেশন এবং প্রয়োজনীয় জনবলসহ কিছু অবকাঠামো তৈরি করতে হবে। এসব অবকাঠামো নির্মাণে সরকার প্রস্তুত রয়েছে।
তবে মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে ভারতের অংশে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম শুরু করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি। এ জন্য দুই দেশের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি প্রয়োজন। ভারত তাদের অংশে কার্যক্রম শুরু না করলে বাংলাদেশের পক্ষেও বন্দরটি চালু করা সম্ভব হবে না বলে উল্লেখ করেন প্রতিমন্ত্রী।
সংশ্লিষ্টরা জানান, ১৯৮৮ সালের ভয়াবহ বন্যায় ধরলা নদীর ওপর থাকা রেলসেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর মোগলহাট স্থলবন্দরের কার্যক্রম কার্যত স্থবির হয়ে পড়ে। এরপর দীর্ঘ সময় ধরে বন্দরটি পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে।
মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালু করা গেলে বাংলাদেশ-ভারত বাণিজ্য সম্প্রসারণের পাশাপাশি আঞ্চলিক যোগাযোগ ও কানেক্টিভিটি আরও জোরদার হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে লালমনিরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচিত হতে পারে।
সরকার দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য সম্প্রসারণ ও আঞ্চলিক যোগাযোগ বৃদ্ধির লক্ষ্যে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ ও পরিত্যক্ত থাকা গুরুত্বপূর্ণ স্থলবন্দরগুলো পুনরুজ্জীবিত করার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে মোগলহাট স্থলবন্দর পুনরায় চালুর সম্ভাবনা যাচাইয়ে এ পরিদর্শন ও মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়।

