রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬

বাংলাদেশকে শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে গড়ে তুলতে চাই: প্রধানমন্ত্রী

বাংলাদেশকে বিনিয়োগের জন্য একটি আকর্ষণীয় গন্তব্যে পরিণত করার পাশাপাশি দেশকে শক্তিশালী উৎপাদন ও বিনিয়োগের কেন্দ্রে গড়ে তোলা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, উৎপাদন, সেবা ও রপ্তানিসহ অর্থনীতির বিভিন্ন খাতে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি করতে চায় সরকার। এজন্য বিনিয়োগকারীদের আস্থা ও দীর্ঘমেয়াদি নীতিগত নিশ্চয়তা নিশ্চিত করা প্রয়োজন। সরকারের দীর্ঘমেয়াদি নীতিমালার ধারাবাহিকতা বিনিয়োগকারীদের সেই নিশ্চয়তা দেবে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে রাজধানীর প্যান প্যাসিফিক সোনারগাঁও হোটেলে সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী আন্তর্জাতিক সম্মেলন ‘বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন (বিওবিসি) ২০২৬’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, নতুন সরকার জনগণের দেওয়া ম্যান্ডেট বাস্তবায়নে পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। জাতীয় স্বার্থ সুরক্ষা, নীতিমালার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারকে সরকারের অগ্রাধিকার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করতে উৎপাদন খাতের সম্প্রসারণ, সেবা খাতের বিকাশ এবং রপ্তানি সক্ষমতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করে তাদের জন্য উপযুক্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রযুক্তিগত রূপান্তর ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে উদ্ভাবন, উদ্যোক্তা উন্নয়ন এবং স্টার্টআপ খাতকে এগিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। তরুণদের দক্ষতা ও ভাষাগত সক্ষমতা বাড়ানোর মাধ্যমে তাদের আন্তর্জাতিক শ্রমবাজারে প্রতিযোগিতার উপযোগী করে তোলার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম ভিত্তি কৃষি। কৃষিতে প্রযুক্তির ব্যবহার, সেচ সুবিধা, কৃষি অর্থায়ন ও কৃষিপণ্যের বাজারসংযোগ সহজ করার পাশাপাশি কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ ও কৃষিপণ্য রপ্তানি শিল্পকে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। এর মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি হবে।

বঙ্গোপসাগরকে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের ভৌগোলিক ও কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সমুদ্রবন্দর, নৌপথ ও উপকূলীয় অর্থনীতির মাধ্যমে বিশ্বের সঙ্গে আরও গভীরভাবে যুক্ত হওয়ার সুযোগ রয়েছে। জাহাজ চলাচল, মৎস্যসম্পদ, পর্যটন, জ্বালানি এবং আঞ্চলিক সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে।

তারেক রহমান বলেন, বাণিজ্য, জ্বালানি, শিক্ষা, প্রযুক্তি, জলবায়ু ও সমুদ্র খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন বাজার সৃষ্টি করা সম্ভব। একই সঙ্গে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তিতে তরুণদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরির ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিনিয়োগ সম্ভাবনা তুলে ধরে বলেন, বাংলাদেশ সংলাপ, অংশীদারত্ব ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধে বিশ্বাসী। জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক অংশীদারদের সঙ্গে ইতিবাচকভাবে কাজ করে যেতে চায় বাংলাদেশ।

তিনি বলেন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ তৈরির পাশাপাশি নীতিমালার ধারাবাহিকতা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা হলে বাংলাদেশকে একটি শক্তিশালী আঞ্চলিক উৎপাদন ও বিনিয়োগ কেন্দ্রে পরিণত করার সুযোগ আরও বাড়বে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন