অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

চীনের আন্তর্জাতিক ইউরোলজি সম্মেলনে বাংলাদেশের চিকিৎসা-গবেষণার অগ্রগতি তুলে ধরলেন বিশেষজ্ঞরা

‘Total Tubeless Mini-PCNL’ নিয়ে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের উপস্থাপনা • বাংলাদেশি বিশেষজ্ঞদের বৈজ্ঞানিক সেশনে অংশগ্রহণ • শিক্ষা-গবেষণা ও আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তিতে চীনের সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

কিডনির পাথর অপসারণে আধুনিক মিনিমালি ইনভেসিভ চিকিৎসাসহ বাংলাদেশের ইউরোলজি চিকিৎসা ও গবেষণার অগ্রগতি চীনে অনুষ্ঠিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে তুলে ধরেছেন দেশের বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকেরা। চীনের ইউনান প্রদেশের লিজিয়াং শহরে অনুষ্ঠিত ১৩তম Golden Bridge International Urology Conference-এ বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ১১ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর লিজিয়াংয়ের Garden Villa, GuanFang Hotel-এ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে বাংলাদেশ, চীন, যুক্তরাজ্য, ফিলিপাইন, নেপাল, ভারত ও ইন্দোনেশিয়াসহ বিভিন্ন দেশের ইউরোলজিস্ট ও বিশেষজ্ঞরা অংশ নেন।

Golden Bridge International Urology Conference-এর সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা নতুন নয়। Kunming Medical University-এর তথ্য অনুযায়ী, আঞ্চলিক স্বাস্থ্যসেবা সহযোগিতা বাড়াতে ২০১৪ সালে সম্মেলনটির যাত্রা শুরু হয়। Second Affiliated Hospital of Kunming Medical University এর আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত এবং বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের শতাধিক ইউরোলজিস্ট বিভিন্ন সময়ে এ উদ্যোগের সম্মেলন ও প্রশিক্ষণে অংশ নিয়েছেন। 

কিডনির পাথরের আধুনিক চিকিৎসা তুলে ধরলেন রফিকুল ইসলাম

এবারের সম্মেলনে বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. রফিকুল ইসলাম “Total Tubeless Mini-PCNL” বিষয়ে গবেষণাধর্মী উপস্থাপনা করেন।

কিডনির পাথর অপসারণে Mini-Percutaneous Nephrolithotomy বা Mini-PCNL একটি মিনিমালি ইনভেসিভ পদ্ধতি। Total Tubeless পদ্ধতিতে নির্বাচিত রোগীর ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচারের পর প্রচলিত নেফ্রোস্টমি টিউব ও ইউরেটেরিক স্টেন্ট ছাড়াই চিকিৎসা সম্পন্ন করার লক্ষ্য থাকে।

বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটিতে অধ্যাপক রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন ইউরোলজি দল বর্তমানে এ পদ্ধতি নিয়মিত ব্যবহার করছে। চলতি বছরের জুলাইয়ে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়টির চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, এ পদ্ধতিতে উপযুক্ত রোগীর হাসপাতালে থাকার সময় ও চিকিৎসা ব্যয় কমানো এবং দ্রুত স্বাভাবিক জীবনে ফেরার সুযোগ তৈরি হতে পারে। 

চীনের সম্মেলনে অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম পদ্ধতিটির কার্যকারিতা, নিরাপত্তা, চিকিৎসার ফলাফল এবং বাংলাদেশের মতো দেশে এর প্রয়োগের সম্ভাবনা তুলে ধরেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

বাংলাদেশের পাঁচ ইউরোলজিস্টের অংশগ্রহণ

বাংলাদেশি প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, বাংলাদেশ মেডিকেল ইউনিভার্সিটির ইউরোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. সাইফুল ইসলাম, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ইউরোলজিক্যাল সার্জনসের সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. শফিকুর রহমান এবং ডা. খন্দকার মাহবুব হোসেন।

অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাসের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালনের বিষয়টি সরকারি সূত্রেও নিশ্চিত করা হয়েছে। তিনি নিজেও ইউরোলজি বিশেষজ্ঞ এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইউরোলজি বিভাগের চিকিৎসক ছিলেন। 

সংশ্লিষ্টদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অধ্যাপক প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অধ্যাপক সাইফুল ইসলাম, অধ্যাপক শফিকুর রহমান ও অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম নিজ নিজ গবেষণা ও প্রবন্ধ উপস্থাপনের পাশাপাশি সম্মেলনের বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক সেশনে চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন।

আলোচনায় ক্যানসার থেকে রোবোটিক সার্জারি

সম্মেলনে Onco-Urology, Urolithiasis, Female Urology এবং Laparoscopic ও Robotic Surgery-সহ ইউরোলজির বিভিন্ন শাখায় গবেষণা, নতুন প্রযুক্তি ও চিকিৎসাপদ্ধতি নিয়ে আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, বৈজ্ঞানিক উপস্থাপনার পাশাপাশি লাইভ সার্জিক্যাল ওয়ার্কশপও অনুষ্ঠিত হয়।

আয়োজক প্রতিষ্ঠান Second Affiliated Hospital of Kunming Medical University ইউরোলজি চিকিৎসা ও গবেষণায় চীনের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তথ্য অনুযায়ী, হাসপাতালটির ইউরোলজি বিভাগ National Key Clinical Specialty Construction Project-এর অন্তর্ভুক্ত এবং মিনিমালি ইনভেসিভ ইউরোলজিক্যাল সার্জারিতে প্রতিষ্ঠানটির বিশেষ সক্ষমতা রয়েছে। 

চীন-বাংলাদেশ চিকিৎসা সহযোগিতা বাড়ানোর আলোচনা

সম্মেলনের পাশাপাশি Second Affiliated Hospital of Kunming Medical University এবং Bangladesh Medical University-এর মধ্যে শিক্ষা ও চিকিৎসা সহযোগিতা আরও সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা হয়েছে বলে বাংলাদেশি প্রতিনিধিদল সূত্র জানিয়েছে।

দুই প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বিদ্যমান সমঝোতা স্মারকের আওতায় শিক্ষা, যৌথ গবেষণা, চিকিৎসক ও বিশেষজ্ঞ বিনিময়, প্রশিক্ষণ এবং আধুনিক চিকিৎসা প্রযুক্তি আদান-প্রদানের কার্যক্রম আরও কার্যকরভাবে এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে আগ্রহ প্রকাশ করা হয়েছে।

বাংলাদেশি প্রতিনিধিরা সম্মেলন শেষে দেশে ফিরেছেন। সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের মতে, এ ধরনের আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনে বাংলাদেশের গবেষণা ও ক্লিনিক্যাল অভিজ্ঞতা তুলে ধরার পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়ের সুযোগ দেশের ইউরোলজি চিকিৎসার সক্ষমতা আরও বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন