অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

হাম-ডেঙ্গুতে একদিনে আরও ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীর ঢল

• হাম ও উপসর্গে ৩ শিশুসহ মৃত্যু বেড়ে ১,০২২
• ২৪ ঘণ্টায় হাম শনাক্ত ও উপসর্গ মিলিয়ে নতুন রোগী ৯৬৮
• ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ১,৫৬১
• চলতি বছর ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১৪৯, সেপ্টেম্বরের ১৩ দিনেই ৫২

দেশে হাম ও ডেঙ্গুর প্রকোপ উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় রোগ দুটি কেড়ে নিয়েছে আরও ৯ জনের প্রাণ। এর মধ্যে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, আর ডেঙ্গুতে মারা গেছেন ছয়জন। একই সময়ে হাম শনাক্ত ও উপসর্গ দেখা গেছে আরও ৯৬৮ জনের মধ্যে এবং ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ হাজার ৫৬১ জন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম ও ডেঙ্গুবিষয়ক পৃথক নিয়মিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানানো হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হিসাবে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১ হাজার ২২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে চলতি বছরের শুরু থেকে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৪৯ জনে।

বিশেষ করে সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর গতি উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। মাসটির প্রথম ১৩ দিনেই রোগটিতে ৫২ জনের মৃত্যু হয়েছে। জুলাইয়ে মারা গিয়েছিলেন ৩৬ জন এবং আগস্টে ৪৩ জন।

হাম ও উপসর্গে মৃত্যু ১,০২২

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হামবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগে দুজন এবং চট্টগ্রাম বিভাগে একজন মারা গেছে।

এ নিয়ে ১৫ মার্চ থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে মোট মৃত্যু দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ২২ জনে। তাদের মধ্যে নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হওয়ার পর মারা গেছে ১০০ শিশু এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯২২ শিশুর।

একই সময়ে নতুন করে ৬৩ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। আরও ৯০৫ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা গেছে। অর্থাৎ একদিনে নিশ্চিত ও উপসর্গযুক্ত রোগী মিলিয়ে নতুন করে ৯৬৮ জন আক্রান্তের তালিকায় যুক্ত হয়েছে।

গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ২০ হাজার ৬৯ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে। একই সময়ে ১ লাখ ৭১ হাজার ৫৪৩ জনের মধ্যে হামের উপসর্গ পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

হাসপাতালে ভর্তি দেড় লাখের বেশি

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে রোববার পর্যন্ত হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ২৪ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

তাদের মধ্যে চিকিৎসা শেষে ১ লাখ ৪৫ হাজার ২৫২ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছেন।

শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক ভাইরাসজনিত রোগ। উচ্চ জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল ও পানিযুক্ত হওয়া, মুখ ও গলার ভেতরে ছোট সাদা দাগ এবং শরীরে লালচে ফুসকুড়ি বা র‌্যাশ এর পরিচিত লক্ষণ। রোগটির ঝুঁকি কমাতে শিশুদের নির্ধারিত টিকা ও পর্যাপ্ত পুষ্টি নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

ডেঙ্গুতে একদিনে ৬ মৃত্যু

অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গুবিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও ছয়জন মারা গেছেন। এতে চলতি বছর এডিস মশাবাহিত রোগটিতে মোট মৃত্যু বেড়ে ১৪৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

গত ২৪ ঘণ্টায় মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগে দুজন করে চারজন এবং ঢাকা ও ময়মনসিংহ বিভাগে একজন করে দুজন রয়েছেন।

একই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে ১ হাজার ৫৬১ জন ভর্তি হয়েছেন।

ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩০৭ রোগী

গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকা বিভাগে সর্বোচ্চ ৩০৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ ছাড়া খুলনা বিভাগে ২৭৫, বরিশালে ২০২, চট্টগ্রামে ১৮১, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকায় ১৭৬, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৪৪, রাজশাহীতে ১০৪, ময়মনসিংহে ৯৩, রংপুরে ৭৩ এবং সিলেট বিভাগে ছয়জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

চলতি বছর ডেঙ্গুতে সবচেয়ে বেশি মৃত্যু হয়েছে ঢাকা বিভাগে। দুই সিটি করপোরেশনসহ ঢাকা বিভাগে এ পর্যন্ত ৭৫ জনের মৃত্যু হয়েছে।

এ ছাড়া খুলনায় ২৭, ময়মনসিংহে ১৫, বরিশালে ১২, চট্টগ্রামে ১২, রাজশাহীতে ছয় এবং রংপুর ও সিলেটে একজন করে মারা গেছেন।

সেপ্টেম্বরের ১৩ দিনেই ৫২ মৃত্যু

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ডেঙ্গুতে মৃত্যু বাড়ছে। জুলাইয়ে ৩৬ জনের মৃত্যুর পর আগস্টে তা বেড়ে হয় ৪৩। আর সেপ্টেম্বরের মাত্র প্রথম ১৩ দিনেই মৃত্যু হয়েছে ৫২ জনের।

চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৩ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সব মিলিয়ে ডেঙ্গুতে ১৪৯ জনের মৃত্যু হয়েছে।

দ্রুত চিকিৎসা নেওয়ার পরামর্শ

বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অধ্যাপক ডা. আব্দুল্লাহ আল-মামুন বলেন, জনসচেতনতার ঘাটতি হাম ও ডেঙ্গু—দুই রোগের ঝুঁকিই বাড়িয়ে দিচ্ছে। লক্ষণ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া অথবা নিকটস্থ হাসপাতালে যাওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

তার মতে, শহরের পাশাপাশি প্রত্যন্ত গ্রামাঞ্চলেও স্বাস্থ্যসেবা পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

এদিকে ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে জনগণকে সম্পৃক্ত করে দেশব্যাপী পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন