মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গাইবান্ধায় ডিবির সাঁড়াশি অভিযান: উদ্ধার ২২ চোরাই মোবাইল, জেলে ২, চক্রের নেপথ্যের তথ্য উদঘাটন


গাইবান্ধায় জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) পুলিশের ধারাবাহিক সাঁড়াশি অভিযানে চোরাই মোবাইল বেচাকেনার একটি সক্রিয় চক্রের স ন্ধান মিলেছে। অভিযানে বিভিন্ন স্থান থেকে মোট ২২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে। একই সঙ্গে মোবাইল চুরি ও চোরাই মোবাইল কেনাবেচার সঙ্গে জড়িত পাঁচজনকে আটক করা হয়। তাদের মধ্যে তিনজনকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে ছেড়ে দেওয়া হলেও দুইজনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ডিবি সূত্রে জানা যায়, সম্প্রতি গাইবান্ধা শহর ও আশপাশের এলাকায় মোবাইল ফোন চুরি এবং ছিনতাইয়ের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ডিবি পুলিশের একটি বিশেষ টিম বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে প্রথমে ২২টি মোবাইল ফোন উদ্ধার এবং চক্রের তিন সক্রিয় সদস্যকে আটক করে।
পরবর্তীতে ডিবির অনুসন্ধান ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আরও অভিযান পরিচালনা করা হলে প্রায় সাড়ে আট লাখ টাকা মূল্যের অতিরিক্ত মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়। এসবের মধ্যে রয়েছে ৮টি অত্যাধুনিক স্মার্টফোন এবং ৯টি বাটন ফোন।
ডিবি পুলিশের অভিযানে গ্রেফতার হয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে যাওয়া দুই ব্যক্তি হলেন গৌর চন্দ্র বিশ্বাস, পিতা- গোবিন্দ চন্দ্র বিশ্বাস, কলেজপাড়া, গাইবান্ধা এবং সুজন মিয়া, পিতা- মো. মজিবর রহমান, মধ্য ফলিয়া,গাইবান্ধা সদর, এলাকার বাসিন্দা। সুজন মিয়া শহরের হকার্স মার্কেট এলাকায় পান ব্যবসার সঙ্গে জড়িত বলে জানা গেছে।
গোয়েন্দা পুলিশের অভিযান গাইবান্ধা শহরের সার্কুলার রোড এলাকার ফিরোজা মার্কেটসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে পরিচালিত হয়। এছাড়া শহরের আয়াত টেলিকম নামের একটি প্রতিষ্ঠান থেকেও একটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে।
জানা গেছে, জেলা গোয়েন্দা শাখার ওসি আব্দুল মোতালেব সরকারের নেতৃত্বে পরিচালিত এ অভিযানে ডিবির একাধিক চৌকস সদস্য অংশ নেন। দীর্ঘদিন ধরে চলা চোরাই মোবাইল কেনাবেচা চক্রের বিরুদ্ধে এই অভিযানকে বড় ধরনের সাফল্য হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
ডিবি পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, “মোবাইল চুরি ও চোরাই মোবাইলের অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। উদ্ধারকৃত মোবাইল ফোনগুলো প্রকৃত মালিকদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।”
গাইবান্ধাবাসীর মধ্যে ডিবির এ সফল অভিযান ইতোমধ্যে ব্যাপক প্রশংসা কুড়িয়েছে। সাধারণ মানুষের প্রত্যাশা, এমন ধারাবাহিক অভিযানের মাধ্যমে মোবাইল চুরি ও চোরাই পণ্যের অবৈধ বাজার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আসবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন