মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দেশের সরকারি হাসপাতালে ১১ হাজার ৪৯৫ চিকিৎসকের পদ শূন্য

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ শূন্য রয়েছে। সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত মোট ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন ৩০ হাজার ৩১১ জন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেনের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে এ তথ্য জানান স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের অনুমোদিত ৪১ হাজার ৮০৬টি পদের মধ্যে ৩০ হাজার ৩১১টি পদে চিকিৎসক কর্মরত আছেন। ফলে বর্তমানে শূন্য রয়েছে ১১ হাজার ৪৯৫টি পদ, যা অনুমোদিত পদের প্রায় ২৭ শতাংশ।

জনসংখ্যার অনুপাতে প্রয়োজন প্রায় ৮৯ হাজার চিকিৎসক

সংসদে দেওয়া তথ্যে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, দেশের জনসংখ্যার অনুপাতে চিকিৎসকের প্রয়োজনীয়তা নির্ধারণে আন্তর্জাতিক ও জাতীয় স্বাস্থ্য জনবল মানদণ্ড বিবেচনা করা হয়।

সরকারি অর্থায়নে পরিচালিত ২০২৬ সালের একটি গবেষণার তথ্য তুলে ধরে তিনি জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) ন্যূনতম মানদণ্ড অনুযায়ী প্রতি এক হাজার মানুষের জন্য শূন্য দশমিক ৫০ জন চিকিৎসক প্রয়োজন। এ মানদণ্ড বিবেচনায় ২০২৬ সালে বাংলাদেশের জন্য প্রায় ৮৮ হাজার ৯০৯ জন চিকিৎসকের প্রয়োজন হবে।

তবে দেশের মোট চিকিৎসকের সংখ্যা এবং সরকারি স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় কর্মরত চিকিৎসকের সংখ্যা এক নয় বলেও সংসদে উল্লেখ করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী। অর্থাৎ দেশে চিকিৎসকের সামগ্রিক সংখ্যা বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসক নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে জানান তিনি।

শূন্য পদ পূরণে নিয়োগ কার্যক্রম

সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকের শূন্য পদ পূরণ এবং জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের সংখ্যা বাড়াতে সরকার বিভিন্ন নিয়োগ কার্যক্রম গ্রহণ করেছে বলে জানান সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।

তিনি বলেন, ৪৪তম ও ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের মাধ্যমে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক চিকিৎসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ৪৫তম, ৪৬তম, ৪৭তম ও ৫০তম বিসিএসের মাধ্যমে সহকারী সার্জন নিয়োগের কার্যক্রমও চলমান রয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও জানান, চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ করা হবে। পাশাপাশি জনগণের প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টির উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।

মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিতের লক্ষ্য

সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসকের শূন্যপদ দীর্ঘদিন ধরে স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। বিশেষ করে জেলা, উপজেলা ও প্রত্যন্ত এলাকার সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে প্রয়োজনের তুলনায় চিকিৎসকের সংখ্যা কম থাকায় রোগীদের কাঙ্ক্ষিত সেবা পেতে নানা সমস্যায় পড়তে হয়।

সংসদে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুমোদিত পদের বিপরীতে প্রায় এক-চতুর্থাংশের বেশি পদ বর্তমানে শূন্য। এসব পদ পূরণ হলে সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক সংকট কিছুটা কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, সরকারের চলমান নিয়োগ কার্যক্রমের মাধ্যমে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানের শূন্য পদগুলো পর্যায়ক্রমে পূরণ এবং প্রয়োজন অনুযায়ী নতুন পদ সৃষ্টি করা হবে। এর মাধ্যমে দেশের জনগণের জন্য সহজলভ্য, মানসম্মত ও জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন