মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাইফুজ্জামান দম্পতির যুক্তরাষ্ট্রের সম্পদের খোঁজে দুদক, তথ্য দিল এফবিআই

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্ত্রী রুকমীলা জামানের যুক্তরাষ্ট্রে থাকা ব্যাংক হিসাব, ব্যবসা ও সম্পত্তির রেকর্ড পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। বাংলাদেশ সরকারের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এসব তথ্য ও তদন্তসংক্রান্ত নথি পাঠিয়েছে দেশটির ফেডারেল ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই)।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুদকের প্রধান কার্যালয়ে নিয়মিত মিডিয়া ব্রিফিংয়ে কমিশনের জনসংযোগ বিভাগের উপপরিচালক মো. আকতারুল ইসলাম এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর বিদেশে থাকা সম্পদ সম্পর্কে অনুসন্ধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পারস্পরিক আইনি সহায়তার অনুরোধ (এমএলএআর) পাঠিয়েছিল দুদক। সেই অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতেই এফবিআই সংশ্লিষ্ট তথ্য ও নথি সরবরাহ করেছে।

দুদক সূত্র ও সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর সম্পদের তথ্যের পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব, ব্যবসায়িক কার্যক্রম ও সম্পত্তির রেকর্ড চাওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে কথিত অপরাধলব্ধ সম্পদ শনাক্ত, জব্দ ও বাজেয়াপ্তের প্রক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা চাওয়া হয়।

তবে এফবিআইয়ের পাঠানো নথিতে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর ঠিক কত সম্পদ শনাক্ত হয়েছে, সম্পদের বর্তমান মূল্য কত কিংবা যুক্তরাষ্ট্রে কোনো সম্পদ এরই মধ্যে জব্দ বা বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে কি না—এসব বিষয়ে দুদকের পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ভবিষ্যতে তথ্য পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধান ও আদালতের নথি অনুযায়ী, সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ ও তার স্বার্থসংশ্লিষ্টদের বিদেশে থাকা সম্পদ নিয়েও এর আগে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। গত ১৩ জানুয়ারি দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার একটি আদালত সাত দেশে থাকা সংশ্লিষ্ট সম্পত্তি জব্দের নির্দেশ দেন। ওই আবেদনে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পত্তির ক্রয়মূল্য ৪৩৬ কোটি ৮৮ লাখ ৬৫ হাজার ২৪২ টাকা দেখানো হয়েছিল।

সাইফুজ্জামান চৌধুরী ২০১৪ থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এবং ২০১৯ থেকে ২০২৩ সাল পর্যন্ত ভূমিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। ২০২৪ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে তার বিরুদ্ধে বিদেশে বিপুল সম্পদ গড়ে তোলার অভিযোগ নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরবর্তী সময়ে তার বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থপাচার ও ব্যাংক ঋণসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগে দুদকের একাধিক অনুসন্ধান ও মামলা সামনে আসে।

কায়কাউসের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধানের সুপারিশ

এদিকে ভারতের আদানি পাওয়ারের সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের বিদ্যুৎ ক্রয় চুক্তিতে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগের বিষয়েও দুদকের অনুসন্ধান জোরদার হয়েছে। এই চুক্তির সঙ্গে সংশ্লিষ্টতা এবং অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সাবেক মুখ্যসচিব ও সাবেক বিদ্যুৎ সচিব ড. আহমদ কায়কাউসের বিরুদ্ধেও অনুসন্ধানের সুপারিশ করেছে দুদকের সংশ্লিষ্ট টিম।

দুদকের তথ্য অনুযায়ী, কায়কাউসের বিরুদ্ধে আদানি থেকে বিদ্যুৎ আমদানিতে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি, অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের পাশাপাশি তার সম্পদের উৎস ও অর্জনের বৈধতা যাচাইয়ের বিষয়টিও অনুসন্ধানের আওতায় আনার সুপারিশ করা হয়েছে।

বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ও সম্পদের তথ্য উদ্ধারে বিভিন্ন দেশের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পারস্পরিক আইনি সহায়তার মাধ্যমে তথ্য সংগ্রহ করছে দুদক। যুক্তরাষ্ট্র থেকে সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার স্ত্রীর সম্পদের নথি পাওয়ার ঘটনাকে সেই আন্তর্জাতিক সহযোগিতা প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রাপ্ত নথি পর্যালোচনার পর অভিযোগের সত্যতা ও সম্পদের উৎস সম্পর্কে পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন