মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে গাড়িবহরের কাছে, মুবিন ৫ দিনের রিমান্ডে

রাজধানীর ফার্মগেটে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের একটি অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে নির্ধারিত নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে মোটরসাইকেল নিয়ে গাড়িবহরের মধ্যে ঢোকার চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার মুহিবুল্লাহ মুবিনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে পাঠিয়েছেন আদালত।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হকের আদালত উভয় পক্ষের শুনানি শেষে এ আদেশ দেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ঢাকা মহানগর আদালতের অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন।

আদালত সূত্রে জানা যায়, সোমবার দুপুরে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তেজগাঁও থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুর রহমান আসামি মুহিবুল্লাহ মুবিনকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী শামসুদ্দোহা সুমন রিমান্ডের পক্ষে শুনানি করেন। অন্যদিকে আসামিপক্ষের আইনজীবীরা রিমান্ডের বিরোধিতা করে মুবিনের জামিন আবেদন করেন।

উভয় পক্ষের বক্তব্য শুনে আদালত আসামি মুহিবুল্লাহ মুবিনের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে গাড়িবহরের কাছে

এর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি আলোচনায় আসে। ভিডিওতে দেখা যায়, হেলমেট পরা এক যুবক মোটরসাইকেল নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের নির্ধারিত নিরাপত্তাবেষ্টনীর মধ্যে ঢুকে পড়ছেন।

একপর্যায়ে তাকে প্রধানমন্ত্রীর পতাকাশোভিত গাড়ির বাঁ পাশের জানালার কাছাকাছি যেতে দেখা যায়। চলন্ত মোটরসাইকেল থেকেই তিনি গাড়ির দিকে হাত উঁচিয়ে সালাম করেন বলে ভিডিওতে দেখা যায়।

তার এ আচরণে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা পুলিশ সদস্যরা তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আটক করেন। পরে তাকে তেজগাঁও থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

দেহতল্লাশিতে সন্দেহজনক কিছু মেলেনি

ঘটনার দিন আটকের পর তেজগাঁও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মুনিরুজ্জামান জানিয়েছিলেন, মুবিনের দেহতল্লাশি করে সন্দেহজনক কোনো কিছু পাওয়া যায়নি। তবে নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেঙে গাড়িবহরের কাছে যাওয়ার তার আচরণকে রহস্যজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়, মুবিনের নিজ এলাকা বরিশালের বাবুগঞ্জে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছিল।

নেপথ্যে আর কেউ আছে কি না, তদন্তে

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই আসাদুর রহমান জানিয়েছেন, নিরাপত্তাবেষ্টনী ভেদ করে মুবিনের প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরের কাছে যাওয়ার পেছনে অন্য কোনো কারণ ছিল কি না, কিংবা এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত ছিল কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

তিনি বলেন, রিমান্ডে মুবিনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তার বক্তব্য ও অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত যাচাই করে তদন্ত এগিয়ে নেওয়া হবে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, আটক মুহিবুল্লাহ মুবিন বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলার দেহেরগতি ইউনিয়নের রাকুদিয়া গ্রামের প্রয়াত প্রধান শিক্ষক ইউনুস মাঝির ছেলে। তিনি ঢাকায় রাইড শেয়ারিংয়ের কাজ করতেন বলে জানা গেছে।

এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তাবেষ্টনী অতিক্রম করে গাড়িবহরের কাছে যাওয়ার ঘটনাটি নিরাপত্তাব্যবস্থার দিক থেকেও গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্তে মুবিনের উদ্দেশ্য, ঘটনার নেপথ্য কারণ এবং সংশ্লিষ্ট অন্য কারও ভূমিকা ছিল কি না—এসব বিষয়ই এখন গুরুত্ব পাচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন