শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান, দর্শনার্থীকে ভেতরে নেওয়া নিয়ে আনসারের ব্যাখ্যা

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় এক দর্শনার্থীকে আগমনী গেটের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও নিয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী।

বাহিনীটি বলছে, নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান করে নিরাপত্তাকর্মীদের নির্দেশনা অমান্য এবং দায়িত্ব পালনরত আনসার সদস্যদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের পর অ্যাভসেকের (AVSEC) একজন কর্পোরালের নির্দেশেই ওই ব্যক্তিকে আগমনী গেটের অভ্যন্তরে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আনসারের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ১ সেপ্টেম্বর শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় একজন যাত্রীর স্বজন আগমনী গেটের পাশে নিষিদ্ধ স্থানে অবস্থান করছিলেন। বিমানবন্দরের নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলার স্বার্থে ওই এলাকায় সাধারণ যাত্রী বা স্বজনদের অবস্থান নিষিদ্ধ থাকায় কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা তাকে সরে যেতে একাধিকবার অনুরোধ ও নির্দেশনা দেন।

তবে ওই ব্যক্তি নির্দেশনা উপেক্ষা করে সেখানে অবস্থান অব্যাহত রাখেন এবং আগমনী গেটের অভ্যন্তরে বারবার উঁকিঝুঁকি দিতে থাকেন বলে বিজ্ঞপ্তিতে দাবি করা হয়।

একপর্যায়ে আনসার সদস্যরা তাকে সরে যেতে বললে তিনি দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের সঙ্গে ঠাট্টা-বিদ্রুপ, অশোভন মন্তব্য, গালাগালি ও অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন বলে জানায় বাহিনীটি।

বিষয়টি দায়িত্ব পালনরত অ্যাভসেকের এক কর্পোরালের নজরে এলে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই ব্যক্তিকে নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান না করার নির্দেশ দেন। এ সময় তার সঙ্গে কর্পোরালের বাকবিতণ্ডা হয় এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

পরে অ্যাভসেকের ওই কর্পোরাল কর্তব্যরত আনসার সদস্যদের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে আগমনী গেটের অভ্যন্তরে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেন। আনসারের দাবি, ওই নির্দেশনার পরই সদস্যরা তাকে সেখানে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব পালন করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরবর্তী প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রহণ করেছে।

আনসার বাহিনী বলছে, বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল স্থাপনায় নিরাপত্তা বিধি এবং প্রবেশ-নিষেধাজ্ঞা কার্যকর রাখা নিরাপত্তাকর্মীদের নিয়মিত দায়িত্বের অংশ। নিষিদ্ধ এলাকায় কেউ অবস্থান করলে তাকে সরিয়ে নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনার স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।

বাহিনীটির ভাষ্য, ওই ঘটনায় আনসার সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগে কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেননি; বরং দায়িত্বপ্রাপ্ত অ্যাভসেক কর্মকর্তার নির্দেশনা অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে নির্ধারিত স্থানে নিয়ে গেছেন।

সম্প্রতি ‘আনসার সদস্যদের সঙ্গে খারাপ আচরণ, টেনে-হিঁচড়ে টার্মিনালের ভেতরে নেওয়া হলো দর্শনার্থীকে’ শিরোনামে একটি ভিডিও ও ক্যাপশন বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ায় বাহিনীর গোয়েন্দা শাখা ঘটনার বিষয়ে অনুসন্ধান করে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী বলেছে, সংক্ষিপ্ত ভিডিও বা একপাক্ষিক ক্যাপশনের পরিবর্তে ঘটনার পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে তথ্য প্রকাশ করা প্রয়োজন। বিমানবন্দরের মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় দায়িত্ব পালনরত সদস্যদের কার্যক্রম মূল্যায়নের ক্ষেত্রে প্রকৃত ঘটনা তুলে ধরার জন্য সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানিয়েছে বাহিনীটি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন