জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতিই জাতির অগ্রগতির চাবিকাঠি : আইনমন্ত্রী
- নিজস্ব প্রতিবেদক
- ১৪ ঘণ্টা আগে
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বলেছেন, জাতিকে এগিয়ে নিতে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে দক্ষ করে গড়ে তুলতে জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতি অপরিহার্য।
শুক্রবার বিকেলে বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার ও জাতীয়তাবাদী প্রকাশনা সংস্থা আয়োজিত ‘জিয়া স্মৃতি বইমেলা-২০২৬’-এর দ্বিতীয় দিনের আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার(বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী।
মন্ত্রী এ সময় বলেন, শুধু জিন্দাবাদ স্লোগানে আগামীর প্রজন্মকে আমরা যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে পারব না। এর জন্য প্রয়োজন জ্ঞানের বিকাশ। আগামীর বিশ্বে বিএনপিকে এগিয়ে নিতেও প্রয়োজন জ্ঞানের বিকাশ।
জিয়া স্মৃতি বইমেলা আয়োজকদের উদ্দেশে আইনমন্ত্রী বলেন, এই বইমেলাটি জাতীয়তাবাদী রাজনীতির জন্য নিঃসন্দেহে একটি মাইলফলক হিসেবে থাকবে।
আইনমন্ত্রী আসাদুজ্জামান আরও বলেন, বাংলাদেশের যা কিছু শ্রেষ্ঠ অর্জন তার সবই শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের হাত ধরেই এসেছে। ১৯৭১ সালে গোটা জাতি যখন দ্বিধাবিভক্ত ছিল, তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্ব যখন স্বাধীনতার ঘোষণা দিতে গড়িমসি করেছিল, গোটা বাংলাদেশের মানুষ যখন স্বাধীনতামুখী ছিল তখন জিয়াউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে এ দেশের মানুষকে মুক্তির পথ দেখিয়েছেন।
তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর জিয়াউর রহমান যখন ব্যারাকে ফিরে গিয়েছিলেন, ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সময়কালে বাংলাদেশে রক্তের হোলিখেলা চলেছে। জাসদের ৩০ হাজার নেতাকর্মীকে হত্যা করা হয়েছিল। সে সময় কেরানীগঞ্জের সিদ্দিক মাস্টার বাংলাদেশে প্রথম গুমের শিকার হয়েছিলেন। কারণ তিনি শেখ মুজিবের দর্শন পছন্দ করতেন না। বাংলাদেশের প্রথম বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছিলেন সিরাজ শিকদার। সে বিষয়ে শেখ মুজিব পার্লামেন্ট উচ্চকণ্ঠে বলেছিলেন, ‘কোথায় আজ সিরাজ শিকদার’। ১৯৭২ থেকে ১৯৭৫ সময়ে ৩০ হাজার তরতাজা প্রাণকে জীবন দিতে হয়েছিল।
আইনমন্ত্রী আরও বলেন, খন্দকার মোশতাকের ষড়যন্ত্রে শেখ মুজিব নিহত হয়েছিলেন। সে সময় সেনাবাহিনীর মধ্যে ক্যু-পাল্টা ক্যু শুরু হয়। উত্তাল সেই দিনগুলোতে যখন এ দেশের মানুষ আবারও দিশেহারা হয়ে যায় তখন জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের মানুষকে রক্ষা করেছিলেন। এটাই জিয়াউর রহমানের রাজনীতি।
আইনমন্ত্রী বলেন, শহীদ জিয়াউর রহমান দায়িত্ব নিয়ে এ দেশের গণতন্ত্রের দ্বার উন্মোচন করেছেন। ১৯৭৫ সালের ২৫ জানুয়ারি বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ড নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল। সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা হরণ করা হয়েছিল। কিন্তু জিয়াউর রহমান এসে সকল দ্বার উন্মোচন করে দিয়েছেন। মানুষের জীবনে শান্তি ফিরিয়ে দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, দীর্ঘ সংগ্রামী জীবনে শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের আদর্শের সৈনিকেরা জীবন দিয়েছেন। বিএনপির ৭০০-এর বেশি নেতাকর্মী গুম হয়েছে। ৬০ লাখের বেশি বিএনপি নেতাকর্মীর নামে মামলা করা হয়েছিল। গত জুলাই আন্দোলনে এই প্রজন্মের ৩০ হাজারের বেশি মানুষকে পঙ্গু করা হয়েছে। শহীদ জিয়া যে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলেন সে স্বাধীনতাকে টিকিয়ে রাখতে ছাত্রদলকে গড়ে তোলা দরকার।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাসসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কাদের গনি চৌধুরী বলেন, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান আমাদের জাতিসত্তার রূপকার। জিয়াউর রহমান প্রকৃত অর্থে গত ৫৫ বছরে বাংলাদেশের একমাত্র স্টেটসম্যান। স্বাধীনতা-উত্তর শ্বাপদসংকুল রাজনৈতিক, সামরিক পথপরিক্রমা, দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রে দিশাহীন জাতিকে দেখিয়েছিলেন আলোর পথ। জিয়াউর রহমান ছিলেন সত্যিকার অর্থেই আমাদের বাতিঘর। মাত্র সাড়ে তিন বছরের শাসনামলে তলাবিহীন ঝুড়ি থেকে দেশকে এগিয়ে নিয়েছেন কৃষি, শিল্প, মানবসম্পদ উন্নয়নে স্বনির্ভরতার দিকে। দেশে প্রতিষ্ঠিত করেছেন বহুদলীয় গণতন্ত্র এবং বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ।
বাসস সম্পাদক আরও বলেন, জিয়াউর রহমান এ দেশে একটি সাংস্কৃতিক জাগরণ চেয়েছিলেন। সাংস্কৃতিক বিকাশের জন্য এ দেশে যা কিছু প্রয়োজন তার সবই করেছেন তিনি।
কাদের গনি আরও বলেন, জিয়াউর রহমান আধুনিক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের স্থপতি। জিয়াউর রহমানকে যে বিশেষণেই বিশেষায়িত করা হোক না কেন, তাতে তাঁর যোগ্যতার পূর্ণ প্রকাশ ঘটে না, কারণ তাঁর কীর্তি বিপুল ও বিশাল। জাতির প্রতিটি সংকটময় মুহূর্তে তিনি বারবার দাঁড়িয়েছেন নির্ভয়ে মাথা উঁচু করে। অসীম সাহসিকতা, দূরদর্শিতা, প্রজ্ঞা ও দেশপ্রেম নিয়ে তিনি সময়ের প্রয়োজনে আলোর দ্যুতি নিয়ে এগিয়ে এসেছেন। বিপর্যস্ত জাতিকে রক্ষা করেছেন সর্বোচ্চ ঝুঁকি নিয়ে। আমাদের অহংকারের অধ্যায়কে তিনি আলোকিত ও সমৃদ্ধ করেছেন। অল্পদিনের জীবনে বিশাল তাঁর অর্জন। মাত্র ৪৫ বছর বয়সে তিনি কর্মগুণে জ্যোতির্ময় হতে পেরেছিলেন; যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল।
জিয়াউর রহমান এ দেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছেন উল্লেখ করে কাদের গনি বলেন, ১৯৭১ সালে ত্রিশ লাখ শহীদের রক্তের বিনিময়ে বাংলাদেশ স্বাধীনতা পেলেও গণতন্ত্র পায়নি। শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭৫ সালে দেশের সব রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করে গণবিমুখ একদলীয় বাকশালী ব্যবস্থা চালু করেন। সে দিনগুলোতে গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বাকস্বাধীনতা, রাজনৈতিক মতপ্রকাশের কোনো স্বাধীনতা ছিল না। গণমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করা হয়েছিল। একদল, এক ব্যক্তির শাসনে গোটা দেশ এক বন্দিশালায় পরিণত হয়েছিল। জনগণ গণতন্ত্রের স্বাদ উপভোগ করতে পারেননি। জিয়াউর রহমান ক্ষমতায় আসার পর গণতন্ত্রের দরজা উন্মুক্ত করে দেন। তিনি উপলব্ধি করেন যে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে হলে অবশ্যই মত ও পথের শত ফুল ফুটতে দিতে হবে। এই লক্ষ্য ও মানসেই তিনি ১৯৭৬ সালে ‘রাজনৈতিক দল বিধি ১৯৭৬’ জারি করেন। এর ফলে আওয়ামী লীগসহ দেশে সব রাজনৈতিক দলের পুনরুজ্জীবনের সুযোগ ঘটে।
কাদের গনি আরও বলেন, জিয়া রাজনীতিকে প্রাসাদে বন্দি না করে সারা দেশে ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। জিয়ার প্রতি জনগণের ভালোবাসার কারণে বিএনপি শুরু থেকেই জনপ্রিয়তা পায়। পরবর্তীতে বিএনপির গণমুখী কর্মকাণ্ডের কারণে দলটি মানুষের আস্থা অর্জন করতে সক্ষম হয়। তাই জনগণ যখনই ভোট দিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পেয়েছে, তখনই বিএনপিকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় এনেছে।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগারের সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান মিন্টুর সভাপতিত্বে ও বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক আমানউল্লাহ আমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম প্রমুখ।
এই বিভাগের আরও খবর
ধর্মের ভিত্তিতে বৈষম্য নয়, সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বাংলাদেশে বসবাসকারী কোনো জনগোষ্ঠী বা সম্প্রদায়ের মানুষকে ‘সংখ্যালঘু’…
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় দেশবাসীকে সতর্ক থাকার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সামাজিক স্থিতিশীলতা নষ্ট করার…
২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ার লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে পরিণত…
গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপ করেও ফ্যাসিস্টরা রক্ষা পায়নি: তথ্যমন্ত্রী
গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ, সাংবাদিকদের ওপর নির্যাতন ও মামলা দিয়েও…
ট্রাইব্যুনালে নাশকতার শঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদার
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নাশকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে…
সর্বশেষ খবর
1.
3.
রূপগঞ্জে বিদেশি পিস্তল-গুলিসহ গ্রেপ্তার ৪
- ১০ ঘণ্টা আগে
4.
5.
দাম বাড়ার পর মিলছে বোতলের সয়াবিন তেল
- ১২ ঘণ্টা আগে
জনপ্রিয় বিভাগ সমূহ
আরও পড়ুন
কুয়াকাটাগামী পর্যটক বাস নিয়ন্ত্রন হারিয়ে পুকুরে, আহত-১৫
পটুয়াখালীর কলাপাড়ায় আইকনিক পরিবহনের একটি ডাবল ডেকার স্লিপার বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পুকুরে পড়ে অন্তত: ১৫ জন পর্যটক আহত হয়েছে। শুক্রবার…
পেনশনের ৬ কোটি ৬৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, অডিট কর্মকর্তা ইশরাত সাময়িক বরখাস্ত
অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তাদের পেনশন ও ভাতাদিসংক্রান্ত বকেয়া বিল প্রক্রিয়ায় অনিয়মের মাধ্যমে ৬ কোটি ৬৮ লাখ ৭০ হাজার ৯২৮ টাকা বিধিবহির্ভূতভাবে…
নেপালের টানেলে ৯ দিন পর উদ্ধার, ‘অন্যদের বাঁচাতে’ থেকে গিয়েছিলেন সঞ্জয়
পাহাড় ধসে যখন নেপালের জলবিদ্যুৎ প্রকল্পটির ওপর জল-কাদা-পথরের স্রোত আছড়ে পড়ে, তখন সঞ্জয় শাহের সামনে দুটি পথ খোলা ছিল— হয়…
রাষ্ট্রপতি হয়ে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন মির্জা ফখরুল, উৎসবের আমেজ
যে শহর তাকে দিয়েছে শৈশবের স্মৃতি, রাজনীতির প্রথম পাঠ আর মানুষের অকৃত্রিম ভালোবাসা, সেই শহরে এবার ফিরছেন রাষ্ট্রপতি হয়ে। তার…
ডেমরায় অটোরিকশাচালকের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার, যুবক আটক
রাজধানীর ডেমরায় মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে দেলোয়ার হোসেন দেলু (৪৫) নামে এক ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালককে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর)…
জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটে দালাল আটক, পুলিশের কাছে হস্তান্তর
রাজধানীর জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রোগীদের সহজে চিকিৎসা ও বিভিন্ন পরীক্ষা করিয়ে দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে…
নিষিদ্ধ এলাকায় অবস্থান, দর্শনার্থীকে ভেতরে নেওয়া নিয়ে আনসারের ব্যাখ্যা
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের ক্যানোপি-২ এলাকায় এক দর্শনার্থীকে আগমনী গেটের অভ্যন্তরে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত…
এক্সপ্রেসওয়ের ওপর স্কচটেপে মুখ বাঁধা মরদেহ, পরনে সিএনজি চালকের পোশাক
রাজধানীর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর থেকে স্কচটেপ দিয়ে মুখ বাঁধা এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তার পরনে ছিল সিএনজি…

