শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দাম বাড়ার পর মিলছে বোতলের সয়াবিন তেল

রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে গত দুই সপ্তাহ ধরে এক লিটারের সয়াবিন তেলের বোতলের সংকট দেখা গিয়েছিল। পাঁচ লিটারের বড় বোতল মিললেও বাজারের বড় দোকান ছাড়া এক লিটারের বোতল পাচ্ছিলেন না অনেকেই।

তবে দাম বাড়ানোর পর রাজধানীর পাড়া-মহল্লার মুদি দোকানেই এখন মিলছে বোতলের সয়াবিন। পাশাপাশি সপ্তাহের ব্যবধানে আবারও বেড়েছে আটা-ময়দার দাম। চড়া দামে স্থির রয়েছে ডিম ও মুরগির বাজার।

শুক্রবার রাজধানীর কয়েকটি বাজার ও এলাকা ঘুরে এমনই চিত্র দেখা গেছে।

গত মঙ্গলবার বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারে ১৯৯ থেকে পাঁচ টাকা বাড়িয়ে ২০৪ টাকা নির্ধারণ করে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। তবে খোলা সয়াবিল তেল ও পামতেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়। এছাড়া বর্তমানে দেশের বাজারে ভোজ্যতেলের পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে এবং কোনো সংকট নেই বলেও দাবি করেন বাণিজ্য সচিব আতাউর রহমান খান।

যদিও তার আগে থেকেই বাজারে সয়াবিনের ছোট বোতল পাচ্ছিলেন না বলে অভিযোগ করেছিলেন ক্রেতারা। বিক্রেতারাও বলেছিলেন, সয়াবিনের ছোট বোতল সরবরাহ কম থাকার কথা।

মোহাম্দপুর বসিলা সিটি হাউজিং এর ছোট মুদির দোকান ডেইলি নিড্স থেকে শুক্রবার সকালে সয়াবিনের এক লিটারের বোতল কেনেন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী অমিত হাসান। একটি মেসে ৬ জন একসঙ্গে এই আবাসিকের সি ব্লক ৬ নম্বর রোডে থাকনে তারা।

অমিত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আমাদের মেস মেম্বার বেশি; রান্নাও বেশি। তাই এক সপ্তাহ বা দশদিন পর পরই তেল শেষ হয়ে যায়। প্রায় সব মুদির বাজার এই দোকান থেকেই কিনি। গত সপ্তাহে এই দোকানে তেল না পাওয়ায় বড় বাজার থেকে কিনে আনি। আজ এখানে মিলছে। তবে দাম নিয়েছে ২০৪ টাকা।”

বসিলা সিটি হাউজিং ডেইলি নিডসের স্বাত্বাধিকারী তানভীর জয় বলেন, “১০/১২ দিন ধরে ডিলাররা ছোট বোতলের তেল দেয়নি। বড় বোতলগুলো (৫ লিটার) সহজলভ্য ছিল। কিন্ত দুই আগে ছোট বোতল আসা শুরু করছে। বেশি দামে কিনতে হয়েছে।”

এদিকে দুপুরে নাখালপাড়ায় গলির দোকানেও এক লিটার বোতল সয়াবিন তেল মিলছে। ক্রেতারা জানালেন, খুচরা দোকানে সয়াবিন তেল তারা সরকার নির্ধারিত নতুন দামে ২০৪ টাকাতেই কিনছেন। তবে সেনা ব্রান্ডের তেলের লিটার ২০০ টাকায় বিক্রি করছেন দোকানিরা।

সেনা ব্রান্ডের তেলের বোতলের দাম কম রাখা প্রসঙ্গে নাখালপাড়ার আস্থা এন্টারপ্রাইজের মুদি দোকানি নাহিয়ান রহমান বলেন, “আগের কিছু স্টক ছিল; ওগুলো ২০০ টাকা দামে ছাড়ছি। তবে মেঘনা বা বসুন্ধরার সয়াবিন তেল গতকাল (বৃহস্পতিবার) তুলেছি তাই নতুন দাম নিচ্ছি।”

বোতলজাত তেলের মত বেশি দামে কিনতে হচ্ছে খোলা সয়াবিন তেলও। মোহাম্মদপুর টাউনহল বাজারে শুক্রবার খোলা সয়াবিন প্রতি লিটার ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। প্রতি লিটার পাম তেল কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৭০ থেকে ১৭৫ টাকা। যদিও সরকার নির্ধারিত দাম প্রতিলিটার খোলা সয়াবিন ১৮০ ও পাম অয়েলে ১৬৩ টাকা।

খোলা তেলের দাম বেশি কেন প্রশ্নে মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেটের খোকন জেনারেল স্টোরের বিক্রেতা হুমায়ুন কবির বলেন, “খোলা সয়াবিন তেলের দাম মূলত আমরা যেই দামে পাই, সেটার ওপর নির্ভর করে। পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকলে, সরকার যে দাম ঠিক করে দিয়েছে, সেই দামে বিক্রি করে আমাদের পোষায় না। পরিবহন ও দোকানের খরচ লাগে। এখন পাইকারি বাজার থেকে বেশি দামে তেল কিনতে হয়, তাই খুচরায়ও বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।”

তেলের মতই সপ্তাহের ব্যবধানে আরেক দফা বেড়েছে আটা-ময়দার দামও। দোকানিরা বলছেন, গত এক মাস ধরে উর্ধ্বমুখী ময়দার দাম। গত সপ্তাহে কেজিতে সর্বোচ্চ ১০ টাকা বেড়ে খোলা ময়দা ৬৫ থেকে ৭০ টাকা এবং প্যাকেট ময়দা ৭০ থেকে ৭৫ টাকায় বিক্রি হয়েছে। এই সপ্তাহে আরো সাড়ে তিন শতাংশ দাম বেড়ে প্যাকেট ময়দার কেজি বিক্রি হচ্ছে ৮০ টাকা পর্যন্ত।

কেজিতে পাঁচ টাকা বেড়ে খোলা আটা ৪৫ থেকে ৫০ টাকা ও প্যাকেট আটা ৬০ থেকে ৬৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

গত সপ্তাহে ১০ টাকা বেড়ে বাজারে প্রতি কেজি চিনি ১২০ থেকে ১২৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছিল। প্যাকেটজাত চিনিরও সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য ১১০ টাকা।

সরকারি সংস্থা ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) শুক্রবার তাদের বাজার দরের তালিকা দেয়নি। বৃহস্পতিবার দেওয়া টিসিবির তথ্যে দেখা গেছে, এক মাসে খোলা আটার দাম ৩ দশমিক ১৬ শতাংশ ও খোলা ময়দার সাড়ে ১২ শতাংশ দাম বেড়েছে। চিনির দাম বেড়েছে ৭ শতাংশ।

উচ্চমূল্যে স্থির রয়েছে ডিম-মুরগির বাজার। গত মাসে ফার্মের মুরগির ডিমের ডজন ১২৫ থেকে ১৩০ টাকার মধ্যে ছিল। বর্তমানে তা কিনতে গুনতে হচ্ছে ১৫৫ থেকে ১৬০ টাকা। ব্রয়লার মুরগির কেজি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকা। সোনালি মুরগির দামও গত সপ্তাহের মতই ৩২০ টাকা থেকে ৩৪০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

গত মঙ্গল-বুধবার সবজির দাম কিছুটা বাড়লেও শুক্রবার আবার দাম কমে এসেছে। গত সপ্তাহের মত রয়েছে দাম। ঢেঁড়শ, পটল, কাকরোল, ঝিঙে ও জালি ৬০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, লাউ ও ধুন্দল ৮০ টাকা এবং পেঁপে ৩০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। লম্বা বেগুন এখনো ১০০ টাকার উপরে রয়েছে। তবে কারওয়ান বাজারে ৬০ থেকে ৭০ টাকার মধ্যে পাওয়া যাচ্ছে।

এছাড়া মোহাম্দপুর টাউনহল বাজারে কাঁচা মরিচ মানভেদে ৮০ থেকে ১২০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে। কারওয়ান বাজারে বিক্রি হচ্ছে কেজি ৬০ টাকা। শসার দাম কমে ৪০ থেকে ৫০ টাকায় নেমেছে। তবে বরবটি, টমেটো, গাজর এবং কাকরলের দাম বেশ চড়া।

সূএ ;বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন