শনিবার, ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

অনলাইন বেটিং ও অর্থপাচার চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার

অনলাইন বেটিং (জুয়া) পরিচালনা, অবৈধ অর্থ লেনদেন ও বিদেশে অর্থপাচারের অভিযোগে সংঘবদ্ধ চক্রের চার সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

সিআইডির সাইবার ইনভেস্টিগেশন অ্যান্ড অপারেশনস শাখা গত ২ সেপ্টেম্বর রাতে খুলনা জেলার খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় পৃথক অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—খুলনার যোগীপোল এলাকার মো. রাকিবুল ইসলাম (৩০), তেরখাদার শেখবাড়ি এলাকার আরিফুল ইসলাম আরজু (২৬), দৌলতপুরের শেখ সাকির আহম্মেদ এবং খালিশপুরের মিয়ানুল ইসলাম অয়ন (২৯)।

সিআইডি জানায়, সাইবার পুলিশ সেন্টারের (সিপিসি) সাইবার মনিটরিং সেলের নিয়মিত অনলাইন মনিটরিংয়ে দেশে ও বিদেশে অবস্থানকারী একটি সংঘবদ্ধ চক্রের অনলাইন বেটিং ও জুয়া পরিচালনার তথ্য পাওয়া যায়। চক্রটি বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে বেটিং সাইটের বিজ্ঞাপন প্রচার করে সাধারণ মানুষকে জুয়ায় আকৃষ্ট করত।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, এসব বেটিং সাইটে অংশ নিতে ব্যবহারকারীদের প্রথমে ‘টপ-আপ’ বা ডিপোজিট করতে হতো। এ জন্য বিভিন্ন মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিস (এমএফএস), ব্যাংক হিসাব ও ক্রিপ্টোকারেন্সি ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হতো। অর্থ জমা হওয়ার পর সংশ্লিষ্ট বেটিং অ্যাকাউন্টে সমপরিমাণ ই-মানি বা বেট মানি যুক্ত করা হতো।

তদন্তে আরও জানা যায়, অবৈধ লেনদেনে ব্যবহৃত এমএফএস এজেন্ট নম্বর ও ব্যাংক হিসাব নিয়মিত পরিবর্তন করা হতো। দেশের বিভিন্ন এলাকার এজেন্টদের কাছ থেকে এসব নম্বর ও হিসাব সংগ্রহ করে টেলিগ্রামসহ বিভিন্ন যোগাযোগমাধ্যমে বেটিং সাইট পরিচালনাকারীদের কাছে পাঠানো হতো। পরে এসব নম্বর ও হিসাব বেটিং সাইটে প্রদর্শন করা হলে ব্যবহারকারীরা সেখানে অর্থ লেনদেন করতেন।

সিআইডির তথ্য অনুযায়ী, সংগৃহীত অর্থ থেকে এজেন্টরা নির্দিষ্ট কমিশন রেখে বাকি অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবে স্থানান্তর করত। পরে বাইন্যান্সের মতো প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে অর্থ ক্রিপ্টোকারেন্সিতে রূপান্তর এবং বিদেশে পাচার করা হতো।

এ ঘটনায় সিআইডির পক্ষ থেকে পল্টন থানায় মামলা করা হয়। মামলাটি জুয়া প্রতিরোধ আইন, ২০২৬-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় দায়ের করা হয়েছে।

মামলার তদন্তে পাওয়া তথ্য ও গোয়েন্দা সংবাদের ভিত্তিতে চক্রের সদস্যদের অবস্থান শনাক্ত করে সিআইডি। এর ধারাবাহিকতায় ২ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৯টার দিকে খানজাহান আলী ও খালিশপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

সিআইডি জানায়, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা অনলাইন বেটিং ও অবৈধ অর্থপাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। পরে রিমান্ডের আবেদনসহ তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে।

মামলাটির তদন্ত অব্যাহত রয়েছে। তদন্তের মাধ্যমে চক্রের মূলহোতাসহ দেশি-বিদেশি অন্যান্য সদস্যকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন