শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ট্রাইব্যুনালে নাশকতার শঙ্কা, নিরাপত্তা জোরদার

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে নাশকতার আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। প্রভাবশালী আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছানো কিংবা কোনো মামলার রায় ঘোষণার অপেক্ষায় থাকলে নাশকতার চেষ্টা হতে পারে—এমন কিছু গোপন তথ্য প্রসিকিউশনের কাছে রয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এ আশঙ্কায় ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা আগের তুলনায় বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

তিনি বলেন, ‘আমাদের ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা আগের চেয়ে বৃদ্ধি করা হয়েছে। যখনই প্রভাবশালী আসামিদের বিরুদ্ধে বিচার প্রায় শেষ পর্যায়ে চলে যাচ্ছে অথবা রায় অপেক্ষমাণ আছে, ঠিক সেই মুহূর্তে এখানে স্যাবোটাজ (নাশকতা) করার একটা প্রক্রিয়া থাকতে পারে বলে আমাদের কাছে কিছু গোপন তথ্য আছে।’

চিফ প্রসিকিউটর জানান, ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা বাড়ানোর জন্য ইতোমধ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংশ্লিষ্ট সদস্যদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তারা বর্তমানে নিরাপত্তা কার্যক্রম তদারকি করছেন।

বিচার শেষ পর্যায়ে বাড়তি সতর্কতা

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে বর্তমানে গুরুত্বপূর্ণ মামলাগুলোর বিচার ও রায়সংক্রান্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। এসব মামলায় প্রভাবশালী আসামিদের বিরুদ্ধে বিচারিক কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে পৌঁছানোয় ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তাকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।

চিফ প্রসিকিউটরের বক্তব্য অনুযায়ী, বিচারপ্রক্রিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে কোনো ধরনের নাশকতা বা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে যেন বিচারিক কার্যক্রম ব্যাহত করা না যায়, সে জন্যই নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।

তিনি বলেন, নিরাপত্তা জোরদারের বিষয়টি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী দেখছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় ট্রাইব্যুনালের নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

গোপন তথ্যের ভিত্তিতে নজরদারি

চিফ প্রসিকিউটরের ভাষ্য, নাশকতার আশঙ্কার পেছনে কিছু গোপন তথ্য রয়েছে। তবে ওই তথ্যের বিস্তারিত বা সম্ভাব্য নাশকতার ধরন সম্পর্কে তিনি কিছু জানাননি।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে দেওয়া নির্দেশনার পাশাপাশি ট্রাইব্যুনালকেন্দ্রিক নিরাপত্তা ও নজরদারি কার্যক্রমও জোরদার করা হয়েছে। বিচারিক কার্যক্রম যাতে নির্বিঘ্নে চলতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করাই এখন নিরাপত্তা ব্যবস্থার অন্যতম লক্ষ্য।

চিফ প্রসিকিউটরের এ বক্তব্যের পর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি হয়েছে। তবে এখন পর্যন্ত কোনো নাশকতার ঘটনা ঘটেছে বা নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠী এর সঙ্গে জড়িত—এমন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন