শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

এআই জগতের ১০০ প্রভাবশালীর তালিকা প্রকাশ করল টাইম

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) খাতে বিশ্বজুড়ে প্রভাব বিস্তারকারী ১০০ ব্যক্তির তালিকা প্রকাশ করেছে মার্কিন সাময়িকী টাইম। ‘টাইম১০০ এআই ২০২৬’ নামে প্রকাশিত তালিকায় এআই খাতের শীর্ষস্থানীয় প্রতিষ্ঠানের নির্বাহীদের পাশাপাশি গবেষক, উদ্যোক্তা, নীতিনির্ধারক, শ্রম অধিকারকর্মী ও সৃজনশীল শিল্পের প্রতিনিধিদেরও স্থান দেওয়া হয়েছে।

বার্তা সংস্থা আনাদোলুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এটি টাইমের চতুর্থ বার্ষিক ‘টাইম১০০ এআই’ তালিকা। এআইয়ের দ্রুত বিকাশ এবং এর অর্থনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব নিয়ে বিশ্বজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা বাড়ার মধ্যে প্রযুক্তিটির উন্নয়ন ও ভবিষ্যৎ গতিপথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা ব্যক্তিদের এবারের তালিকায় তুলে ধরা হয়েছে।

টাইম ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তিকে চারটি বিভাগে ভাগ করেছে—লিডারস, ইনোভেটরস, শেপার্স ও থিংকার্স

লিডারস বিভাগে শীর্ষ প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ও নির্বাহীরা

লিডারস বিভাগে রয়েছেন ওপেনএআইয়ের প্রধান গবেষণা কর্মকর্তা মার্ক চেন, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা স্যাম অল্টম্যান ও প্রেসিডেন্ট গ্রেগ ব্রকম্যান। এ বিভাগে আরও রয়েছেন স্পেসএক্সের প্রধান নির্বাহী ইলন মাস্ক, অ্যানথ্রপিকের সহপ্রতিষ্ঠাতা দারিও আমোদেই ও ড্যানিয়েলা আমোদেই, আইবিএমের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী অরবিন্দ কৃষ্ণ, গুগল ডিপমাইন্ডের প্রধান এআই রেডিনেস কর্মকর্তা লিলা ইব্রাহিম এবং বাইটড্যান্সের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী লিয়াং রুবো।

এআই প্রযুক্তির দ্রুত সম্প্রসারণে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা অবকাঠামো খাতের শীর্ষ ব্যক্তিদেরও এ বিভাগে রাখা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রডকমের প্রধান নির্বাহী হক ট্যান, ওরাকলের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা ল্যারি এলিসন, কোরউইভের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মাইকেল ইন্ট্রাটর এবং এসএমআইসির কো-সিইও লিয়াং মং সং।

উদ্ভাবনে এগিয়ে যারা

এআইয়ের নতুন প্রয়োগ ও প্রযুক্তির নতুন পদ্ধতি নিয়ে কাজ করা ব্যক্তিদের রাখা হয়েছে ইনোভেটরস বিভাগে। এ তালিকায় রয়েছেন ওপেনএভিডেন্সের প্রতিষ্ঠাতা ড্যানিয়েল ন্যাডলার, কার্সরের প্রধান নির্বাহী মাইকেল ট্রুয়েল, মুনশট এআইয়ের প্রধান নির্বাহী ইয়াং ঝিলিন, ক্যালটেকের অধ্যাপক অ্যানিমা আনন্দকুমার এবং সেরিব্রাস সিস্টেমসের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী অ্যান্ড্রু ফেল্ডম্যান।

সৃজনশীল শিল্পে এআইয়ের ক্রমবর্ধমান প্রভাবও এবারের তালিকায় গুরুত্ব পেয়েছে। অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা বেন অ্যাফ্লেককে ইনোভেটরস বিভাগে রাখা হয়েছে। একই বিভাগে রয়েছেন সুনোর সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী মিকি শুলম্যান এবং তারতেলের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মুসা।

নীতিনির্ধারণ ও সামাজিক প্রভাব

এআইয়ের নীতিনির্ধারণ এবং সামাজিক প্রভাবের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের শেপার্স বিভাগে স্থান দেওয়া হয়েছে। এ বিভাগে রয়েছেন আন্তর্জাতিক টেলিযোগাযোগ ইউনিয়নের (আইটিইউ) মহাসচিব ডোরিন বোগদান-মার্টিন। বৈশ্বিক ডিজিটাল বৈষম্য মোকাবিলা এবং এআই উন্নয়নে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানো তার কাজের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ক্ষেত্র।

অভিনেতা ও চলচ্চিত্র নির্মাতা জোসেফ গর্ডন-লেভিটও শেপার্স বিভাগে স্থান পেয়েছেন। তিনি ‘ক্রিয়েটরস কোয়ালিশন অন এআই’-এর সহপ্রতিষ্ঠাতা। এআই কীভাবে তৈরি ও ব্যবহার হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে শিল্পী ও সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ বাড়ানোর পক্ষে তিনি কাজ করছেন। একই সঙ্গে সৃষ্টিশীল ব্যক্তিদের অধিকার সুরক্ষার বিষয়েও তিনি সোচ্চার।

টাইমের এবারের তালিকায় এআইকে শুধু প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনের ক্ষেত্র হিসেবে নয়, বরং অর্থনীতি, নীতিনির্ধারণ, সৃজনশীলতা ও সমাজে এর বহুমাত্রিক প্রভাবের দিকটিও গুরুত্ব দিয়ে তুলে ধরা হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন