শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে অনিয়মের অভিযোগ, আসিফ মাহমুদসহ ৪ জনের নথি তলব

যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিতে অনিয়ম এবং ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ অনুসন্ধানে সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াসহ চারজনের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। একই সঙ্গে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান ও বাতিল এবং পদায়নসংক্রান্ত নথিও চাওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) বিকেলে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন দুদক সচিব মো. সাইদুর রহমান খান। তিনি জানান, দুর্নীতির অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট নথিপত্র চেয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠানো হয়েছে।

দুদকের উপপরিচালক ও অনুসন্ধান কর্মকর্তা মো. জাহিদ কালাম স্বাক্ষরিত ওই চিঠিতে আগামী ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রয়োজনীয় নথিপত্র সরবরাহ করতে বলা হয়েছে।

দুদক সচিব বলেন, ‘এটি অনুসন্ধান পর্যায়ে আছে। অনুসন্ধানের জন্য বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি পাঠানো হয়েছে।’

দুদকের চিঠিতে বলা হয়েছে, সাবেক উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের তৎকালীন সচিব মো. মাহবুব-উল-আলম, যুগ্মসচিব শেখ মোহাম্মদ জোবায়েদ হোসেন এবং উপসচিব মো. মাসুম আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ অনুসন্ধানে চার সদস্যের একটি দল গঠন করা হয়েছে।

অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে মন্ত্রণালয়ের কাছে বিভিন্ন ধরনের তথ্য ও নথি চেয়েছে দুদক। এর মধ্যে রয়েছে আসিফ মাহমুদের দায়িত্ব পালনকালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিয়োগ, পদোন্নতি ও বদলিসংক্রান্ত তথ্য এবং সংশ্লিষ্ট রেকর্ডপত্র।

এ ছাড়া জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২০২৫ সালের ৭ মে ও ২০২৬ সালের ১৮ এপ্রিলের স্মারকের ভিত্তিতে বদলিসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপিও চাওয়া হয়েছে।

দুদকের চিঠিতে তিনটি স্মারকের ভিত্তিতে ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব প্রদান ও বাতিল এবং পদায়নসংক্রান্ত নথির সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের অধীন মাঠপর্যায়ের কয়েকজন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার ব্যক্তিগত নথির সত্যায়িত অনুলিপিও চেয়েছে অনুসন্ধান দল।

দুদকের চাওয়া নথির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট বিধিবিধান ও সহায়ক রেকর্ডপত্রও পাঠাতে বলা হয়েছে।

দুদকের অনুসন্ধানের আওতায় থাকা অভিযোগের মধ্যে রয়েছে উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা ও সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তাদের পদোন্নতি ও বদলির ক্ষেত্রে ঘুষ গ্রহণ এবং একটি সিন্ডিকেটের মাধ্যমে দরপত্র ও কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ।

দুদকের ভাষ্য অনুযায়ী, ৩৮ জন উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার চলতি দায়িত্ব বাতিল ও পদায়নের জন্য ৭৬ লাখ টাকা, ১৫০ জন সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তার পদোন্নতির জন্য ১ কোটি ৫ লাখ টাকা এবং পদোন্নতির পর পছন্দমতো পদায়নের জন্য আরও প্রায় ২ কোটি টাকা ঘুষ নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

এর আগে গত বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগে আসিফ মাহমুদসহ চারজনের বিরুদ্ধে অনুসন্ধান শুরুর কথা জানায় দুদক।

তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের ‘প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ার’ বিষয়ে দুদকের বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন আসিফ মাহমুদ। বুধবার রাতে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ওই বক্তব্য প্রত্যাহার না করলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন।

দুদকের অনুসন্ধান এখনো চলমান। চাওয়া নথিপত্র পর্যালোচনা ও পরবর্তী অনুসন্ধানের ভিত্তিতে অভিযোগগুলোর বিষয়ে সংস্থাটি পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন