বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল ট্রাম্প প্রশাসন

বাংলাদেশসহ ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা দেওয়ার ওপর জানুয়ারিতে আরোপ করা স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির একটি ফেডারেল আদালতের আদেশের পর ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, গত ২১ আগস্ট ২০২৬ থেকে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদানের ওপর আরোপিত স্থগিতাদেশ আর কার্যকর নেই। ফলে এখন থেকে এসব দেশের নাগরিকরা নিয়ম অনুযায়ী অভিবাসী ভিসার আবেদন ও সংশ্লিষ্ট প্রক্রিয়ায় অংশ নিতে পারবেন।

এর আগে চলতি বছরের ২১ জানুয়ারি থেকে স্থগিতাদেশটি কার্যকর করা হয়েছিল। এর আওতায় বাংলাদেশ ছাড়াও ভুটান, নেপাল ও পাকিস্তানসহ মোট ৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত করা হয়।

কেন স্থগিত করা হয়েছিল

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, অভিবাসী ভিসা যাচাই-বাছাইয়ের নীতিমালা পর্যালোচনার অংশ হিসেবে ওই স্থগিতাদেশ কার্যকর করা হয়েছিল। এর মূল লক্ষ্য ছিল—যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসী হিসেবে প্রবেশের পর সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা যেন নিজেদের আর্থিকভাবে স্বনির্ভর রাখতে পারেন এবং সরকারি সহায়তা বা কল্যাণমূলক সুবিধার ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল না হন, তা নিশ্চিত করা।

তবে স্থগিতাদেশ কার্যকর থাকলেও সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর নাগরিকদের ভিসা আবেদন জমা দেওয়া কিংবা নির্ধারিত সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার সুযোগ ছিল।

এখন স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার হওয়ায় আবেদনকারীরা প্রচলিত নিয়ম ও যোগ্যতা অনুযায়ী অভিবাসী ভিসার আবেদন করতে পারবেন এবং সংশ্লিষ্ট মার্কিন দূতাবাস বা কনস্যুলেটের মাধ্যমে আবেদনপ্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে পারবেন।

আদালতের আদেশে নীতিটি বাতিল

৭৫টি দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা প্রদান স্থগিত রাখার ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি বাতিল করে গত ২১ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটান ডিস্ট্রিক্ট আদালত রায় দেন।

রায়ে বিচারক জ্যানেট ভার্গাস বলেন, জানুয়ারিতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর অভিবাসী ভিসা আবেদনসংক্রান্ত যে নীতি ঘোষণা করেছিল, সেটি স্পষ্টতই বেআইনি এবং কেন্দ্রীয় অভিবাসন আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।

আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, বিদ্যমান আইনে অভিবাসী ভিসার আবেদনপ্রক্রিয়ায় কনস্যুলার কর্মকর্তাদের ওপর পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ক্ষমতার নির্দিষ্ট সীমা রয়েছে। বিচারক মনে করেন, তৎকালীন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওই নীতি গ্রহণের ক্ষেত্রে তাঁর আইনগত এখতিয়ারের সীমা অতিক্রম করেছিলেন।

বিচারক ভার্গাস তাঁর রায়ে জাতীয়তার ভিত্তিতে ঢালাওভাবে অভিবাসী ভিসা প্রদান বন্ধ করার নীতিকে প্রচলিত আইনি কাঠামোর সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ হিসেবে উল্লেখ করেন।

যুক্তরাষ্ট্রের যুক্তি কী ছিল

অভিবাসী ভিসা স্থগিতের পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর বলেছিল, তালিকাভুক্ত ৭৫টি দেশের নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে সরকারি সহায়তা ও বিভিন্ন কল্যাণমূলক সুবিধার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। স্থানীয়, অঙ্গরাজ্য ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার ওপর তাঁদের নির্ভরশীলতার আশঙ্কার কথাও উল্লেখ করা হয়েছিল।

তবে আদালত ওই নীতির বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তা বাতিলের নির্দেশ দেন। আদালতের আদেশের পরই ২১ আগস্ট থেকে স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে মার্কিন প্রশাসন।

স্থগিতাদেশের আওতায় থাকা দেশগুলো

আফগানিস্তান, আলবেনিয়া, আলজেরিয়া, অ্যান্টিগুয়া ও বারবুডা, আর্মেনিয়া, আজারবাইজান, বাহামাস, বাংলাদেশ, বার্বাডোস, বেলারুশ, বেলিজ, ভুটান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, ব্রাজিল, মিয়ানমার, কম্বোডিয়া, ক্যামেরুন, কেপ ভার্দে, কলম্বিয়া, আইভরি কোস্ট, কিউবা, কঙ্গো গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র, ডোমিনিকা, মিসর, ইরিত্রিয়া, ইথিওপিয়া, ফিজি, গাম্বিয়া, জর্জিয়া, ঘানা, গ্রেনাডা, গুয়াতেমালা, গিনি, হাইতি, ইরান, ইরাক, জ্যামাইকা, জর্ডান, কাজাখস্তান, কসোভো, কুয়েত, কিরগিজস্তান, লাওস ও লেবানন।

এ ছাড়া তালিকায় ছিল লাইবেরিয়া, লিবিয়া, মলদোভা, মঙ্গোলিয়া, মন্টেনেগ্রো, মরক্কো, নেপাল, নিকারাগুয়া, নাইজেরিয়া, উত্তর মেসেডোনিয়া, পাকিস্তান, কঙ্গো প্রজাতন্ত্র, রাশিয়া, রুয়ান্ডা, সেন্ট কিটস অ্যান্ড নেভিস, সেন্ট লুসিয়া, সেন্ট ভিনসেন্ট অ্যান্ড দ্য গ্রেনাডিনস, সেনেগাল, সিয়েরা লিওন, সোমালিয়া, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া, তানজানিয়া, থাইল্যান্ড, টোগো, তিউনিসিয়া, উগান্ডা, উরুগুয়ে, উজবেকিস্তান ও ইয়েমেন।

স্থগিতাদেশ প্রত্যাহারের ফলে এসব দেশের নাগরিকদের অভিবাসী ভিসা আবেদন এখন আবার স্বাভাবিক নিয়মে প্রক্রিয়াকরণের সুযোগ তৈরি হয়েছে। তবে ভিসা অনুমোদনের ক্ষেত্রে আবেদনকারীর যোগ্যতা, কাগজপত্র, সাক্ষাৎকার ও মার্কিন অভিবাসন আইনের অন্যান্য শর্ত পূরণ করতে হবে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন