বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

পাতায়ায় ভিড়বে মার্কিন রণতরী, যৌনকর্মীদের ঠেকাতে পুলিশের অভিযান

টানা ২০০ দিনের বেশি সময় সমুদ্রে কাটানোর পর বুধবার থাইল্যান্ডের পর্যটন শহর পাতায়ায় নোঙর করতে যাচ্ছে ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্যবাহী মার্কিন রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’।

তাদের আগমনকে কেন্দ্র করে স্থানীয় অর্থনীতি চাঙ্গা হওয়ার আশা তৈরি হলেও যৌনকর্মীদের ঠেকাতে আগেভাগেই কঠোর অবস্থানে গেছে স্থানীয় প্রশাসন।

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইনডিপেনডেন্ট এক প্রতিবেদনে লিখেছে, রণতরীটি পৌঁছানোর আগেই পাতায়ার প্রধান সৈকত এবং রাতের বিনোদনকেন্দ্রগুলোতে অতিরিক্ত টহল শুরু করেছে পুলিশ। যৌনকর্মী সন্দেহে গত রোববার ৪০ থেকে ৫০ জনকে আটকও করা হয়েছে।

দুটি সহযোগী নৌযানের সঙ্গে লেম চাবাং বন্দরে নোঙর করবে ‘আব্রাহাম লিংকন’। টানা ২০০ দিন সাগরে কাটানোর পর সেখানে বিশ্রাম ও বিনোদনের সুযোগ পাবেন নাবিকরা।

পাতায়া পুলিশের প্রধান আনেক স্রাথংয়ু সোমবার বলেন, “আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি, তবে বিষয়টি সত্যিই কঠিন।”

তিনি বলেন, যৌনকর্মীরা প্রশাসনের অগোচরে পাবলিক প্লেসগুলোতে খদ্দের সংগ্রহ করতে পারে।

থাইল্যান্ডের আইনে যৌনপেশা নিষিদ্ধ হলেও ব্যাংকক ও পাতায়ার মতো প্রধান পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে যৌনকর্মীদের প্রকাশ্য উপস্থিতি রয়েছে।

ইনডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন গত নভেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রের সান দিয়েগো বন্দর থেকে যাত্রা করে। পরে ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধের সময় সামরিক অভিযানে সহায়তার জন্য এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হয়।

টানা সমুদ্রে থাকার ক্ষেত্রে জাহাজটি আধুনিক সময়ের একটি রেকর্ড তৈরি করেছে। তবে দীর্ঘ এই যাত্রায় জাহাজটির নাবিকদের মানসিক স্বাস্থ্য ও জাহাজে জীবনযাপনের পরিবেশ নিয়েও উদ্বেগের খবর এসেছে।

চলতি মাসে সামরিক বিষয়ক দুটি সংবাদমাধ্যম জাহাজটিতে আত্মহত্যার চেষ্টা এবং নাবিকদের মনোবল কমে যাওয়ার খবর প্রকাশ করেছে।

পতায়া একসময় ছিল একটি মাছ ধরার গ্রাম। ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় সেখানে বিশ্রাম ও বিনোদনের জন্য আসা মার্কিন সেনাদের কেন্দ্র করে এলাকাটি ধীরে ধীরে পর্যটনকেন্দ্রে পরিণত হয়।

এবারও মার্কিন সামরিক বাহিনীর সদস্যদের আগমন স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করছেন কর্মকর্তারা।

পতায়ার মেয়র পরামাস এনগামপিচেসের হিসাবে, প্রতিটি মার্কিন সামরিক সদস্য প্রতিদিন ১ হাজার থেকে ৩ হাজার থাই বাত (বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৩ হাজার ৬০০ থেকে ১০ হাজার ৮০০ টাকা) খরচ করতে পারেন। তারা কতক্ষণ তীরে থাকছেন এবং রাতে সেখানে অবস্থান করছেন কি না, তার ওপর ব্যয়ের পরিমাণ নির্ভর করবে।

তবে সবাই একসঙ্গে জাহাজ থেকে নামবেন না। সাধারণত নৌসদস্যদের তীরে যাওয়ার সময় ধাপে ধাপে নির্ধারণ করা হয়।

তাদের এই সফর স্বল্প মেয়াদে পতায়ার অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে সহায়তা করবে বলে আশা করছেন মেয়র পরামাস এনগামপিচেস।

ইনডিপেনডেন্ট লিখেছে, মার্কিন নৌসদস্যদের ব্যয়ের একটি অংশ পতায়ার বিতর্কিত বিনোদন খাতেও যেতে পারে। শহরটিতে যৌনপেশা এতটাই বিস্তৃত যে এক দশক আগে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা এফবিআই একে বিশ্বের অন্যতম প্রধান যৌন পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে বর্ণনা করেছিল।

ব্যাংকক ইউনিভার্সিটির স্কুল অব হিউম্যানিটিজ অ্যান্ড ট্যুরিজম ম্যানেজমেন্টের সহযোগী অধ্যাপক পিপাটপং ফাকফারে বলেন, বিপুলসংখ্যক নতুন গ্রাহকের আগমন যৌনবাহিত রোগ ছড়িয়ে পড়ার সম্ভাবনাও বাড়াতে পারে।

জাহাজের নাবিকদের মধ্যে মানসিক চাপ ও আত্মহত্যার চেষ্টার খবরের দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এটাও উদ্বেগের আরেকটি কারণ।

চোনবুরি ট্যুরিজম ফেডারেশনের সভাপতি থানেত সুপোর্নসাহাসরুংসির মতে, পতায়ায় মার্কিন নৌসদস্যদের সামগ্রিক অর্থনৈতিক প্রভাব নির্ভর করবে তারা কোথায় সময় কাটাচ্ছেন তার ওপর। তাদের কেউ কেউ রাজধানী ব্যাংককে চলে যেতে পারেন।

পতায়ার নাইটলাইফ বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি লিসা হ্যামিলটন বলেন, “যখন শুনলাম মার্কিন নৌবাহিনীর একটি যুদ্ধজাহাজ পতায়ায় ভিড়বে, তখন এটি আমাদের জন্য আশার কারণ হয়ে উঠেছে।”

তিনি বলেন, “আমি ২০ বছরের বেশি সময় ধরে পতায়ায় বসবাস করছি, কিন্তু এ বছরের মত ধীরগতির কোনো বছর আমি দেখিনি।”


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন