বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দুর্গম সীমান্তে নজরদারি সহজ করবে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

দুর্গম ও বনাঞ্চলবেষ্টিত এলাকাসহ দেশের সামগ্রিক সীমান্ত ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ও নজরদারি আরও কার্যকর ও সহজ করতে আধুনিক ড্রোন প্রযুক্তি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে সিলেটে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সেক্টর সদর দপ্তরে ‘সীমান্ত স্কুল অব সার্ভেইল্যান্স অ্যান্ড ড্রোন ওয়ারফেয়ার’ (SSSDW) উদ্বোধন শেষে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এ কথা বলেন।

এর আগে প্রধান অতিথি হিসেবে নামফলক উন্মোচনের মাধ্যমে বিশেষায়িত এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের উদ্বোধন করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সীমান্তের দুর্গম ও বনাঞ্চলবেষ্টিত অনেক এলাকায় সরাসরি জনবল মোতায়েন করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ও নজরদারি নিশ্চিত করা কঠিন। এসব এলাকায় নাইট ভিশন ও থার্মাল প্রযুক্তিসম্পন্ন ড্রোন ব্যবহার করে আধুনিক ডিজিটাল সার্ভেইল্যান্স পরিচালনা করা হবে।

তিনি বলেন, থার্মাল প্রযুক্তির ব্যবহারের ফলে রাতের অন্ধকারেও সীমান্তের ওপারের বিভিন্ন তৎপরতা পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে। পাশাপাশি চোরাচালান, মাদক ও অবৈধ অস্ত্র পরিবহনের সম্ভাব্য রুট শনাক্ত করে তা প্রতিরোধেও ড্রোন প্রযুক্তি কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

সীমান্ত নিরাপত্তার পাশাপাশি প্রাকৃতিক ও মানবিক দুর্যোগ মোকাবিলাতেও ড্রোনের প্রযুক্তিগত সক্ষমতা কাজে লাগানো হচ্ছে বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি বলেন, সম্প্রতি পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম এলাকায় উদ্ধার অভিযান পরিচালনা এবং দুর্গম স্থানে ত্রাণসামগ্রী পৌঁছে দিতে বিজিবি সদস্যরা সফলভাবে ড্রোন ব্যবহার করেছেন।

বর্তমানে SSSDW-তে বিজিবি সদস্যদের সীমান্ত নজরদারি ও ড্রোন ওয়ারফেয়ার বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে জানিয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভবিষ্যতে বেসামরিক জনবলকেও আধুনিক প্রযুক্তি ও ড্রোন পরিচালনায় দক্ষ করে তুলতে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।

আগামী এক থেকে দুই বছরের মধ্যে বিশ্বের সর্বাধুনিক ড্রোন প্রযুক্তিগুলো এই প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর মাধ্যমে দেশের সামগ্রিক নিরাপত্তা ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

মাদক মামলা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনকে যুগোপযোগী করা হয়েছে। একই সঙ্গে জেলা পর্যায়ে ল্যাব, হাজতখানা, ডগ স্কোয়াড ও আধুনিক অস্ত্রের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সক্ষমতা বাড়ানো হচ্ছে।

আইনি প্রক্রিয়ায় বাধা সৃষ্টি করতে ‘মব’ বা সংঘবদ্ধ জনতার মাধ্যমে যেকোনো ধরনের অপচেষ্টা প্রচলিত আইনের আওতায় কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হবে বলেও জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বিজিবির মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মোহাম্মদ আশরাফুজ্জামান সিদ্দিকী। স্বাগত বক্তব্য দেন বিজিবির সিলেট সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার কর্নেল মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দীন।

উদ্বোধনের আগে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে SSSDW-এর বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ কার্যক্রম ও সার্বিক পরিকল্পনা সম্পর্কে বিস্তারিত ব্রিফিং দেওয়া হয়। উদ্বোধনের পর তিনি ড্রোন স্কুল কমপ্লেক্স ও ডিসপ্লে সেন্টার পরিদর্শন করেন। পরে বিজিবির পরিচালনায় একটি বাস্তবভিত্তিক অপারেশনাল মহড়া ও ডাইনামিক ড্রোন ডিসপ্লে প্রত্যক্ষ করেন।

অনুষ্ঠানে বিজিবি সদর দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন সামরিক ও বেসামরিক কর্মকর্তা এবং বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়, বাংলাদেশের সীমান্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক, তথ্যনির্ভর ও প্রযুক্তিসক্ষম করার লক্ষ্যেই SSSDW প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। বিশেষায়িত এ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের কার্যক্রমের মাধ্যমে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তে আধুনিক আকাশভিত্তিক প্রযুক্তির ব্যবহার আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন