বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬

গণতন্ত্র ও জনকল্যাণভিত্তিক ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার আহ্বান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা, বৈষম্যহীন ও সাম্যভিত্তিক সমাজ গঠন এবং স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদের পুনরাবৃত্তি রোধে সুদৃঢ় সাংবিধানিক কাঠামো গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেছেন, জনগণের অধিকার, গণতন্ত্র ও সামাজিক ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে একটি আধুনিক, মানবিক ও জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সময়ের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে সিলেট জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে সিলেট জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি ও সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরীর সভাপতিত্বে সভাটি পরিচালনা করেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তা ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টামণ্ডলীর সদস্য এবং বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরলেন সালাহউদ্দিন

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের আদর্শ ও দর্শনে অনুপ্রাণিত হয়ে ছাত্রজীবনে জাতীয়তাবাদী রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া তাঁর জীবনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত।

বিএনপির রাজনৈতিক ইতিহাস তুলে ধরে তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ, পরবর্তী রাজনৈতিক পরিবর্তন, বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বিভিন্ন সময়ে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বিএনপির ভূমিকা দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। বিএনপির ঘোষিত ১৯ দফা কর্মসূচির মূল লক্ষ্য ছিল মানুষের জীবনমানের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা ও সামাজিক সমৃদ্ধি অর্জন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নব্বইয়ের দশকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এবং পরবর্তীতে সংসদীয় গণতন্ত্র ও তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা চালুর মধ্য দিয়ে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছিল। নারীশিক্ষার প্রসার, যুবকদের কর্মসংস্থান এবং বিভিন্ন সামাজিক সংস্কারেও বিএনপির অবদানের কথা তিনি উল্লেখ করেন।

গণ-অভ্যুত্থানের পর নতুন রাষ্ট্রকাঠামোর কথা

সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ১/১১-পরবর্তী সময়ে দেশের গণতন্ত্র সংকটের মুখে পড়ে এবং পরবর্তী সময়ে তা ফ্যাসিবাদী শাসনের রূপ নেয় বলে তিনি মনে করেন। দেশের ছাত্র-জনতা ও মুক্তিযোদ্ধাদের আন্দোলন ও আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশকে স্বৈরাচারমুক্ত করার দাবি করেন তিনি।

বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, তার ভিত্তিতে আধুনিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান তিনি।

সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, ভবিষ্যতে যাতে কোনো সামরিক স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ বা অন্য কোনো অপশক্তির উত্থান ঘটতে না পারে, সে জন্য রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক কাঠামোর প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ চলছে।

সামাজিক সুরক্ষায় নতুন উদ্যোগ

সরকারের বিভিন্ন পরিকল্পনা তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঘোষিত ‘আই হ্যাভ এ প্ল্যান’-এর আওতায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ডসহ নাগরিকদের সামাজিক সুরক্ষা নিশ্চিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া ইমাম, মুয়াজ্জিন, বিভিন্ন ধর্মের পুরোহিত এবং উপাসনালয়ের দায়িত্বশীলদের রাষ্ট্রীয় সম্মাননা ও ভাতা প্রদানের মাধ্যমে সামাজিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করার উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তিনি বলেন, বৈষম্যহীন, সাম্যভিত্তিক ও মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

বক্তব্যে বিএনপির দীর্ঘ রাজনৈতিক পথচলাকে আন্দোলন, সংগ্রাম, অর্জন ও উন্নয়নের ইতিহাস হিসেবে উল্লেখ করে দলটির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীতে দেশবাসী এবং সিলেট জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মীদের শুভেচ্ছা জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

তিনি দেশের নাগরিকদের ঐক্যবদ্ধভাবে গণতন্ত্রের চর্চা, সামাজিক বৈষম্য দূরীকরণ এবং জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় নিজ নিজ অবস্থান থেকে ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।

অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব বাণিজ্যমন্ত্রীর

অনুষ্ঠানে প্রধান বক্তার বক্তব্যে বাণিজ্য, শিল্প, পাট ও বস্ত্রমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার উন্নয়ন ও উৎপাদনমুখী রাজনীতির ধারাবাহিকতায় দেশকে অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সর্বোচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে সরকার কাজ করছে।

তিনি বলেন, ৪৮ বছর আগে একটি সংকটময় সময়ে দেশপ্রেমিক নেতৃত্বের প্রত্যয় নিয়ে বিএনপির যাত্রা শুরু হয়েছিল। কৃষি, শিল্প, খাদ্য উৎপাদন ও পররাষ্ট্রনীতিসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে জিয়াউর রহমানের নেওয়া উদ্যোগ দেশের অর্থনৈতিক ভিত্তি শক্তিশালী করতে ভূমিকা রেখেছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।

বর্তমান সরকারের অগ্রাধিকার সম্পর্কে তিনি বলেন, দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করাই এখন প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও অর্থনীতিসহ বিভিন্ন খাতের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকার কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মোহাম্মদ আব্দুল মালিক এমপি ও ড. এনামুল হক চৌধুরী, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ সিদ্দিকী, সহ-ক্ষুদ্র ঋণ বিষয়ক সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রাজ্জাক, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ডা. শাহরিয়ার হোসেন চৌধুরী ও আবুল কাহের চৌধুরীসহ দলটির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন