অনুসরণ করুন:
মঙ্গলবার, ৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

ইলিশ বিক্রির নামে অনলাইন প্রতারণা, নড়াইলে গ্রেফতার আরও ৪

চাঁদপুরে ইলিশ মাছসহ বিভিন্ন পণ্য বিক্রির নামে অনলাইন প্রতারণার অভিযোগে সক্রিয় একটি চক্রের আরও চার সদস্যকে গ্রেফতার করেছে জেলা পুলিশ। এ সময় তাদের কাছ থেকে ১০টি মোবাইল ফোন, ৪৬টি সিম কার্ড—এর মধ্যে দুটি ভারতীয় সিম—এবং নগদ ৭৫ হাজার টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) চাঁদপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

পুলিশ জানায়, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে প্রতারণা করে আসছিল। তারা ফেসবুক থেকে বিভিন্ন পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের ছবি-ভিডিও সংগ্রহ করে এডিটের মাধ্যমে ভুয়া ফেসবুক পেজ ও হোয়াটসঅ্যাপ আইডি তৈরি করত। পরে ইলিশ মাছ, ফার্নিচার, কলম, জুতা, বেবি টয় এবং অনলাইন চাকরির মতো বিভিন্ন পণ্য ও সেবার আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন তৈরি করে বুস্ট পোস্টের মাধ্যমে প্রচার চালাত।

ক্রেতাদের আস্থা অর্জনের জন্য চক্রের সদস্যরা অন্যের নামে নিবন্ধিত সিম ব্যবহার করত। মেসেঞ্জার, হোয়াটসঅ্যাপ, ইমো ও অডিও কলের মাধ্যমে নাহিদ, জাবেদ, সনি মিয়া, হাজী আব্দুল কাদের ও সাকিবসহ বিভিন্ন ভুয়া পরিচয়ে নিজেদের ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দিত।

প্রতারণাকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে তারা ভুয়া ঠিকানা, জাতীয় পরিচয়পত্র ও ট্রেড লাইসেন্স তৈরি করে গ্রাহকদের দেখাত। এমনকি নকল ভাউচারও তৈরি করত। গ্রাহকদের কাছ থেকে পণ্যের মূল্য বাবদ টাকা নেওয়ার পর পণ্য সরবরাহ না করে অর্থ আত্মসাৎ করাই ছিল তাদের মূল উদ্দেশ্য।

পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় চাঁদপুর মডেল থানায় সাইবার সুরক্ষা আইন, ২০২৬ এবং দণ্ডবিধির ৪০৬ ও ৪২০ ধারায় পৃথক দুটি মামলা করা হয়েছে। মামলা দুটির তদন্তে চাঁদপুর জেলা পুলিশের এলআইসি শাখা ও ডিবি তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রতারক চক্রের সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।

এরপর নড়াইল জেলার কালিয়া থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজনকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—ফুরকান ওরফে ফুরকান শেখ (২৫), চান মিয়া ওরফে চান্দু শেখ (২৫), রাতুল হোসেন নবেল (২৫) এবং শহিদুল শেখ (২৩)। তাদের সবার বাড়ি নড়াইল জেলার কালিয়া থানাধীন এলাকায়।

পুলিশ আরও জানায়, একই ঘটনায় এর আগে আরও দুজনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল। সর্বশেষ চারজনসহ এ মামলায় এখন পর্যন্ত মোট ছয়জনকে গ্রেফতার করে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।

মামলাগুলো সর্বোচ্চ গুরুত্ব ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে চাঁদপুর জেলা পুলিশ। অনলাইনভিত্তিক প্রতারণা প্রতিরোধে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও জানানো হয়েছে।


এই বিভাগের আরও খবর

আরও পড়ুন