সীমান্তে মাদক ও চোরাচালান দমনে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) এবং র্যাবের সমন্বিত অভিযানে টেকনাফ থেকে বিপুল পরিমাণ ইয়াবা ও দুই মাদক পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (১ নভেম্বর) সকাল ১০টা ৩০ মিনিট থেকে শুরু হয়ে বিকেল পর্যন্ত টেকনাফ পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড় হাবিরপাড়া এলাকায় এ অভিযান পরিচালিত হয়।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায়, মিয়ানমার থেকে একটি বড় ইয়াবা চালান এনে পাচারচক্র স্থানীয় বাসিন্দা মো. শাকেরের বাড়িতে লুকিয়ে রেখেছে। এরপর টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) ও র্যাব–১৫ সিপিসি–০১-এর সদস্যরা যৌথভাবে ওই বাড়ি ও আশপাশের এলাকা ঘিরে ফেলে সাত ঘণ্টাব্যাপী অভিযান চালান।
তল্লাশিতে সুপারি বাগানসংলগ্ন টয়লেটের ভেতর অভিনব কৌশলে লুকানো ২০,০০০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়। এ সময় মো. শাকের (৪০) ও তার সহযোগী মো. জাকির (৩৫)-কে ঘটনাস্থল থেকে আটক করা হয়। অভিযানের সময় চক্রের আরও ২–৩ জন সদস্য পালিয়ে যায় বলে জানায় বিজিবি।
আটকদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তারা স্বীকার করেছে যে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্তপথে মাদক পাচারের সঙ্গে জড়িত এবং মিয়ানমারে অবস্থানরত সরবরাহকারীদের কাছ থেকে ইয়াবা এনে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ছড়িয়ে দিত।
উদ্ধারকৃত ইয়াবা ও আটক দুই আসামিকে স্থানীয় থানায় সোপর্দ করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।
জব্দ আলামত:
- ইয়াবা ট্যাবলেট: ২০,০০০ পিস
- মোবাইল ফোন: ২টি
অভিযান শেষে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আশিকুর রহমান, পিএসসি বলেন,
“আজকের বিজিবি ও র্যাবের যৌথ অভিযান প্রমাণ করে, মাদকের ভয়াল ছোবল থেকে দেশের যুবসমাজকে রক্ষায় আমরা অঙ্গীকারবদ্ধ। দেশের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সুরক্ষায় ‘জিরো টলারেন্স’ নীতিতে কোনো ছাড় নেই।”
তিনি আরও জানান, সীমান্তের প্রতিটি ইঞ্চি রক্ষায় এবং মাদক প্রবাহ রোধে ২ বিজিবির অভিযান আরও জোরদার করা হবে।

